ইসলামাবাদে জোড়া খুন

নির্মম ভাবে মায়ের শরীর কেটে ছিন্নভিন্ন, মেয়েকে জবাই

নির্মম ভাবে মায়ের শরীর কেটে ছিন্নভিন্ন, মেয়েকে জবাই

মহিউদ্দিন মাহী
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার সদর উপজেলাধীন ইসলামাবাদে মা-মেয়েকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে আবুল কালাম নামের এক পাষন্ড যুবক। নিহতরা হলেন চরপাড়ার আজিজুল হকের স্ত্রী রাশেদা বেগম (৩৫) এবং তার মেয়ে ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস (১৫)।

যিনি হামলাকারি তিনি নিহতদের একেবারেই বাড়ির পাশাপাশি এবং ঘনিষ্ট আত্মীয়।

মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটলেও নিহতের পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে তাদের ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে আসা হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকেলে লাশ আনা হয় বাড়িতে।

ওই সময় এলাকায় হাজারো মানুষের ঢল নামে। বাড়ির পাশর্^বর্তী নতুন ট্রেনের রাস্তায় শত শত নারীদের উপস্থিত দেখা গেছে। একই পরিবারে ‘ডাবল মার্ডারে’র ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তিন ভাইয়ের একমাত্র বোন জান্নাতুল ফেসদৌসকে হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন ভাইয়েরা।

স্থানীয়রা জানান, বাবুর্চি আজিজুল হকের সাথে তার ভাই জাফর আলমের সাথে বসতবাড়ির জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মূল বিষয় হলো আজিজুল হকের কেনা জমি নিয়ে এই বিরোধ। যদিও বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ স্থানীয়ভাবে শালিসের মাধ্যমে এটি সুরাহা করে দেন।

স্থানীয় সালিশের রায় আজিজুল হকের পক্ষে আসলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন জাফর আলমের ছেলে আবুল কালাম। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সন্ধ্যায় এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে কথা কাটাকাটি হয়। যদিও তাদের বাড়ি একেবারেই ৩০ হাতের ভেতরে।

দুই বাড়ির মহিলাদের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আবুল কালাম ঘর থেকে বের হয়ে লম্বা কিরিচ দিয়ে রাশেদার চুলের মুন্ডি ধরে টেনে নিয়ে যায়। সেখানে আবুল কালামের বাড়ির সামনে একটি গর্তে ফেলে তার হাতের কব্জি কেটে ফেলে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো কিরিচ দিয়ে কোপায়।

ওই ঘটনা দেখতে পেয়ে রাশেদার একমাত্র মেয়ে জান্নাতুল ফেসদৌস এগিয়ে আসলে তাকেও জবাই করে আবুল কালাম।

এমনই বর্ণনা দিয়েছেন স্থানীয় আয়েশা ছিদ্দিকা নামের এক নারী। তিনি জানান, খুনি আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা এবং সেবন করে আসছে। এলাকায় তার ব্যাপক দাপট রয়েছে।

এদিকে বুধবার বিকেলে নিহত মা-মেয়ের জানাযা শেষে দাফন করা হয়েছে। ওই জানাযায় স্থানীয় এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাযা পড়ান মাওলানা মোহাম্মদ সাঈদ।

অপরদিকে এই ঘটনার সুষ্টু তদন্ত করে কঠিন শাস্তি চান এলাকার সচেতন মানুষ।

ইসলামাবাদে জোড়া খুনের ঘটনায় নতুন ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, খুনের বিষয় নিয়ে তাদের পক্ষ থেকে এখনো এজাহার জমা পড়েনি। যদিও ঘটনার দিন তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

আব্দুল হালিম বলেন, খুনিকে ধরার জন্য আইনগত ভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।