মেহেদীর রং না মুছতেই তরুণী গৃৃহবধূূর মৃত্যু!

ফারুক ইকবাল, মহেশখালী
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

মেহেদীর রং মুছে যাওয়ার আগেই দুনিয়ার মায়া ছাড়তে হলো তরুণী গৃহবধূ সুমি আক্তারকে। পারিবারিক কলহের শিকার হয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন এই তরুণী।

সোমবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ীর সিকদার পাড়ায় ওয়ালিদ চৌধুরীর ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমি আক্তার (১৯) পিরোজপুরের মাঠবাড়িয়ার পাচশতকুড়া গ্রামের মোঃ আবুল কালামের মেয়ে। তিনি স্বামীর সাথে মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

সরেজমিনে জানা যায়, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গার কুমারী এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মোঃ ওসমান আলী ৮ মাস আগে ২য় বিয়ে করে ৬ মাস পর্যন্ত মাতারবাড়ীতে ভাড়া বাসায় থাকেন। প্রথম স্ত্রী নিয়ে পারিবারিক কলহের জের ধরে গতরাতে ঝগড়া করে সকালে মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পে চলে যায় স্বামী ওসমান। সকালে স্বামী চলে যাওয়ার পর গলায় ওড়না পেছিয়ে আত্মহত্যা করেন দ্বিতীয় স্ত্রী সুমি আকতার।

প্রাথমিক ভাবে স্থানীয়রা এমন ধারণা করলেও অনেকেই মনে করছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।

এদিকে সকাল ৮টায় গৃৃহবধূূর ঘরটি বন্ধ থাকলে বাড়িওয়ালার ভাই ইয়ার মোঃ চৌধুরী দরজায় কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করেন। পরে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে ওয়ালিদ চৌধুরী স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন।

পরে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আব্দুফ রউফ, মুজিবুর রহমান, মহিলা ইউপি সদস্য ছকুনতাজ, নিহতের স্বামী ওসমানসহ স্থানীয় কয়েকজন মিলে দরজা ভেঙে কক্ষে ঢুকলে ঘরের বিমের সাথে ওড়না পিছিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ দেখতে পান।

এ বিষয়ে মাতারবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (আইসি) সাখাওয়াত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।