রোহিঙ্গা শিবিরে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে গেল ৪ শতাধিক ঘর

রোহিঙ্গা শিবিরে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে গেল ৪ শতাধিক ঘর

হেলাল উদ্দিন, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের দু’টি ঘর, কমিউনিটি সেন্টারসহ ৪৩৫টি পরিবারের ঘর পুড়ে ছাঁই হয়েছে। দমকল বাহিনীসহ উপস্থিত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সকাল নাগাদ গভীর রাতে লাগা এই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এই ঘটনায় কারও মৃত্যুর খবর না মিললেও ১৫/২০ জন নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) মধ্যরাত ১টা ২৯ মিনিটে টেকনাফ নয়াপাড়া নিবন্ধিত শরণার্থী শিবিরের ই-ব্লকে জনৈক বুই¹ানীর ঘর থেকে আকস্মিক অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হয়। প্রত্যেক বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার থাকার কারণে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘন্টার মধ্যেই পুরো ব্লকে ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসসহ রোহিঙ্গারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। দীর্ঘ চেষ্টার পর ভোরের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

রোহিঙ্গা শিবিরে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে গেল ৪ শতাধিক ঘর

সংশ্লিষ্ট সুত্রগুলো মতে, এই অগ্নিকান্ডে রোহিঙ্গা শিবিরের ই-ব্লকের ৪৩২টি রোহিঙ্গা বসতির ঘর, ইউএনএইচসিআরের একটি কমিউনিটি সেন্টার এবং পাশর্^বর্তী ২টি স্থানীয় জনবসতির ঘরসহ ৪৩৫টি ঘর আগুনে পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। এছাড়াও পাশর্^বর্তী ভাসমান আরও কিছু ঝুপড়ি ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে বেশ কয়েকজন দাবি করেছেন।

তবে এই অগ্নিকান্ডে আগুনের উৎস সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত হতে পারেনি। অনেকের ধারণা, রোহিঙ্গাদের ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই এই অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হতে পারে। আবার অনেকে মনে করছেন, হয়তো কেউ ধ্বংসাত্নক মনোভাব নিয়ে অগ্নিসংযোগও করতে পারে। এমন আশংকাও করছেন অনেকেই।

এ ব্যাপারে নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরের ক্যাম্প ইনচার্জ আব্দুল হান্নান জানান, ভোররাতে হঠাৎ অগ্নিকান্ডে রোহিঙ্গা বসতির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তিনি ৪৩২টি রোহিঙ্গা পরিবারের ঘর পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আগুনের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনি জানান, এই অগ্নিকান্ডের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজারস্থ শরণার্থী, ত্রাণ ও পূণর্বাসন কমিশনার (আরআরআরসি) শাহ রেজওয়ান হায়াত অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন।