কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিব ও সাংবাদিক তোফায়েলকে জিজ্ঞাসাবাদ দুদকে

ডেস্ক রিপোর্ট
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানকে টানা তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-পরিচালকের দপ্তরে তাকে এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিকেল তিনটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ চলে।

একই সময়ে কক্সবাজারের জাতীয় এক দৈনিকের বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক তোফায়েল আহমদকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক কর্মকর্তারা।

তাদের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের দুর্নীতি, অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছে দুদক।

দুদকের তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মেয়র মুজিবুর রহমানকে ডাকা হয়েছিল। তিনি এসেছিলেন। প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য দিয়েছেন। তবে তিনি কাগজপত্র সাথে আনেননি। এখন উনার বক্তব্যের স্বপক্ষে কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিক তোফায়েল আহমদকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এলএ অফিসে দালালি ও কমিশন বাণিজ্য করে তোফায়েল শত কোটি টাকার মালিক বনেছেন’।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি র‌্যাবের অভিযানে ঘুষের ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ১৫০ টাকাসহ গ্রেপ্তার হন কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার সার্ভেয়ার ওয়াশিম খান। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুদকের মামলার তদন্ত শুরু হলে গত তিনমাস ধরে কক্সবাজারজুড়ে এলএ শাখার দালালদের মধ্যে আতংক তৈরি হয়। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া ৪ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তাদের স্বীকারোক্তিতে কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, তার ছেলেসহ কক্সবাজারের দু’জন সাংবাদিক, কয়েকজন আইনজীবী, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, পৌর কাউন্সিলরসহ প্রায় অর্ধশত দালালের নাম উঠে আসে।

তাছাড়া আসামিদের স্বীকারোক্তিতে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার বর্তমান ও সাবেক প্রায় ৫৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

দুদক সূত্র মতে, মামলার তদন্তে ইতোমধ্যে মেয়র মুজিবুর রহমান, তার ছেলে হাসান মেহেদী রহমান ও শ্যালক মিজানুর রহমানের ব্যাংক হিসেব থেকে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা জব্দ করে দুদক। তন্মধ্যে চার কোটি টাকা শ্যালক মিজানুর রহমানের ব্যাংক হিসাব থেকে জব্দ করা হয়। তাছাড়া বেশ কয়েকটি জমির দলিলও মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়।

তাছাড়া ওই মামলায় সম্পৃক্ত প্রায় ১৩ জন দালালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিঠি দেয় দুদক। তন্মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হলেও কয়েকজন উপস্থিত হননি। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হাজির হন পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান। তার সাথে আরিফ নামের এক ব্যক্তিসহ সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ ছিলেন।

জিজ্ঞাবাসাদ শেষে মেয়র মুজিবুর রহমানের সাথে একই গাড়িতে চড়ে দুদক কার্যালয় ত্যাগ করেন সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ।

এর আগে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুজিবুর রহমান বলেন, ‘দুদক কর্মকর্তারা কিছু কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেছেন। তখন কাগজপত্র অনুযায়ী আমার বক্তব্য দুদককে উপস্থাপন করবো’।
সুত্রঃ দৈনিক আজাদী

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!