ছেলেসহ লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন সেই মুয়াজ্জিন

ছেলেসহ লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন সেই মুয়াজ্জিন

মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে বিস্ফোরণে বাবা-ছেলের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত হয়েছেন সেই মসজিদের মুয়াজ্জিন ও ওয়াক্তিয়া নামাজের ইমাম মাওলানা দেলোয়ার হোসেন ভুঁইয়া এবং তার ছেলে জোনায়েদ হোসেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে।

মাওলানা দেলোয়ার হোসেন বদরপুর মধ্যপাড়ার মৃত হাফেজ মাওলানা শফিকুর রহমানের ছেলে। দেলোয়ার হোসেন ও তার ছেলে জোনায়েদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমুল হাছান ভূঁইয়া বাছির। নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের অগ্নিদগ্ধ বাবা এবং ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাফেজ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে জোনায়েদ হোসেন নিউ খানপুর হাসপাতাল রোড কাওমি মাদরাসার ৭ম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। ঘটনার সময় বাবার সঙ্গে নামাজ পড়তে মসজিদে যায় সে।

নিহত হাফেজ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া কালির বাজার আমলাপাড়া হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে লেখাপড়া শেষ করে বায়তুস সালাত জামে মসজিদে প্রায় ২৫ বছর ধরে মুয়াজ্জিন ও ওয়াক্তিয়া নামাজের ইমামতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি তার দুই ছেলে মাদরাসা ছাত্র জোনায়েদ হোসেন ও হাফেজ জাকারিয়াকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জেই থাকতেন।

দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার তিন মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১৮), সুরাইয়া আক্তার (৮) ও ফাইজা আক্তারকে (৩) নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। বড় মেয়ে সুমাইয়া নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া সিনিয়র মাদরাসায় আলীম ২য় বর্ষে অধ্যায়নরত, ২য় মেয়ে সুরাইয়া একই মাদ্রাসার ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী।

দেলোয়ার হোসেনের গ্রামের বাড়িতে ভিটে-মাটি ছাড়া কিছুই নেই।

নিহতের স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার বলেন, ঘটনার কিছুদিন আগে আমার স্বামী মোবাইলে বলেন ‘আমার এখানে ভালো লাগছে না। ২-১ দিনের মধ্যে চাকরি ছেড়ে একেবারে বাড়ি চলে আসবো।’ সেই তিনি শনিবার রাতে বাড়িতে এলেনই, কিন্তু লাশ হয়ে।

দেলোয়ার হোসেনের শ্যালক জোবায়ের হোসেন বলেন, দেলোয়ার হোসেন ও তার ছেলে জোনায়েদ হোসেনের মরদেহ গ্রহণ করে নারায়ণগঞ্জের সেই মসজিদ এলাকায় প্রথম নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শনিবার রাতে নাঙ্গলকোটের ঢালুয়ার বদরপুরে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে।

ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমুল হাছান ভূঁইয়া বাছির বলেন, হাফেজ দেলোয়ার হোসেন ও তার ছেলের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করে যাবো। এছাড়াও তিনি অসহায় পরিবারটিকে সহায়তা করার জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লামইয়া সাইফুল বলেন, দেলোয়ার হোসেনের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। ‍

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!