মৃত্যুর কাছে হেরে গেল ফাহমিদা-হাসানের অমর প্রেম!

মহিউদ্দিন মাহী
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

মাত্র ১০ দিন আগে ক্যানসার আক্রান্ত যে ফাহমিদার বিয়ে হয়ে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল সেই ফাহমিদাই মৃত্যুরকোলে ঢলে পড়লেন অবশেষে। ২৭ বছর বয়সী ফাহমিদা কামাল আজ সোমবার সকালে ক্যান্সারের কাছে হেরে গিয়ে বাকলিয়ায় নিজ বাসায় চিরঘুমের দেশে পাড়ি জমান।

চকরিয়ার ছেলে মাহমুদুল হাসান হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন তার প্রাণের ভালোবাসার মানুষটি পৃথিবী থেকে চলে যাবেন। তাই তো গত ৯ মার্চ চট্টগ্রাম নগরের মেডিকেল সেন্টারে মৃত্যুপথযাত্রী ফাহমিদাকে বেনারসি পরিয়ে বউ সাজিয়ে ১ টাকা কাবিনে বিয়ে করেন মাহমুদুল।

চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল হকের বড় ছেলে মাহমুদুল হাসান নর্থসাউথ থেকে এমবিএ আর চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ বাকলিয়াতে জন্ম নেয়া ফাহমিদা কামাল ইইউবি থেকে বিবিএ ও এমবিএ শেষ করেন।

স্বজনরা জানান, শিক্ষাজীবনে তাদের দুজনের পরিচয়। লাবণ্যময়ী স্মার্ট সুন্দরী তরুণী ফাহমিদাকে ভালো লাগতে শুরু করে হাসানের। এরপর আস্তে আস্তে দুজন প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। সুখ আনন্দ সবই যেন ছিল ভরপুর। বিয়ে সংসার কত না মধুর সুখের স্বপ্ন ছিল তাদের চোখে।

কিন্তু একি! এমন স্বপ্ন সুখের রঙিন উঠোনে ঘনকালো অন্ধকার। ফাহমিদার শরীরে বাসা বাঁধে মরণঘাতী ক্যান্সার। রোগ ধরা পরার পর সঙ্গে সঙ্গে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা এভারকেয়ার, পরে ভারতের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়া হয়।

সেখানে দীর্ঘ একবছর চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দেন, ফাহমিদার চিকিৎসা আর সম্ভব নয়, ইঙ্গিত দেন, বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই।

পাথরচাপা কষ্ট নিয়ে পরিবারের লোকজন ২৭ বছর বয়সি ফাহমিদাকে চট্টগ্রামে নিয়ে এসে মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করান। সেখানে চলতে থাকে চিকিৎসা। কিন্তু ক্রমাগত ফাহমিদার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

এদিকে ফাহমিদার অসহ্য কষ্ট ও বুকভাঙা যন্ত্রণা প্রেমিক হাসানের সহ্য হয় না। ফাহমিদার কষ্ট হাসান ভাগ করে নিতে চান। চোখের জল মুছে দিতে চান ভালোবাসার মানুষটির।

মৃত্যু যন্ত্রণায় ফাহমিদা নিঃশেষ হতে চলেছে। এ ঘটনায় হাসান কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। ফাহমিদাকে যদি মরতে হয়, তাহলে তার বুকে মাথা রেখেই মরতে হবে। নিজের পরিবারকে নিয়ে এসে প্রস্তাব দিলেন হাসান, ফাহমিদাকে বিয়ে করতে চান।

মৃত্যুপথযাত্রী ফাহমিদাকে হাসানের বিয়ে করার প্রস্তাবে সবাই হতবিহ্বল। হাসানকে বোঝানোর সব ধরনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু হাসান তার সিদ্ধান্তে অটল।

অবশেষে উভয় পরিবার সম্মত হয়। বিষয়টি জানানো হয় জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা ফাহমিদাকে। অবিশ্বাস্য প্রস্তাব শুনে অপলক তাকিয়ে থাকে সে প্রিয় হাসানের দিকে। ফাহমিদার মুখে ফুটে ওঠে নির্মল স্বর্গীয় হাসি।

অবশেষে বিয়ের প্রস্তুতি নেয়া হয়। গত ৯ মার্চ বাদ-এশা মেডিকেল সেন্টারে তাদের বিয়ের আয়োজন হয়। কনে ফাহমিদাকে পরানো হয় লাল বেনারসি শাড়ি, গলায় সোনার হার। বর হাসান পায়জামা-পাঞ্জাবি পরেন। আকদ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। দুজন মিলে কেক কাটেন, মালাবদল হয়। খেজুর খাওয়ানো হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফাহমিদার মরদেহ চট্টগ্রামের দক্ষিণ বাকলিয়ায় নিজ বাড়িতে নেয়া হয়েছে। বিকেলে বাদ আছর তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।