দুই ঘন্টা ‘রণক্ষেত্র’ নুনিয়াছড়া

  • বিশেষ প্রতিবেদক
    কক্সবাজার ভিশন ডটকম

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো ২ ঘন্টা ধরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া এলাকা। ওই এলাকার একটি পরিবারের সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে নতুন বাহারছড়া এলাকার একটি সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই সময় দুইপক্ষের মধ্যে ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলেও নতুন বাহারছড়া এলাকার সশস্ত্র গ্রুপটি প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেয়। পরে কক্সবাজার থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলায় আহতরা দাবি করেছেন, এই ঘটনায় ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

তাদের মতে, আহতদের মধ্যে কয়েকজন হলেন মুফিজুর রহমান, মোজাম্মেল হক, নুরজাহান, আবদুস ছালাম, রিফা আক্তার, আয়েশা বেগম, জিসান, ইমন, মুরাদ, মুন্নি আক্তার, মোঃ সেলিম। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের উত্তর নুনিয়াছড়া বড় কবরস্থান এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।

তবে রাত ৮টা পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত কেউ আটক হননি।

এলাকাবাসি ও সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্থ একটি পক্ষ ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে দাবি করছেন, সংঘর্ষ চলাকালে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় দুই নেতাকে হাতে অস্ত্র উচিয়ে গুলিবর্ষণ করতে দেখা গেছে। এই ঘটনায় দুই এলাকার বাসিন্দারা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় একাধিক সুত্র জানিয়েছেন, স্থানীয় নুরুল আবছার ও মোহাম্মদ আলীর মধ্যে জমির বিরোধের সূত্র ধরে এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনার জন্য পরস্পর পরস্পরকে দায়ী করছে।

ঘটনায় আহত মুফিজুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, কোস্টগার্ডের মাঝি হিসেবে পরিচিত মোঃ জামাল, আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম, ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি রিদুয়ান আলী সাজিন ও গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।

এ সময় খোকা ওরফে ভেট্টা, কায়সার, আবু হেলা, শাহাব উদ্দিনসহ অন্তত ৫০ জন সশস্ত্র অবস্থায় ছিল বলে তাদের দাবি।

স্থানীয় কাউন্সিলর মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুইপক্ষের মারমুখী অবস্থানের কারণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মাসুম খান সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সেই সঙ্গে দিনদুপুরে অস্ত্র ব্যবহারকারিদের বিষয়ে তথ্য নেয়া হচ্ছে বলেও জানান মাসুম খান।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!