মুমিনুলকেই কেন বলির পাঁঠা হতে হয়!

মুমিনুলকেই কেন বলির পাঁঠা হতে হয়!

খেলা ডেস্ক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

বাংলাদেশ দল ডারবান থেকে মঙ্গলবার পোর্ট এলিজাবেথে উড়ে গেলেও রেখে যেতে পারেনি বিতর্ক। ডারবান টেস্টের বিতর্ক সহসা পিছুও ছাড়ার নয়। প্রথম টেস্ট শেষ হওয়ার দু’দিন পরও তাই কথা হচ্ছে খেলার বাইরের ইস্যু নিয়ে। মিডিয়া চেষ্টা করছে বিতর্ক সৃষ্টির পেছনের কুশীলবদের খুঁজে বের করতে।

বাংলাদেশ দলের একটি সূত্র জানায়, একজন সিনিয়র ক্রিকেটার পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। তার দ্বিচারিতার কারণে টেস্ট দলের অস্বস্তি বাড়ছে দক্ষিণ আফ্রিকায়।

অভিযোগ উঠেছে, এই সিনিয়র ক্রিকেটারের প্রভাবে কোচ রাসেল ডমিঙ্গো এবং অধিনায়ক মুমিনুল হক স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বলির পাঁঠা হতে হয় মুমিনুলকে।

অধিনায়ক ডারবান টেস্টের সব ব্যর্থতা মাথা পেতে নিলেও ভেতরের ঘটনা অন্য। প্রধান কোচ ডমিঙ্গো এবং পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডের পরামর্শ ছিল, টস জিতলে আগে ব্যাট করার। মুমিনুলের তাতে সমর্থনও ছিল। কিন্তু ৩০ মার্চের টিম মিটিংয়ে দলের দুই সিনিয়র ক্রিকেটার তামিম ইকবাল আর মুশফিকুর রহিম ভিন্ন মত প্রকাশ করেন।

বিসিবির একটি সূত্র জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের প্রথমে মোকাবিলা করতে চাননি তারা। যে কারণে টস জিতলে বোলিং নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনেরও তাতে সমর্থন ছিল। যদিও ম্যাচ শেষে ভালো ছেলের মতো ব্যর্থতার দায় মাথা পেতে নেন অধিনায়ক।

অভিযোগ আছে, মুমিনুল যাদের আড়াল করছেন তাদের থেকেই মিডিয়াকে উল্টো বার্তা দেয়া হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করা একজন ক্রিকেটার আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ দলটাকে কিছু খেলোয়াড় পুতুল মনে করেন। তারা যা চাইবেন তাই হতে হবে। মুমিনুল ভাই সাদাসিধে এবং জুনিয়র হওয়ায় এটা করতে পারছেন। সাকিব ভাই অধিনায়ক হলে কেউ কথা বলার সাহস করতেন না।’

টিম মিটিংয়ে আগে বোলিং করার পক্ষে মত দিলেও ম্যাচ খেলেননি তামিম। পেটের পীড়া নিয়ে হোটেলে ছিলেন প্রথম দিন। প্রথম তিন দিন ড্রেসিংরুমে তার উপস্থিতি সেভাবে বোঝা যায়নি। নাটকটা জমে ওঠে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে। একাদশের সদস্য না হয়েও ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে গিয়ে আম্পায়ার এরাসমাসের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাকে।

অন্যদিকে তাকিয়ে কথাগুলো শুনছিলেন আম্পায়ার। তামিমের পেছনেই ছিলেন আরেক আম্পায়ার আদ্রিয়ান হোল্ডস্টক। কথোপকথনের পুরোটা সময় ক্যামেরা তামিম ও আম্পায়ারদের ওপর ধরা ছিল। ধারাভাষ্যকাররাও বিরূপ মন্তব্য করছিলেন বাঁহাতি এই ওপেনার মাঠে ঢুকে আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলায়। যদিও দেশে গল্প রটেছে, আম্পায়ারদের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন তামিম। কিছু সিদ্ধান্তের ব্যাপারেও নাকি আপত্তি জানান তিনি। এরাসমাসের সঙ্গে আসলে কী বলছিলেন তামিম, তা জানা যায়নি।

তবে এটুকু জানা গেছে, দেশের মিডিয়ায় ভুল বার্তা দেয়া হয়েছে দল থেকে। এখানেই শেষ নয়, আম্পায়ারিং ও স্লেজিং নিয়ে আইসিসির কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হবে বলে যে বক্তব্য প্রচার হয়েছে, সেটা ঠিক নয় বলে নিশ্চিত করেছে বিসিবি।

বাংলাদেশ দল থেকে জানানো হয়, ‘ক্যাপ্টেন্স রিপোর্ট’-এ যেটা থাকে, স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মেনে তাই করা হয়েছে। লজিস্টিক ম্যানেজার নাফিস ইকবালকে ওয়ানডে সিরিজ চলাকালে ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পয়ক্রফট কর্তৃক ভর্ৎসনা করার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তাতে বিস্মিত খোদ বিসিবি। পয়ক্রফটের মতো একজন সিনিয়র ম্যাচ রেফারি খামোখাই বাংলাদেশ দলের লজিস্টিক ম্যানেজারকে কেন ভর্ৎসনা করবেন! তার সঙ্গে তো নাফিসের পূর্বশত্রুতাও নেই। তিনি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে অতিউৎসাহী হয়ে এমন কিছু করেননি তো, যা ম্যাচ অফিসিয়ালদের বিরক্তির কারণ ছিল। আসলে নাফিসের আচরণ নিয়েই বিসিবি কর্মকর্তারাও স্বস্তিতে নেই। বিসিবি পরিচালকদের কাছেও বিষয়টি পৌঁছে গেছে।

নাম গোপন রাখার শর্তে বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, নাফিসকে ম্যানেজার হিসেবে রাখার জন্য এখনও জোর লবিং করছে একটি পক্ষ।