ভোট আমেরিকায়, নির্ঘুম রাত কেন বাংলাদেশে?

ভোট আমেরিকায়, নির্ঘুম রাত কেন বাংলাদেশে?

ভোট হয়ে গেল লাখ লাখ মাইল দূরের দেশ আমেরিকায়। ফল এখনো ঘোষণা হয়নি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কাল একটা সময় মনে হলো, ডনাল্ড ট্রাম্প বুঝি হোয়াইট হাউসে থাকার টিকিট কনফার্মই করে ফেলেছেন। নাটকীয়তার তখনো বাকী ছিল। হঠাৎই ঘুরে দাঁড়ালেন বাইডেন। এখন তো তাকে হোয়াইট হাউসের দরজার খুব কাছে দেখা যাচ্ছে। যদিও ট্রাম্প শিবির এরই মধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।

বুঝা যাচ্ছে সব কিছুর মীমাংসা হতে সময় লাগবে। এখানে অবশ্য প্রশ্ন সেটি নয়। বিষয় গত ৪৮ ঘণ্টা মার্কিন নির্বাচন ঘিরে অদ্ভুত এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। হাজার হাজার মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অনেকের মধ্যেই কাজ করছে টেনশন। মার্কিন মুলুকের নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশে কেন এই টেনশন, আগ্রহ। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আগের সে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরাশক্তি। অনেক বাংলাদেশিও দেশটিতে বাস করেন। এইসব কারণে দেশটির নির্বাচন নিয়ে এ ভূখণ্ডে একধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিশ্চিতভাবেই দু’দিনে সবচেয়ে বেশি লেখা হয়েছে মার্কিন নির্বাচন নিয়েই। সেখানে অনেকেই আফসোস করেছেন। স্মরণ করেছেন অতীত। বলছেন, বাংলাদেশের ভোটের ফল জানার জন্যও একসময় আমরা এমন নির্ঘুম রাত কাটাতাম। রাতভর টিভি পর্দার সামনে অপেক্ষা করতেন কোটি কোটি মানুষ। ট্রাম্প ও বাইডেন দু’ জনই যেভাবে নিজেদের জয় দাবী করেছেন তাতে অনেকেই বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন। মার্কিন গণতন্ত্রের সমালোচনাও করেছেন কেউ কেউ। বলেছেন, তার সংস্কার প্রয়োজন।

তবে দিনশেষে গণতন্ত্রের উচ্চ মর্যাদার কথাই আলোচিত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। লেখক আশীফ এন্তাজ রবী যেমন লিখেছেন, গোলাপ, রজনীগন্ধা কিংবা শিউলি নয়।

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ফুলের নাম- গণতন্ত্র।

সাজেদুল হক, মানবজমিন।