সিআইডির অনুসন্ধান

‘আনন্দের বাজার’ মেরে দিয়েছে গ্রাহকদের ৩১৫ কোটি টাকা

‘আনন্দের বাজার’ মেরে দিয়েছে গ্রাহকদের ৩১৫ কোটি টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘আনন্দের বাজারে’র ফেসবুক পেজে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে ১৬টি বাইক কেনার ফরমাশ দেন ব্যবসায়ী প্রণবেশ রায়। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাবে ২৯ লাখ টাকা জমা দেন তিনি। এরপর ৯ মাসে একটি বাইকও পাননি ঢাকার এই ব্যবসায়ী।

তাঁর মতো বহু গ্রাহক এভাবেই প্রতারিত হয়েছেন।

আনন্দের বাজার ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহমুদুল হক খন্দকার গ্রাহক ঠকিয়ে ৩১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য মতে, গত বছর অক্টোবরে এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার সময় থেকে পলাতক আহমুদুল হক। তিনি বিদেশে পালিয়ে গেছেন।

আহমুদুল হকের বিরুদ্ধে গ্রাহকের ৩১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে গত ২৩ মার্চ রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করেছে সিআইডি।

মামলার বাদী সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আনন্দের বাজারে’র মালিক আহমুদুল হকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠলে তাঁরা এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। তাতে গ্রাহকদের ৩১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০২০ সালের জুলাই মাসে গুলশানের জব্বার টাওয়ারের ১৩ তলায় কার্যালয় খুলে ব্যবসা শুরু করে ‘আনন্দের বাজার’। নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০-৪০ শতাংশ ছাড়ের প্রলোভন দেখিয়ে মোটরসাইকেল, মুঠোফোনসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতো তারা। শুরুতে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে কিছু গ্রাহকের কাছে পণ্য সরবরাহ করে আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালায় কোম্পানিটি। এই ফাঁদে পড়েন অন্য গ্রাহকরা।

আহমুদুল হকের অর্থ পাচারের মামলার তদন্ত করছেন সিআইডির উপপরিদর্শক নুরুন নাহার। তিনি বলেন, আহমুদুল হক এখনো বিদেশে পালিয়ে আছেন। তাঁর ও আনন্দের বাজার লিমিটেডের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই সব তথ্য পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের মোট কত টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

‘আনন্দের বাজারে’র মতো অর্ধশত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শেষ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

হাইকোর্টে জমা দেয়া তাদের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ৯ মে পর্যন্ত এই ১৭ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

প্রতারিত গ্রাহকরা টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো আশা দেখছেন না। ভুক্তভোগী প্রণবেশ বলেন, ‘আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আনন্দের বাজারের মোটরসাইকেল কেনার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। ওরা আমাকে একটি চেক দিয়েছিল, কিন্তু সেটাও ব্যাংক থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।’

প্রণবেশের মতো প্রতারিত আদীব রেজা খুইয়েছেন ৯ লাখ টাকা। তিনি আট মাসেও কোনো পণ্য বুঝে পাননি।

আদীব রেজা বলেন, ‘আমার মতো শত শত গ্রাহক টাকা হারিয়ে হতাশায় দিন গুনছেন। আমরা পণ্য পাচ্ছি না, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। আনন্দের বাজারের মালিক আহমুদুল তো বিদেশে পালিয়ে গেছেন। তিনি সেখান থেকে ফেসবুক লাইভে নানা আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন।’
সুত্র : প্রথম আলো