‘দেলোয়ার বাহিনী’র ২০ ক্যাডার এখন কোথায়?

‘দেলোয়ার বাহিনী’র ২০ ক্যাডার এখন কোথায়?

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতনের ঘটনার মূল হোতা দেলোয়ারের নামে গড়া বাহিনীর ২০ ক্যাডার এখন লাপাত্তা। তাদের নানা অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ ছিল এলাকার মানুষ। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় টাকার বিনিময়ে টেন্ডারবাজদের সহযোগিতা করা, মাদক ব্যবসা, ইভটিজিং ও বিভিন্ন সেক্টর থেকে চাঁদাবাজি করতো এই ক্যাডাররা। এ চক্রের কাছে গোটা এলাকা ছিল জিম্মি। বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের কিছু সদস্য তাদের এই কাজে সহযোগিতা করতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এই বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে যারা কোনো রকম বিরোধে জড়িয়েছেন তাদের অনেকের জীবনে নেমে এসেছে নানা অত্যাচার। অনেকেই এলাকা ছাড়া হয়েছেন তাদের অত্যাচারে। এছাড়াও তাদের এই অপকর্ম এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রভাবশালীরা এলাকায় তাদের নিজস্ব বলয় বিস্তার করার জন্য এই গ্যাং চক্রের সদস্যদের অর্থের বিনিময়ে লালন-পালন করতেন।

চক্রের সদস্যরা ছিল এলাকায় মূর্তিমান আতঙ্ক। এ চক্রের একাধিক সদস্য আবার এলাকায় ছিল পুলিশের প্রথাগত সোর্স। এতে তারা বিভিন্ন অপরাধে আরও বেপরোয়া হয়ে গিয়েছিল।

ঘটনার ৩২ দিন হয়ে গেলেও ওই নির্যাতিতা নারী থানায় গিয়ে কোনো অভিযোগ করতে পারেননি। কারণ দেলোয়ার বাহিনীর ক্যাডাররা তাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছিল। বিষয়টি কেউ জানলে ওই নারীকে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ পর্যন্ত এই গ্যাং চক্রের ২০ সদস্যের সন্ধান পেয়েছে। ঘটনার পর তারা লাপাত্তা। তাদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে চালানো হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নের খালপাড় এলাকায় ওই নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার, বাদল, কালাম ও আবদুর রহিমসহ ৫ তরুণ। ঘটনার ৩২ দিন পর নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। পরে নির্যাতিতা নারী বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক ২টি মামলা করেন।

র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাদের ধরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে, তারা সংঘবদ্ধভাবে ওই এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড করতো।

এ বিষয়ে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, দেলোয়ার গ্যাং চক্রের অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নোয়াখালীতে ছোট গ্যাং হোক আর বড় গ্যাং হোক কোন গ্যাংয়ের স্থান হবে না।

তিনি বলেন, আমরা মাঠে কাজ করছি। এ চক্রের যতোগুলো সদস্য আছে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, দেলোয়ার গ্যাং বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার বখাটে হওয়ার কারণে বেশিদূর লেখাপড়া করতে পারেনি। সে তার সঙ্গে থাকা সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে এলাকায় গড়ে তোলে বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও ফেসবুকেও তারা সরব ছিল। তাদের ফেসবুকের আইডি ছিল ‘লাল স্টার’ বাহিনী নামে। একসঙ্গে ২০ জন মিলে এই চক্রে মেসেঞ্জারে সংযুক্ত ছিল। এলাকার যেখানে যা কর্মকাণ্ড করতো তারা সেগুলো সবাইকে জানিয়ে একজোট হয়ে ঘটনাস্থলে যেতো। তাদের সংঘবদ্ধতার কারণে এলাকায় কেউ মুখ খুলে কথা বলতে পারতো না।

সূত্র জানায়, এলাকায় একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানো ও বাইক নিয়ে সড়কে দ্রুতগতিতে চলাফেরার কর্মকাণ্ড নিয়মিত আপলোড করতো। ধর্ষণের ঘটনার পর তারা তাদের পূর্বের কর্মকাণ্ডের মতো ফেসবুকে আপলোড দিয়েছে।

সূত্র জানায়, এ চক্রের ২০ জন সদস্য অপকর্মে লিপ্ত ছিল। তাদের নাম এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। তারা হলো ল্যাংড়া সাব্বির, ইয়াবা ডন শাহিন, ছোট সোহেল, মিলন, রহিম, কামাল, হাসিব, আজিম, গুলি আলিম, মোল্লা ইমন, শাহ আলম, সজীব, আসলাম, আলাউদ্দিন, ছোট সাইফুল, ফেনা শরিফ। এদের বয়স সবার ২০ থেকে ৩০-এর মধ্যে। আরো যারা এই গ্যাং সদস্য ছিল তাদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সূত্র মতে, এরা ভাগে ভাগে নানা অপকর্ম করতো। একটি গ্রুপ করতো এলাকায় চাঁদাবাজি, আরেকটি গ্রুপ এলাকায় মাদক ব্যবসা এবং টেন্ডারবাজদের সহযোগিতা করতো। এছাড়াও নৌপথে ইয়াবার কারবারের সঙ্গে ফেনা শরিফের সংযোগ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

সূত্র আরও জানায়, ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসী এ গ্যাং চক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ চক্রের সদস্যদের নাম এবং পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা এবং তাদের অপকর্মের বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।

এই চক্রের অন্যতম হোতা দেলোয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে রিমান্ডে আনলে তার পেছনে কার ইন্ধন রয়েছে এবং তাদের অর্থের উৎসও জানা যাবে, মনে করছেন সূত্রগুলো।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!