এড. খালেকুজ্জামানের ১৯তম শাহাদাত বার্ষিকী ২৮ সেপ্টেম্বর

Khalequzzaman- My dear student and colleague

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের ঈর্ষনীয় জনপ্রিয় এক নেতার নাম এড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান। তিনি ছিলেন কক্সবাজার সদর-রামুর দুইবারের সাবেক এমপি। আজ সেই এড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানের ১৯তম শাহাদাত বার্ষিকী।

২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর রামুর বাইপাস চত্তরে হাজার হাজার মানুষের এক নির্বাচনী জনসভার আগমুহূর্তে তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন।

তাঁর ইন্তেকালের ২০তম বর্ষেও সদর-রামুুর মানুষ তাঁকে যেভাবে স্মরণ করছেন এতে করে মনে হচ্ছে জনগণের ভালবাসা সিক্ত এড. খালেকুজ্জামান আজো বেঁচে আছেন তাদের মাঝে।

২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচন পর্যন্ত বেঁচে থাকলে হয়তো ৩য় বারের মতো কক্সবাজার সদর-রামুর এমপি হতেন এড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান।

ইন্তেকালের ১৯ বছর পর আজও রামু-সদরের জনগণ শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় স্মরণ করছেন মরহুম এড. খালেকুজ্জামানকে। নানা আয়োজনের মাধ্যমে স্মরণ করা হচ্ছে তাঁকে।

রামু-সদরের বিভিন্ন মসজিদে হচ্ছে তাঁর জন্য দোয়া মাহফিল। স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করছে তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিদগ্ধ লেখকদের তথ্যসমৃদ্ধ লেখা।

খতমে কোরআন, এতিমখানায় ভাল খাবার সরবরাহ ও দোয়া মাহফিলে স্মরণ করা হচ্ছে প্রিয় নেতা খালেকুজ্জামানকে। এছাড়াও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কক্সবাজার-রামুর পল্লী চিকিৎসকদের মাঝে বিতরণ করা হয় মাস্ক ও হ্যান্ড সেনিটাইজার।

এতে বলা যায়, ’এড খালেকুজ্জামান বেঁচে আছেন জনতার মাঝে’।

এড. খালেকুজ্জামানের বর্ণাঢ্য জীবন

মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান ১৯৫৩ সালের ১৬ জানুয়ারী মৌলভী ফরিদ আহমদ ও বেগম রিজিয়া আহমদের ঐরসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম মৌলভী ফরিদ আহমদ ছিলেন সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য ও ১৯৫৭ সালে গঠিত আইআই চুন্দ্রীগড় মন্ত্রীসভার কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রী।

২০০১ সালের ১ অক্টোবরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে ২৮ সেপ্টেম্বর রামু বাইপাসের বর্তমান খালেকুজ্জামন চত্বরে লাখো মানুষের জনসভায় হেসে হেসেই তিনি দুনিয়া থেকে চলে যান। তখন তিনি ছিলেন তৎকালীন ৪ দলীয় জোটের কক্সবাজার সদর-রামু আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী।

প্রচারবিমুখ এড. খালেকুজ্জামান ছিলেন অত্যন্ত ধীশক্তির অধিকারী। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাঁর মেধার সুস্পষ্ট স্বাক্ষর রেখে গেছেন তিনি। মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক পাস করেন অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের Institute of Business Administration থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে পাস করেন MBA, IUBAT এর একজন সফল শিক্ষক হিসেবে তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রদ্ধা ও প্রশংসা অর্জন করেছেন। LLB পরীক্ষাতেও তিনি তাঁর প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন।

১৯৯৬ সালে কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি সাড়া জাগিয়েছিলেন পার্লামেন্টে। স্থানীয় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদের উন্নয়নে রেখে গেছেন এক অনবদ্য অবদান। রামু কলেজ,কক্সবাজার সিটি কলেজ ও ঈদগাঁও রশীদ আহমদ কলেজ, রামু হাই স্কুল, নাদেরুজ্জামান হাইস্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে তিনি পালন করেছেন প্রশংসনীয় ভূমিকা।

কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষা প্রবর্তনের জন্য তিনি প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে উদ্বুদ্ধ করেছেন কর্তৃপক্ষকে। আর তাঁর সে মহতী উদ্যোগের সুফল ভোগ করছেন এলাকাবাসী। আজ বেশ কিছু স্কুল-কলেজে কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষা কোর্স চালু করা হয়েছে।

তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত মেধাবী ও সফল কম্পিউটার বিজ্ঞানী। বাংলাদেশে কম্পিউটার শিক্ষার বিস্তার তথা কম্পিউটার এর ব্যাপক ব্যবহার জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অবকাঠামো সৃষ্টিতেও তাঁর ছিল প্রবল আকাঙ্খা। একজন খ্যাতিমান আইনজীবী পেশাগত জীবনে বিনাপারিশ্রমিকে তিনি অনেক অসহায় মানুষের মামলা পরিচালনা করে তাদের কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করে গেছেন।

সদালাপী, নিরহংকার, সহজ সরল এক দুর্লভ ব্যক্তিত্ব ছিলেন খালেকুজ্জামান। মানুষকে সহজে আপন করে নেবার এক সহজাত ক্ষমতা ছিল তাঁর।