প্রবাসী তৈয়ব খুনে মামলা করায় উল্টো মিথ্যা মামলার অপচেষ্টা, নিরাপত্তাহীন বাদী ও স্বজনরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রংগীখালীর প্রবাসী মো. তৈয়ব হত্যার ঘটনায় মামলা হলেও উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছেন মামলার বাদী-সাক্ষী, তার পরিবার ও স্বজনরা। নিরাপত্তাহীন বাদীর পরিবারের বিরুদ্ধে উল্টো মামলার পাঁয়তারা করছে হত্যাকারিরা। প্রকাশ্যে এলাকায় এসে বাদীর পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার জন্য অপচেষ্টার অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী।

বাদী দুদু মিয়া সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন। তিনি প্রশাসনের সহযোগিতাও কামনা করেছেন।

বাদী দুদু মিয়া, ছেলে জাকির হোসেন ও তৈয়বের মা ছলেমা খাতুন কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, তৈয়বকে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে খুন করার পর এবার তারা আমাদের ইয়াবা ও অস্ত্র দিয়ে ফাঁসাবে এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

বাদী বলেন, ‘ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘুরাতে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে মামলার আসামী লুৎফুর রহমানের একটি পরিত্যক্ত গোয়াল ঘর পুড়িয়ে দিয়ে মামলা সাজানোর কল্পকাহিনী করছে। এছাড়া মামলার ১নং আসামি গিয়াস উদ্দিন তৈয়বকে হত্যা করার আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন মর্মে কাগজপত্র তৈরি করেও মামলা করার পাঁয়তারা করে আসছে।’

তিনি বলেন, আমার ছেলে ৯ বছর মালেশিয়ায় ছিলেন। গত বছর দেশে আসার পর তাদের অব্যাহত হুমকি ধমকি এবং চাঁদা দাবির কারণে অনেকটা ঘরছাড়া ছিল। অবশেষ তারা আমার ছেলেকে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে গুলি করে হত্যা করে।’

গত ২১ সেপ্টেম্বর হ্নীলা রংগীখালী স্কুলপাড়া মসজিদের পাশে প্রকাশ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসি গিয়াস বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে ঘটনাস্থলে মারা যায় মো. তৈয়ব। ওইদিন বিকাল সোয়া ৩টার দিকে রংগীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মসজিদ সংলগ্ন দোকানে বসা অবস্থায় স্থানীয় গুরা মিয়ার ছেলে গিয়াস উদ্দিন ওরফে দালাল গিয়াসের নেত্বত্বে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে গুলিবর্ষণ করে মো. তৈয়বকে নৃশংসভাবে খুন করে।

এ ঘটনায় হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-৬০, টেকনাফ মডেল থানা। জিআর-৮০০/২০।

মামলায় আসামি করা হয়েছে ২৭ জনকে। আসামীরা হলো ১নং আসামী গিয়াস উদ্দিন, ২নং ঊলুচামরী কোনাপাড়ার মৃত রুহুল আমিনের ছেলে আনোয়ার হোছন প্রকাশ লেড়াইয়া, এরশাদ উল্লাহর ছেলে লুৎফুর রহমান, গোরামিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান প্রকাশ বাগাইস্সা, রেজাউল করিম প্রকাশ পুতিয়া, নাছির উদ্দিন, বোরহান উদ্দিন প্রকাশ আম্মুনি, ছমি উদ্দিনের ছেলে গোরা মিয়া, এরশাদ উল্লাহর ছেলে আবদুর রহিম, আবদুর রহমান বাগু, মৃত ইসমাঈলের ছেলে ইদ্রিস, মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে সরওয়ার কামাল, মৃত কবির আহমদের ছেলে বেলাল উদ্দিন, হুমায়ুন কবির, নজির আহমদের ছেলে শাকের আহমদ, মুফিজুর রহমান, মৃত আবদুর রশিদের ছেলে নুরুন্নবী, মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে নুরুল আলম, কালাইয়া বৈদ্যের ছেলে রশিদ, তজুদ্দিনের ছেলে আমির হোসেন, আবুল মন্জুরের ছেলে আবদুর রহিম, মৃত আবদু সাত্তারের ছেলে সোনা মিয়া, নুরুল ইসলাম প্রকাশ মজুনার ছেলে মোহাম্মদ হোছন প্রকাশ বদাইয়া, কোনারপাড়ার মৃত আবুল হোছনের ছেলে নুরুল আমিন ডাকাত, গোরা মিয়ার ছেলে আবছার উদ্দিন, সালমান। অজ্ঞাত রয়েছে ৫/৬ জন।

মামলা করার পর আসামীরা মামলা তুলে নিতে নানান ধরণের হুমকি ছাড়াও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হবে বলেও অভিযোগ করেছেন হত্যা মামলার বাদী।

বাদী জানান, আসামিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় মামলার বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এক্ষেত্রে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন বাদী দুদু মিয়া। তাহলে হয়তো তিনি তাঁর ছেলে হত্যার বিচার পেতে পারেন। আর নাহয় উল্টো হুমকি-ধমকি এবং মামলার শিকার হয়ে হয়রানির আশংকা রয়েছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!