‘রাতের অন্ধকারে কলাতলীতে কোটি টাকার সরকারী জমি দখল’ সংবাদের ব্যাখ্যা ও বিবৃতি

‘রাতের অন্ধকারে কলাতলীতে কোটি টাকার সরকারী জমি দখল’ সংবাদের ব্যাখ্যা ও বিবৃতি

কক্সবাজারের কয়েকটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ও অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে (৫ অক্টোবর অনলাইনে ও ৬ অক্টোবর পত্রিকায়) প্রকাশিত ‘রাতের অন্ধকারে কলাতলীতে কোটি টাকার সরকারী জমি দখল’ শিরোনামের সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমি এই মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রনোদিত, প্রতিহিংসাপরায়ন ও লোভের বশবর্তী হয়ে কাল্পনিক নাটক সাজিয়ে প্রকাশ করা সংবাদটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রকাশিত সংবাদটিতে যে সব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা কল্প-কাহিনী। বাস্তবতায় যার কোন ভিত্তি নেই। মূলত প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করতেই একটি সংঘবদ্ধ মহল বেশ কিছুদিন ধরে নানামুখী পাঁয়তারা চালাচ্ছে। যা ইতিমধ্যে নানাভাবে প্রমাণিত।

মুলত নালিশী জমিতে বসবাসরত পরিবারকে গায়ের জোরে উচ্ছেদপূর্বক ওই বসতভিটা দখলে নিতে হারুন নামের চট্টগ্রামের এক ধনকুবেরের টাকার মিশন বাস্তবায়ন করতেই কক্সবাজারের কয়েকটি প্রভাবশালী চক্র আদা-জল খেয়ে মাঠে নেমেছে। তারা মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উদ্ভাস্তু পরিবারের উপর সশস্ত্র হামলার চেষ্টাসহ নানামুখী অপতপরতা শুরু করেছে।

আমরা দেশের প্রচলিত আইন মান্যকারী লোক। আমরা জলবায়ু উদ্ভাস্তু নিরীহ মানুষ। কিন্তু আমাদের দীর্ঘদিনের বসতবাড়ি থেকে আমাদের উচ্ছেদ করার পাঁয়তারা সত্যিই নিন্দনীয়।

প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, মাইক্রোওয়েব স্টেশনের পাদদেশে জমি দখল করে পাহাড় কাটা হচ্ছে এবং একাধিকবার অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। আমাদের বসতবাড়িতে কখনো সরকারী কর্তৃপক্ষ জরিমানা কিংবা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়নি। প্রকৃতপক্ষে মাইক্রোওয়েভ স্টেশনের প্রস্তাবিত চৌহদ্দির বাইরেই আমাদের বসতবাড়ি। যা মোটেও ওই স্টেশনের পাদদেশে নয় এবং আমাদের বসতভিটা সমতল ভূমিতে। এখানে পাহাড় কাটার প্রশ্নটি সম্পূর্ণ অবান্তর।

উল্লেখ্য, মুলত সরকারী জমিতে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণকালে বারবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা ও জরিমানা করা হয়েছে লায়ন মুজিব নামে এক ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে। যার অবস্থান মাইক্রোওয়েভ স্টেশনের পাদদেশে এবং প্রস্তাবিত চৌহদ্দির ভেতরে।

প্রকাশিত সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘দখল প্রক্রিয়া সহজ করতে বসানো হয়েছে নানান সাইনবোর্ডও’! মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ সম্বলিত সাইনবোর্ডে বিস্তারিত উল্লেখ থাকলেও তা প্রকাশ না করে কুরুচিপূর্ণ ও ব্যঙ্গাত্মক ভাবে সংবাদে উপস্থাপন করা মারাত্মক অপরাধের সামিল এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে চরমভাবে হেয় ও অসম্মান করা হয়েছে। যা দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থি।

