দরিয়ানগরের ‘ইয়াবা কিং’ ওরা কারা!

দরিয়ানগরের ‘ইয়াবা কিং’ ওরা কারা!

ডেস্ক রিপোর্ট
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

তারাই কক্সবাজার শহরতলির দরিয়ানগর বড়ছড়া এলাকার ‘ইয়াবা কিং’। ইয়াবা ভেন্ডার হিসেবে তাদের বেশ নাম-ডাক রয়েছে দরিয়ানগর এলাকায়। কিন্তু প্রতিবারেই তারা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। কয়েকজন কিং ইয়াবাসহ আটকের পর হাজতে ছিলেন। হাজত থেকে বের হয়ে আবারও তারা ‘ইয়াবা কিং’র পোস্ট ধরে রেখেছে। এসব ‘ইয়াবা কিং’দের মাদক কারবারি হিসেবে নামও রয়েছে একটি দপ্তরে। ওই দপ্তরের কাছেও তারা চিহ্নিত মাদক কারবারি।

এরমধ্যে শীর্ষে রয়েছে বড়ছড়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে বদিউল আলম (৩২)। বহুবছর ধরে বড়ছড়া এলাকায় অবস্থান করে রমরমা ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বদিউল আলম। এলাকায় তিনি ইয়াবা ভেন্ডার হিসেবে বেশ পরিচিত। রয়েছে ইয়াবা মামলাও। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও এখন এলাকায় ফিরেছে এই ‘ইয়াবা কিং’ বদিউল আলম।

একই এলাকার মো. ঈসমাইলের ছেলে জাহিদ হাসানও রয়েছে ‘ইয়াবা কিং’র তালিকায়। এলাকায় তরুণ ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে খ্যাতি রয়েছে জাহিদ হাসানের। তবে তার ইয়াবা কারবার বেশ কৌশলী।

কাশেম সওদাগরের ছেলে জয়নাল আবেদীন জনি (৩০) ও মায়েন (২৪) ইয়াবা কিং হিসেবে পরিচিত মুখ। এলাকার সবাই তাদের বিষয়ে অবগত রয়েছেন। তবে নিজেকে খুব বেশি দাপটে ইয়াবা কারবারি মনে করে মায়েন। ইয়াবার দাপটে এলাকায় তার আলিশান জীবন-যাপন। একসময় ইয়াবা ট্যাবলেট লুট করে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিল মায়েন। পুলিশ খুঁজছিল তাকে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় মায়েনকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। সেও এখন এলাকায় ফিরে প্রকাশ্যে ঘুরছে।

কাজি আব্দুল খালেকের ছেলে কামাল হোসেন (২৭), ইকবাল (৩৫), খালেকের বড় ছেলে ঈসমাইলও (৪০) ইয়াবার বড় ভেন্ডার। ঈসমাইল ৬ হাজার ৫০০ ইয়াবাসহ আটক হয়ে এখন কারাগারে রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে ‘ইয়াবা কিং’ হিসেবে রয়েছে কামাল হোসেনের নাম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বড়ছড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক জয়নালও (৩৭) পিছনে নিয়েছে ইয়াবা কারবার। এলাকায় বেশ নামডাক রয়েছে লায়লানীর ছেলে জয়নালের। দৃশ্যমান কোন ব্যবসা না থাকলেও ইয়াবার টাকায় এলাকায় আলিশান জীবনযাপন জয়নালের। জয়নালের রয়েছে মানবপাচার মামলাও।

আব্দু সালামের ছেলে আমির হোসেনও (৩৪) ইয়াবা কারবারে জড়িত। একই এলাকার জামাল হোসেনও বদিউল আলমের ইয়াবা মামলার পার্টনার। জামাল ইয়াবা নিয়ে আটক হয়েছিল। বর্তমানে এলাকায় ফিরে ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে জামাল।

ইয়াবা কারবার থেমে নেই মুফিজুর রহমানের ছেলে নুর মোহাম্মদ (৩৭)। ‘ইয়াবা কিং’র খাতায় নাম রয়েছে নুর মোহাম্মদের। এরিমধ্যে বেশ কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী থাকলেও নুর মোহাম্মদ ইয়াবা ভেন্ডার হিসেবে বেশ পরিচিত এলাকায়।

এলাকাবাসি জানান, বড়ছড়া এলাকায় ‘ইয়াবা কিং’ হিসেবে বেশ পরিচিতি রয়েছে বদিউল আলম, জাহিদ হাসান, মায়েন, লায়লানীর ছেলে জয়নাল, কামাল ও নুর মোহাম্মদের। তাদের বিষয়ে পুরো এলাকাবাসি জানেন। ইয়াবার টাকায় তারা এখন ‘এলাকার কিং’। কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথাও বলতে পারে না। এসব ভেন্ডারদের হাত ধরে অনেক ইয়াবা কারবারির জম্ম হয়েছে বড়ছড়া এলাকায়। এরিমধ্যে বেশ কয়েকজন বর্তমানে কারাগারে।

এলাকার সচেতন লোকজনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় এসকল মাদক কারবারিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা দরকার।

বেশ কয়েকজন এলাকাবাসি জানান, বড়ছড়া এলাকায় অনেক ইয়াবা কারবারি রয়েছে। নতুন নতুন ইয়াবা ব্যবসায়ী যুক্ত হচ্ছে এই এলাকায়। সাগরপথ ও মেরিন ড্রাইভ সহজ হওয়ায় ইয়াবা কারবারিরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দরিয়ানগর এলাকা বেঁচে নিয়েছে। বুঝতেও পারবে না কেউ এখানে অর্ধশত ইয়াবা কারবারি অবস্থান করে।

তাদের মতে, গভীররাত হলে অনেক ইয়াবা কারবারির দৌঁড় বেড়ে যায়। অনেকেই দামি গাড়ি ও সিএনজি টেক্সী নিয়ে গভীররাতে এলাকা ইয়াবা মজুদও করে কৌশলে পাচার করে। এমনকি মুফিজুর রহমানের বাড়িটি ইয়াবা মজুদের কারখানা বলেও এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। মুফিজের ছেলেরা সিএনজি টেক্সীতে গভীররাতে ইয়াবা খালাসের বিষয়টি এলাকার অনেকেই জানেন।

এদিকে প্রশাসনের একটি দপ্তর সূত্র জানায়, বড়ছড়া এলাকার অনেক ইয়াবা কারবারির নাম পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে অনেকেই ইয়াবাসহ আটক হয়েছিল। আবার অনেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিল। সবার তালিকা রয়েছে। যে কোন সময় এসকল মাদক কারবারিকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সুত্রঃ ভয়েস ওয়ার্ল্ড

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!