ধর্ষণের কথা স্বীকার করলো সাইফুর-অর্জুন, তাদের সহায়তা করে রবিউল

ধর্ষণের কথা স্বীকার করলো সাইফুর-অর্জুন, তাদের সহায়তা করে রবিউল

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণের মামলায় রিমান্ডে থাকা আটজনের মধ্যে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানসহ ছাত্রলীগকর্মী রবিউল ইসলাম ও অর্জুন লস্কর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে কড়া পুলিশ পাহারায় আসামিদের আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর বিকেল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অর্জুন ও সাইফুর রহমানের জবানবন্দি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ জিয়াদুর রহমান। এছাড়া মামলার পাঁচ নম্বর আসামি রবিউলের জবানবন্দি গ্রহণ করেন মহানগর হাকিম দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. সাইফুর রহমান।

প্রথমে গণধর্ষণের ঘটনায় নিজের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন মামলার চার নম্বর আসামি অর্জুন লস্কর। তিনি একবার ওই নারীকে ধর্ষণ করেন বলে জানান।

এরপর ঘটনার সঙ্গে নিজে জড়িত থাকার কথা জানিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সাইফুরের জবানবন্দি গ্রহণ করেন বিচারক জিয়াদুর রহমান।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্কর গৃহবধূকে একবার করে ধর্ষণ করেন বলে আদালতে স্বীকার করেন। এছাড়া রবিউল ইসলাম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, তিনি সরাসরি ধর্ষণে অংশ নেননি। তবে তিনি দুজনকে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় বলে স্বীকার করেন।

সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিট থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত পৌনে ১১টা) মহানগর হাকিম দ্বিতীয় আদালতের বিচারকের এজলাসে আলোচিত এ মামলার পাঁচ নম্বর আসামি ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এমসি কলেজ শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য বলেন, রিমান্ড শেষে শুক্রবার বিকেলে সাইফুর, অর্জুন ও রবিউলকে আদালতে হাজির করানো হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে আদালতের বিচারক তাদের জবানবন্দি রেকর্ড (নথিভুক্ত) করার পর তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

পুলিশ পরিদর্শক বলেন, আগামীকাল শনিবার রিমান্ড শেষে আরও তিনজনকে আদালতে হাজির করা হবে।

সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য বুষণ চৌধুরী বলেন, ‌আসামি সাইফুর, অর্জুন ও রবিউল স্বেচ্ছায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গণধর্ষণ মামলায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও চার নম্বর আসামি অর্জুন লস্কর গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এবং একইদিন বিকেলে মামলার পাঁচ নম্বর আসামি রবিউল ইসলামকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসের সামনে প্রাইভেটকারের মধ্যেই পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আটকে রাখে দুইজন।

এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়।

গণধর্ষণে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী।

এ ঘটনায় র‌্যাব ও পুলিশ এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ সন্দেহভাজন আরও দুইজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত মোট আটজনের সবাইকে ধাপে ধাপে পাঁচদিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এর মধ্যে তিনজন আজ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!