ক্ষমতা এক মিনিটের!

ক্ষমতা এক মিনিটের!

ক্ষমতা এক মিনিটের। কেউ মানেন। কেউ মানেন না। ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চান যেকোনো পথে। ডনাল্ড ট্রাম্পও তাই চেয়েছিলেন। তার কাছে গণতন্ত্র নয়, ক্ষমতা বড়। উগ্র জাতীয়তাবাদ পুঁজি করে পৃথিবীর অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশ আমেরিকাকে দ্বিধাবিভক্ত করেছেন। মানবাধিকার তার কাছে তুচ্ছ।

‘আমেরিকা প্রথম’- এই নীতি গ্রহণ করে দুনিয়া থেকে আলাদা করতে চেয়েছিলেন জনগণকে। এক নায়করা তাই চান। হালে ধর্মীয় উন্মাদনার ওপর ভর করে অনেকেই ক্ষমতায় রয়েছেন। এতে কেউ সফল, কেউ ব্যর্থ। দিনের শেষে এই কৌশল পরাভূত হবেই। ট্রাম্প সর্বশেষ নজির। উল্টোপথে হাঁটতে পছন্দ করেন ট্রাম্প। আর পছন্দ না হলে বিগড়ে যান। যতো বেশি রাগ তার মিডিয়ার ওপর। মার্কিন মিডিয়া তাকে চার বছর স্বস্তি দেয়নি। এই মিডিয়া প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে বাধ্য করেছিল ক্ষমতা ছাড়তে। মিডিয়া যে কতো শক্তিশালী হতে পারে তা নিশ্চয়ই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ট্রাম্প। তার পছন্দের মিডিয়াও যখন সত্য বলতে শুরু করেছে তখন একহাত নিয়েছেন।

ফক্স নিউজ এক সময় ছিল তার খুব পছন্দের। এখন তাদেরকে ফেলে দিয়েছেন শত্রুর তালিকায়। যেকোনো বিবেচনায় অনেক ভোট পেয়েছেন ট্রাম্প। কিন্তু তিনি ভোটারদের প্রতি সম্মান দেখাননি। তাকে কারা যেন বুদ্ধি দিয়েছে, জন এডামসের পথ ধরতে। ১৮০০ সনে বিজয়ী হয়েছিলেন টমাস জেফারসন। ভুয়া অভিযোগ তুলে এডামস ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন না বলে ঘোষণা দেন। জেফারসনের শপথ অনুষ্ঠান বয়কট করে নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা চালান।

দুর্ভাগ্য তিনি জানতেন না, তার ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে। হঠাৎ করেই হোয়াইট হাউসের কর্মচারীরা তার রুমে ঢুকে যাবতীয় মালামাল সরিয়ে ফেললেন। অসহায়ের মতো তাকিয়ে দেখা ছাড়া তার আর কিছুই করার ছিল না। অবশেষে হার মানলেন। হোয়াইট হাউসের মায়া ছেড়ে অপমান মাথায় নিয়ে বিদায় নিলেন। বলে রাখা ভালো, তিনিই ছিলেন হোয়াইট হাউসের প্রথম বাসিন্দা।

ট্রাম্প এটা জেনেও একগুঁয়েমি করছেন। কিন্তু কেন? মেলানিয়া ট্রাম্পও বলে দিয়েছেন- ‘এনাফ ইজ এনাফ’। চলো এবার আমরা বাড়ি যাই। নিউ ইয়র্ক কিংবা ফ্লোরিডায়। বা অন্য কোথাও।

দুনিয়া মেনে নিলেও ট্রাম্প পরাজয় স্বীকার করতে নারাজ।

দেশে দেশে একনায়করা তাই করে। জনরায় তাদের কাছে নস্যি। ক্ষমতা যে এতো ক্ষণস্থায়ী তারা তা মানতে চান না। ট্রাম্প নিশ্চয়ই খবরটি দেখেছেন। বিলেতের মাদাম তুসো থেকে কীভাবে হাওয়া হয়ে গেলেন। শনিবার যখন মার্কিন ও বৃটিশ মিডিয়া খবর দিলো রঙ্গমঞ্চে ট্রাম্প এখন অতীত। বাইডেন যুগের সূচনা হতে চলেছে। তখনই মাদাম তুসো কর্তৃপক্ষ ট্রাম্পকে ছেঁটে ফেললেন। গায়ে নীল রঙের স্যুট হাওয়া হয়ে গেল। চকচকে টাইও। ট্রাম্পকে রাখা হলো গলফার সাজিয়ে। চেক ট্রাউজার আর বেগুনি রঙের জাম্পার ও লাল টুপিতে ট্রাম্পকে ভালোই লাগছিল।

ব্যবসায়ী ট্রাম্পের গায়ে অনেক ময়লা। প্রেসিডেন্ট হয়ে চেয়েছিলেন ময়লা সাফ করতে। কিন্তু কোথায় যেন গোলমাল হয়ে গেছে। রাজনীতিবিদ হলে হয়তো এমন ভুল করতেন না। আমেরিকাকে উল্টো পথে নিয়ে যাওয়াই যেন তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল। তিনি জানতেন ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে হলে চেনা পথেই যেতে হবে। বাকস্বাধীনতা হরণ করাই একনায়কদের কাজ। এবার জিতলে হয়তো সে পথেই পা বাড়াতেন। এটা এক ভয়ঙ্কর পথ। একবার পা বাড়ালে কেউ আর ফিরতে পারে না। আলাদা মজাই নাকি এপথে। গণতন্ত্রের নামাবলী গায়ে দিয়ে ট্রাম্প একনায়ক হতে চেয়েছিলেন। এজন্য দরকার চরম নৈরাজ্য। এখনও সেপথে হাঁটছেন। মার্কিন জনগণ তার চালাকি ধরতে পেরেছে। তাই তারা তার খায়েশ পূরণ করতে বাদ সেধেছেন। রাজপথে নয়, ব্যালটে। এটাই সব সত্যি।
সুত্র: মানবজমিন