সিনহা হত্যা নিয়ে মন্তব্য করতে চান না এসপি মাসুদ!

সিনহা হত্যা নিয়ে মন্তব্য করতে চান না এসপি মাসুদ!

কক্সবাজারে আলোচিত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ড নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে চান না রাজশাহীর নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেন।

৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে মেরিনড্রাইভ সড়কের চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা। ওই সময় কক্সবাজারের এসপি ছিলেন এবিএম মাসুদ হোসেন।

মেজর সিনহাকে গুলি করার পর বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক লিয়াকত আলী এবং টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার এসপির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তাদের কথোপকথনের অডিও ভাইরাল হয়। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন এসপি মাসুদ।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এসপি মাসুদ হোসেন মামলার তদন্তকাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছিলেন। হত্যা মামলার আসামি বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার ও পরিদর্শক লিয়াকতকে কারাগারে ডিভিশন দেয়ার জন্য চিঠি দেন। ওই মামলায় তাকেও আসামি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানান মামলার বাদী। কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেন।

এরপরই এসপি মাসুদ হোসেনকে বদলি করা হয় রাজশাহীতে। গত ১ অক্টোবর রাজশাহীতে যোগদান করেন এবিএম মাসুদ হোসেন। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে জেলা পুলিশ লাইনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এসপি।

সেখানে সিনহা হত্যার বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন এসপি মাসুদ। সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান ওই ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন কি-না অথবা ঘটনাটি দুঃখজনক কি-না।

এমন প্রশ্নের জবাবে এসপি মাসুদ হোসেন বলেন, এটি প্রকৃতপক্ষে কক্সবাজারের ঘটনা। এটা রাজশাহীর ঘটনা নয়। বিষয়টি তদন্তাধীন। এ অবস্থায় এটা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন, তাই এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না।

এসপি বলেন, আমার মনে হয় প্রশ্ন করার চেয়ে সহযোগিতা করবেন আপনারা, এতে আমাদের কাজ করতে সুবিধা হবে। জনগণ উপকৃত হয়- এমন বিষয়ে তথ্য দেন। এতে আমরা বেশি উপকৃত হব এবং মানুষ উপকৃত হবে।

ক্রসফায়ার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে এসপি মাসুদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে বছরে প্রায় নয় হাজার কোটি টাকার মাদক আসে। এর মধ্যে ৮০ ভাগ, অর্থাৎ সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার মাদক আসে কক্সবাজার হয়ে।

তিনি বলেন, এই যে চক্র আছে, যারা দেশে-বিদেশে অবস্থান করছে, ব্যবসাটা মূলত তারাই নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা চেষ্টা করেছি। আপনাদের এখানেও আছে। আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে চেষ্টা করব। আমাদের সব কাজ হবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে, আইনের মাধ্যমে। আইনের মাধ্যমে যেটা করা দরকার; আমরা সেটা করব।

এসপি বলেন, রাজশাহীর একটা সমস্যা আছে। এতদিন দূর থেকে জেনে এসেছি যে, এখানে একসময় জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছিল। সেটা যদিও এখন নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে এদের বিশ্বাস করা যায় না। এরা যেকোনো সময় আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

মতবিনিময়কালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, মুহাম্মদ মতিউর রহমান সিদ্দিকী, সুমন দে ও ইফতেখায়ের আলম প্রমুখ।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!