উল্লেখ্য, আমরা বিগত প্রায় একযুগ ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানের জলবায়ু উদ্ভাস্তু ২০টিরও অধিক পরিবার কলাতলী টিএন্ডটি রোড ও বাইপাস সড়ক সংলগ্ন এলাকায় সরকারী খাস জমিতে (১নং খাস খতিয়ান) বসবাস করে আসছি। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে জলবায়ু উদ্ভাস্তু পরিবারের পক্ষে আমি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট নীতিমালা অনুযায়ী বন্দোবস্তির আবেদন করি। তার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় ২০১৮ সালে মহামান্য হাইকোর্টে রীট পিটিশন দাখিল করা হয়। যার রীট পিটিশন নং-১০৩৫৪/১৮। রীট মামলাটির শুনানীকালে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ আবেদনকৃত ২০টি পরিবারকে নীতিমালা অনুযায়ী ৫ শতক করে মোট এক একর জমি লীজ বন্দোবস্তি দেয়ার আদেশ দেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আদেশটি বাস্তবায়ন করতে তৎকালীন কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেন। কিন্তু তৎকালীন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদেশটি কার্যকর করতে বিলম্ব করায় এবং একই সময় কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থাানে সরকারী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হওয়ায় বসতভিটা রক্ষায় পুণরায় মহামান্য সুপ্রীম কোর্টে কনটেম্পট পিটিশন দায়ের করেন ভুক্তভোগী ২০ পরিবার। কনটেম্পট পিটিশন নং-৬৫/২০। এই পিটিশনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট আবেদনকৃত ২০ পরিবারকে কোন প্রকার উচ্ছেদ না করার জন্য এবং বন্দোবস্তি প্রদানপূর্বক উচ্চ আদালতে ফিরতি রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহশীলদারসহ (সদর) সংশ্লিষ্ট সকলকে। যার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

কিন্তু বিগত ২৭ আগষ্ট স্থানীয় চিহ্নিত ভুমিদস্যু আরিফ, কাদের, বশর মাঝিসহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী আমাদের বসতি এলাকায় অবৈধ প্রবেশ করে উচ্চ আদালতের আদেশ সম্বলিত সাইনবোর্ড ভাংচুর করে নিয়ে যায় এবং বসবাসকারী উদ্ভাস্ত পরিবারের লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। যার প্রেক্ষিতে আমাদের বসতবাড়ি ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় জিডি দায়ের করি। জিডি নং-১৩১৮। এর প্রেক্ষিতে সদর মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একাধিকবার তদন্ত করে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দায়ের করেন, যা বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত কক্সবাজারে বিচারাধীন এবং ৬ অক্টোবর অভিযুক্তদের প্রতি কারণ দর্শানোর আদেশ প্রচারিত হয়েছে।

এসব অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে ওই বসতবাড়িগুলো দখলে নিতে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া চালিয়ে যাওয়ায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ৩ অক্টোবর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় পুণরায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

অন্যদিকে একইদিন শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে ১৫/২০ জনের সশস্ত্র একটি দল আমাদের উদ্বাস্তু পরিবার গুলোর বসতভিটা দখলে নিতে ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। কক্সবাজার পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মোর্শেদ আহমেদ বাবু তাদের পাঠিয়েছেন বলেও জানান তারা। এসময় স্থানীয়দের বাধার মুখে এবং পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সরে পড়ে।

তার পরবর্তীতে ৪ অক্টোবর জনৈক হারুন নামে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে অভিযোগকারী দেখিয়ে ১২নং ওয়ার্ড পৌর কাউন্সিলর স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ উদ্ভাস্তু পরিবারের ৩ সদস্যের নামে পাঠানো হয়। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকা বিষয় নিয়ে পৌর কাউন্সিলর স্বাক্ষরিত নোটিশ পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে আইনজীবী কর্তৃক ৫ অক্টোবর ১২নং পৌর কাউন্সিলর কাজী মোর্শেদ আহমেদ বাবু ও পৌর মেয়র বরাবর ফিরতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।

এতকিছুর পরও সঠিক তথ্যগুলো ধামাচাপা দিয়ে উদ্ভাস্তু পরিবারের কারো কোন বক্তব্য না নিয়ে কাল্পনিক সংবাদ পরিবেশন করা সাংবাদিকতা নীতিমালা বিরোধী।

মুলত প্রশাসনসহ সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে এবং উদ্ভাস্তু পরিবারের বসতভিটা দখলে নিতেই একটি মহল সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সু-কৌশলে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, সিন্ডিকেট সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে।

আমরা এই সংবাদ ও চক্রান্তকারিদের অপকর্মের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। পাশাপাশি প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

বিবৃতি প্রদানকারী
মোহাম্মদ আয়াজ
টিএন্ডটি রোড, কলাতলী, ১২নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!