কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে আনুষ্ঠানিক যাত্রা করলো ‘বে ওয়ান’

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে আনুষ্ঠানিক যাত্রা করলো ‘বে ওয়ান’

আনছার হোসেন, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে পর্যটকদের জন্য আধুনিক ক্রুজশীপ ‘বে ওয়ান ক্রুজ’ আনুষ্ঠানিক যাত্রা করেছে। রোববার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী আনুষ্ঠানিক ভাবে জাহাজটির যাত্রা উদ্বোধন করেছেন। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

আগামিকাল সোমবার (২১ ডিসেম্বর) থেকে আধুনিক সুবিধাসম্বলিত পর্যটকদের নিয়ে যাত্রা শুরু করবে।

কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে জাপানে নির্মিত জাহাজটি সংযোজন করেছে চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স।

উদ্বোধনী অনুষ্টানে জানানো হয়, এমভি বে-ওয়ান জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৪০০ ফুট ও প্রস্থ ৫৫ ফুট। এর গভীরতা ৫ দশমিক ৪ মিটার। জাহাজটির ধারণ ক্ষমতা ৫০১৯ মেট্রিক টন, জাহাজটিতে মোট ১১২০০ বিএইচপি সম্পন্ন মেইন ইঞ্জিন রয়েছে। যা দিয়ে জাহাজটি প্রতি ঘণ্টায় ২৪ নটিক্যাল মাইল গতিতে ছুটতে পারে।

তাদের মতে, সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজটি ১৮ থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলবে। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ মোকাবেলায় জাহাজটিতে ফিন স্ট্যাবিলাইজার সংযুক্ত রয়েছে।

প্রধান অতিথি নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও উদ্বোধক বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী আশা করছেন, অত্যাধুনিক এই জাহাজটি বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে যুগান্তকারি অবদান রাখবে।

তাঁদের মতে, ‘বে ওয়ান ক্রুজ’ কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকেই পাল্টে দেবে।

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে আনুষ্ঠানিক যাত্রা করলো ‘বে ওয়ান’

সুত্র মতে, জাপানের মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি জাহাজটিতে আছে কেবিন, প্রেসিডেন্ট স্যুট ও সাধারণ আসন মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার আসন। জাহাজের মধ্যে যাত্রীদের জন্য রয়েছে রেস্টুরেন্ট।

জাহাজটি পরিচালনায় নাবিক রয়েছেন ১৭ জন। অন্যদিকে যাত্রীসেবায় নিয়োজিত থাকবেন আরও ১৫০ জন ক্রু। স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ, রাত্রিযাপন ও বিভিন্ন স্বাদের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থাও আছে বলে জানানো হয়েছে।

কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (এডমিন) কামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জাহাজটির আগে নাম ছিল ‘সিলভিয়া মারু’। সেটি আমরা কিনে নেয়ার পর নাম হয়েছে ‘এমভি বে ওয়ান’।

তিনি জানান, কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌ রুটে প্রতিদিন চলাচল করবে এই জাহাজটি। মানসম্পন্ন ও বিলাসবহুল যাত্রীসেবার জন্যই জাহাজটি আনা হয়েছে।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে দরিয়ানগরে জাহাজটির জন্য নতুন একটি জেটি নির্মাণ করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন পেলে সেটি চালু করা যাবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কিছুদিন আগে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের অপর একটি জাহাজ ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটে প্রথম সরাসরি যাত্রী পরিবহণ শুরু করেছিল। সেটিও যুক্ত থাকবে যাত্রীসেবায়।

রোববার বিকালে জাহাজটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা অনুষ্ঠানে দুই মন্ত্রী ছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন প্রমূখ।