ক্যান্সারে একা একা কাঁদেন খুটাখালীর ঝর্না, বাঁচতে চান তিনি

ক্যান্সারে একা একা কাঁদেন খুটাখালীর ঝর্না, বাঁচতে চান তিনি

মো. সাইফুল ইসলাম খোকন, চকরিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

যন্ত্রণা শুরু হয়ে গেলে কোনো কিছুই ভালো লাগে না। একা একা বসে কাঁদি। হাসপাতালে শুয়ে থাকলে মনে হয় মারা যাবো। তাই সঙ্গীদের সাথে কথা বলে যন্ত্রণা ভুলার চেষ্টা করি। ওষুধ খেলে যন্ত্রণা কমে। রাত-দিন অসহ্য যন্ত্রণায় আমার বেঁচে থাকার স্বপ্ন মরে যাচ্ছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। দুটি সন্তানকে নিয়ে চিন্তা, আমি মরে গেলে তাদের কে দেখবে? আমি বাঁচতে চাই। আপনারা আমাকে বাঁচান।

এভাবেই নিজের যন্ত্রণার কথা জানিয়েছেন কক্সবাজারের বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড চড়িবিল গ্রামের মরহুম বাঁচা মিয়ার ছোট মেয়ে শাবনুর মোস্তারি ঝর্না (২৬)।

তিনি ওই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড উত্তর ফুলছড়ি গ্রামের আনোয়ার হোসাইন বিটু’র স্ত্রী।

মরণব্যাধি ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে ঝর্নার শরীরে। বিগত ৮ মাস ধরে বয়ে বেড়াচ্ছেন ক্যান্সারের যন্ত্রণা। টাকার অভাবে করাতে পারছেন না চিকিৎসা। তার একমাত্র ছেলে আরিয়ান সায়েদ সাইমন উত্তর ফুলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণী ও নূর সাইফা সামিহা উত্তর ফুলছড়ি তালিমুল কোরআন ও নূরানী মাদ্রাসায় নার্সারীতে পড়ে।

মোবাইলে কথা হলে শাবনুর মোস্তারি ঝর্না জানান, বছর ধরে নানা রোগ শোকে ভুগছেন তিনি। স্বামীর উপার্জন ও দারিদ্রতার কারণে চিকিৎসার খরচ যোগাতে নিজের এই মরণব্যাধির কথা সবার কাছ থেকে গোপন করে যান। এরমধ্যে দিনে দিনে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ব্যথা আর যন্ত্রণায় দু’চোখে অন্ধকার দেখেন শাবনুর মোস্তারি ঝর্না। এভাবেই এক দুঃসহ যন্ত্রণা বুকে নিয়ে তিনি যেন মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

শাবনুর মোস্তারি ঝর্না জানান, দীর্ঘ ৬ মাস যাবৎ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ক্যান্সার ও রেডিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ ডাঃ জান্নাতুন নিছা, ডাঃ নাছির উদ্দিন মাহমুদ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ক্যান্সার শনাক্ত করেন এবং অপারেশন করার পরামর্শ দেন। সেই সঙ্গে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি নিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন অনেক টাকার। কিন্তু তার পক্ষে সেই টাকা যোগাড় করা সম্ভব নয়।

এতদিন বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার দেনা করে, ভাই হেলাল খান মাহমুদ থেকে লাখ টাকা নিয়ে অন্তত সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় করেছেন তার চিকিৎসায়। এখন প্রতিবেশিরা সহায়তা করলে তার চিকিৎসা চলবে, না হলে বিনা চিকিৎসায় মরতে হবে।
টাকার অভাবে চিকিৎসা প্রায় বন্ধ। ওষুধ খেতে পারছেন না।

এখন সমাজের বিত্তবান ও দয়ালু মানুষ যদি একটু এগিয়ে আসেন, সাহায্যের হাত বাড়ান তাহলে হয়তো শাবনুর মোস্তারি ঝর্না চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরতে পারেন। তার চিকিৎসায় প্রয়োজন কয়েক লাখ টাকা।

শাবনুর মোস্তারি ঝর্নাকে সহযোগিতা পাঠাতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন এই নাম্বারে। তার ভাই হেলাল খান মাহমুদ- ০১৮৬৮ ৫১৭৪৩২, বিকাশ পার্সেনাল নম্বর- ০১৮২৩ ১১৭৫৯৫, ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকিং ২২৭-০১ ঈদগাঁও, কক্সবাজার ও একাউন্ট নম্বর- ২০৫০৭৭৭০২০৩৩১২৭২০।