‘নাটকবাজি করে নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখা যায় না’, এমপি কমলকে বললো রামু উপজেলা আ.লীগ

‘মিথ্যা নাটকবাজি করে বেশি দিন নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখা যায় না’, এমপি কমলকে বললো রামু উপজেলা আ.লীগ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

গত বুধবার রামু খিজারী অডিটোরিয়ামে তথাকথিত তৃণমুল আওয়ামী লীগের নাম দিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলসহ অন্য বক্তাদের ‘গঠনতন্ত্রবিরোধী’ ও ‘সাংঘর্ষিক’ বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ সভা করেছে রামু উপজেলা আওয়ামী লীগ।

সোমবার রামু উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স হলে রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের এই জরুরী প্রতিবাদ সভা আয়োজন করা হয়।

প্রতিবাদ সভা বক্তারা বলেন, ৪ মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল ও সাধারন সম্পাদক শামশুল আলম মন্ডলের বিরুদ্ধে সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলের ব্যক্তিগত আক্রমনাত্মক ও অশালীন বক্তব্যে আমরা আশাহত, মর্মাহত ও ব্যথিত।

তাদের মতে, একজন সাংসদ হয়ে তার এহেন রাজনৈতিক শিষ্টাচার বিবর্জিত বক্তব্য তার ব্যক্তিত্বের পরিধি সম্পর্কে নিঃসন্দেহে মানুষের ধারণা হয়েছে। সাংসদের মিথ্যা-বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কল্পনাপ্রসূত ওই বক্তব্যকে রামু উপজেলা আওয়ামী লীগ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।

তারা বলেন, রাজনীতির মাঠে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সুন্দর, মার্জিত ও সাবলীল ভাষায় প্রতিবাদ করা যায়। হেয়প্রতিপন্ন ও মিথ্যা অপবাদের আশ্রয় নিয়ে কাউকে ঘায়েলের অপচেষ্টা নেতৃত্বের অপরিপক্বতা ছাড়া আর কিছু নয়। সময়ের ব্যবধানে এসমস্ত নেতৃত্ব সমাজের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়।

বক্তাগণ মনে করেন, কালো টাকা-ক্ষমতার অপব্যবহার ও জনগণের সাথে মিথ্যা নাটকবাজি করে বেশি দিন নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখা যায় না। ওই সমস্ত অপরিপক্ষ নেতার ক্ষমতা ক্ষয় হয়ে আসবে অচিরেই। মনে রাখা উচিত ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।

তারা বলেন, রামু উপজেলা আওয়ামী লীগ কক্সবাজার তথা সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত দল। কক্সবাজারের অন্যান্য উপজেলায় সভাপতি-সম্পাদকের মাঝে কোন না কোন গ্রুপিং দৃশ্যমান। সেক্ষেত্রে রামু আওয়ামী লীগ নিজেদের মধ্যে অদ্যাবদি কোন দলাদলি বা কোন গ্রুপিংয়ের অবতারণা হয়নি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতীয় সংসদ নিবার্চনে কমলকে মনোনয়ন না দিলে প্রতিবারই প্রতিবাদ স্বরূপ তিনি হয় কলা গাছ, নাহয় মাদার গাছ রোপন করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। যা সকলের জানা।

বিগত ইউপি নির্বাচনে রামুর ১১টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ে সহায়তা করেছেন, যা কারো অজানা নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।

রামু উপজেলা আওয়ামী লীগ জেলা আওয়ামী লীগের সাথে সমন্বয় করে রামুর এগার ইউনিয়নের সম্মেলন ও কাউন্সিল সম্পন্ন করে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১২ মে রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের প্রায় ৪৪টি জেলায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা কর হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে রামু উপজেলার সম্মেলনও স্থগিতাদেশের তালিকায় পড়ে যায়।

এদিকে ওই বিষয়কে কেন্দ্র করে রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সাংসদ কমলসহ অন্যরা নানা মিথ্যা অপপ্রচারেরর পাশাপাশি নিজেদের ‘লম্বা হাতের কারিশমা’ বলেও জাহির করে বেড়াচ্ছে, যা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয় বলেও বক্তাগণ মন্তব্য করেন।

প্রতিবাদ সভায় ‘রাজনীতির শুদ্ধতা’য় সকলকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করতে আহবান জানান রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল ও সাধারন সম্পাদক শামশুল আলম মন্ডল।

সভায় উপজেলা কার্যনির্বাহী কমিটির নেতারা ও এগার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।