ঘন ঘন প্রেমে পড়েন তসলিমা নাসরিন!

ঘন ঘন প্রেমে পড়েন তসলিমা নাসরিন!

ডেস্ক রিপোর্ট
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

২৫ আগস্ট নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিনের জন্মদিন। ১৯৬২ সালে তার জন্ম। জন্মদিনে কথা বলেছেন তার লেখক জীবন, ব্যক্তিগত জীবন ও পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি তো ঘন ঘন প্রেমে পড়ি। তবে ভুল মানুষের। কিছুদিন পর বুঝতে পারি নির্বাচন ভুল হয়েছে।

‘আসলে ভালো লাগলে অনেক কিছু আবার প্রথম দিকে চোখেও পড়ে না। ধীরে ধীরে বুঝি। তাই বলে হৃদয়ের দরজা বন্ধ করি না’, জানালেন এই লেখক।

তিনি কথা বলেছেন হুমকি পাওয়ার বিষয় নিয়ে। তসলিমা বলেন, গত ৩০ বছর ধরে প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছি। এগুলো নিয়েই তো বেঁচে আছি। তবে ভয় যে পাই না, তা নয়। এখন কথা হচ্ছে, ভয় পেয়ে গুটিয়ে থেকে স্বাভাবিক জীবনযাপন, লেখালিখি বন্ধ করে দেয়ার তো কোনো মানে হয় না। ভয়ে লেখা বন্ধ করে দেওয়া মানে তো মৃত্যুরই সমান। তাই সতর্ক থাকি। সাবধানে থাকার চেষ্টা করি।

ফেসবুকে তার লেখা, ‘ভালো স্তন না হলে খোলামেলা পোশাক পরা অনুচিত’ এ বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এটি একেবারেই ‘বডি শেমিং’ নয়। শুধুমাত্র আমার মত। আমি রূপ আর সৌন্দর্যের চেয়ে মস্তিষ্ককে সারাজীবন বেশি গুরুত্ব দিয়ে এসেছি। মেয়েদের কেন সাজতে হবে? চিরকালই আমি এর বিরোধিতা করে এসেছি। পাশাপাশি আবার এটাও মনে হয়েছে, মেয়েদেরই তো সাজ-পোশাক, প্রসাধনীতে এত বৈচিত্র্য আছে। ফলে কারও যদি ইচ্ছা এবং সামর্থ্য— দুই-ই থাকে, তিনি নিজেকে মনের মতো করে সাজাতেই পারেন।

তবে নিজে খুব বেশি সাজগোজ করেন না বলেই জানালেন নির্বাসিত এই লেখক। তিনি বলেন, আমি খুব বেশি সাজগোজ করি না। ঘরে যা পরে থাকি, সেটি পরেই বেরিয়ে যাই। তবে শাড়ি পরলে সে দিন হয়তো হালকা করে একটু কাজল লাগালাম। একটা টিপ পরলাম। আসল কথা হলো, আমি সাজগোজ করতে পারি না। কী করে সাজতে হয় তা-ও জানা নেই।

জন্মদিন উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, জন্মদিন নিয়ে এখন আর আগে থেকে কিছু ভাবি না। একটা সময় একুশ পদে রান্না করতাম। সবাই আসত। আপ্যায়ন করতাম। এ বার আমি ভেবেছি, কিছুই করব না। কাউকে নিমন্ত্রণও করিনি। কলকাতা থেকে কয়েকজন বন্ধুর আসার কথা। তাদের নিয়ে হয়তো রাতে রেস্তরাঁয় খেতে যাব।

অবসর সময় কীভাবে কাটে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিজেকে নিজে সঙ্গ দিয়ে। তবে একেবারে একা নই। মিনু (১৯ বছর বয়সি পোষ্য বিড়াল) আছে। মাঝেমাঝে একা খেতে চলে যাই। আমি একা থাকাতে অভ্যস্ত। খারাপ লাগে না।

নির্বাসন তুলে নিলে তিনি কলকাতা ফিরতে চান বলে জানিয়েছেন। তসলিমা বলেন, সবার আগে কলকাতায় যাব। কলকাতা আমার প্রিয় শহর। বাংলাদেশ এখনও আমার জন্য নিরাপদ নয়। পশ্চিমবঙ্গ আমার জন্য সুরক্ষিত বলে মনে করি। কলকাতা থেকে আমাকে বিতাড়িত করা হয়েছিল রাজনৈতিক কারণে। তবে আমি জানি, এ জীবনে বয়কট তুলে নেয়া হবে না।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!