মহেশখালীর ইউপি চেয়ারম্যান তারেক ও এলএ শাখার ৮ কর্মকর্তাকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

কক্সবাজার মেডিকেলের সাবেক অধ‌্যক্ষসহ ৬ ডাক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ দুদকে

আনছার হোসেন
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের মেগাপ্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ, কক্সবাজার জেলা ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এডিশনাল এলএও) বিজয় কুমার সিংহসহ সংশ্লিষ্ট ৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদের মধ্যে তিনজন সার্ভেয়ার, তিনজন কানুনগো ও একজন তহশিলদার রয়েছেন।

আজ বুধবার (১৮ নভেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হওয়া ওই ৯ জন হলেন মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যঅন তারেক বিন ওসমান শরীফ, কক্সবাজার জেলা ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বিজয় কুমার সিংহ, সার্ভেয়ার মিশুক চাকমা, পরিমল চন্দ্র দাস ও পিকলো দাশ, কানুনগো আতাউল হক, আবদুল খালেক ও বসন্ত কুমার চাকমা ও তহশিলদার জয়নাল আবেদীন।

দুর্ণীতি দমন কমিশনের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের নির্ভরযোগ্য এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দুর্ণীতি দমন কমিশনের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারি পরিচালক মো. শরিফ উদ্দিন ওই জনপ্রতিনিধি ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

ইতোপূর্বে এই কার্যালয়ে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান এবং সিনিয়র সাংবাদিক ও কালের কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি তোফায়েল আহমদকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ১৩ অক্টোবর তাদের এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। বিকেল তিনটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে ওই জিজ্ঞাসাবাদ।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি র‌্যাবের অভিযানে ঘুষের ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ১৫০ টাকাসহ গ্রেপ্তার হন কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার সার্ভেয়ার ওয়াশিম খান। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুদকের মামলার তদন্ত শুরু হলে গত তিনমাস ধরে কক্সবাজারজুড়ে এলএ শাখার দালালদের মধ্যে আতংক তৈরি হয়। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া ৪ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তাদের স্বীকারোক্তিতে কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, তার ছেলেসহ কক্সবাজারের দু’জন সাংবাদিক, কয়েকজন আইনজীবী, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, পৌর কাউন্সিলরসহ প্রায় অর্ধশত দালালের নাম উঠে আসে।

তাছাড়া আসামিদের স্বীকারোক্তিতে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার বর্তমান ও সাবেক প্রায় ৫৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।