কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেল ‘ধর্ষিতা’, কারাগারে অভিযুক্ত যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ‘কথিত’ ধর্ষণের শিকার সেই তরুণী সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) থেকে পালিয়েছেন। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

তবে এই ঘটনায় আটক সৈকতের চেয়ারছাতা পরিচালনাকারি ওসমান সরওয়ারকে শুক্রবার (২ অক্টোবর) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এদিকে ওসমানের ছোট ভাই মো. রাশেদ এই ধর্ষণ মামলাটি সাজানো বলে দাবি করেছেন। তার দাবি, কোনো ধরণের তদন্ত ছাড়াই মামলা দায়ের করে ওসমানকে আটকের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাশেদ সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে মেয়েটি সৈকত এলাকায় চেয়ারে বসা ছিল। রাত যখন ১১টা তখন চেয়ারছাতা বন্ধ করার সময়। ওই সময়ে মেয়েটিকে চলে যাওয়ার জন্য বলে। এমনকি ওসমান বিষয়টি ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদেরও জানায়। কিন্তু পরেরদিন বৃহস্পতিবার দেখা গেছে পুলিশ গিয়ে তার ভাইকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

রাশেদ বলেন, যদি মেয়েটি আসলেই ধর্ষণের শিকার হতো তাহলে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছে কেন?

তার প্রশ্ন, ১৮ বছরের একটা মেয়েকে জোর করে একজনে কিভাবে ধর্ষণ করতে পারে?

তিনি মনে করেন, বিষয়টি সৈকত এলাকায় গিয়ে তদন্ত করলে সত্যটা জানা যাবে। কোনো কিছু তদন্ত না করেই এবং মেয়েটি কে বা তার পরিচয় কি এসব তদন্ত না করেই হুট করে মামলা দিয়ে আমার ভাইকে আটক করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে ওই তরুণীর নাম দেয়া হয়েছে সুমি আক্তার মুন্নি (১৮)। পিতা জাফর আলম। ঠিকানা চকরিয়া উপজেলায়। এই ঘটনায় একমাত্র ওসমান সরওয়ারকে আসামি করা হয়েছে। তবে ওই তরুনীর আসল নাম-ঠিকানা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে জনৈক ব্যক্তির পরিচয় হয়। এ পরিচয়ের সূত্র ধরে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে চকরিয়া থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকায় ওই ব্যক্তির সাথে দেখা করতে আসেন তিনি। পরে কক্সবাজার সৈকতে পৌঁছার পর থেকে প্রেমিকের মোবাইল ফোন বন্ধ পান। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর রাত ঘনিয়ে এলে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট এলাকায় পর্যটক ছাতা (কিটকট) ভাড়া নেন। রাতের একপর্যায়ে গ্রেপ্তারকৃত ওসমান নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়ার কথা জানিয়ে বিজিবির উর্মি রেস্তোরার পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন।

এমন ঘটনা উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে ওই তরুণী কক্সবাজার সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর দুপুরে সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে ওসমান সরওয়ারকে (২৬) আটক করে সদর থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, ওসমান কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট এলাকায় পর্যটক ছাতা (কিটকট) পরিচালনাকারী এবং শহরের কলাতলী সংলগ্ন আদর্শগ্রাম এলাকার আবুল বশরের ছেলে। ওসমানকে আটকের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কক্সবাজার সদর থানার এসআই পিন্টু কুমার দাশ ওই তরুণীকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করান।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শাহীন মোহাম্মদ আব্দুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ ওই তরুণীকে ওসিসিতে নিয়ে এসে ভর্তি করান। এর কিছুক্ষণ পরে ওসিসি থেকে তরুণীকে গাইনী ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। গাইনী ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার পর অপেক্ষমান কিছু সময়ের মধ্যে উধাও হয়ে যায় সেই তরুণী। এরপর থেকে পুলিশ সদস্য ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনেক খুঁজেও তাকে পায়নি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিন্টু কুমার দাশ সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার পর ওই তরুণীকে নিজে গিয়ে ওসিসিতে ভর্তি করাই। এখনো ওসিসিতে আছে।

ওসিসি থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত নন জানিয়ে বলেন, এইমাত্র শুনলাম পালানোর বিষয়টি। তাছাড়া আমি মামলার আইও। সে অনুসারে আসামিকে আমি আটক করে ভিকটিমকে হাসপাতালে ভর্তি করাই।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত ওসমানকে শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনায় ওসমান একজনই আসামি বলে উল্লেখ করেন এসআই পিন্টু। তিনি বলেন, অভিযোগ থেকে শুরু করে মামলা দায়ের করা পর্যন্ত ওই তরুণীর সাথে কেউ ছিল না। এমনকি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় কোনো আত্মীয় স্বজন আসেনি তার।