ভাসানচরে গেলেন দুই নারীসহ ৪০ রোহিঙ্গা নেতা

ভাসানচরে গেলেন দুই নারীসহ ৪০ রোহিঙ্গা নেতা

নুরুল হক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে তৈরি করা আবাসন ব্যবস্থা বসবাসের উপযোগী কিনা তা দেখতে যাচ্ছেন কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গা নেতারা। শরণার্থী শিবির থেকে কমপক্ষে এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ওই দ্বীপে পাঠানোর অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার পরে দুইজন নারীসহ ৪০ জন রোহিঙ্গা নেতা ভাসানচরের উদ্দেশ্যে উখিয়ার কুতুপালং ট্রানজিট শরণার্থী শিবির থেকে রওনা দেন। এর আগে শুক্রবার রাতে বিভিন্ন শিবিরের এসকল রোহিঙ্গা নেতারা উখিয়ায় পৌঁছেছিলেন।

তবে ভাসানচর দেখতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল রওনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মাহবুব আলম তালুকদার।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভাসানচরে যাচ্ছেন। সরকারের আশা, রোহিঙ্গা নেতারা দেখে এসে অন্যদের বোঝালে ভাসানচর যেতে রাজি হবেন শরণার্থীরা। তবে এই দলের সাথে রোহিঙ্গাদের সহায়তাকারী জাতিসংঘের কোনো সংস্থার প্রতিনিধি বা গণমাধ্যমর্কীরা থাকছেন না।

তবে আগে থেকে ভাসানচরে আরআরআরসি কার্যালয়ের তিন কর্মকর্তা অবস্থান করছেন।

জাতিসংঘসহ শরণার্থীদের মানবিক সেবাদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও কমপক্ষে এক লাখ শরণার্থীকে ওই দ্বীপে স্থানান্তর করার লক্ষ্যে চলমান সরকারি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সেনাবাহিনীর রামু-১০ পদাতিক ডিভিশনের মুখপাত্র মেজর ওমর ফারুক কক্সবাজার ভিশন ডটকম বলেছেন, শনিবার ভোরে ৪০ জনের রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধি দল ভাসানচরের রওয়ানা দিয়েছেন। তারা মঙ্গলবার ফিরবেন। তবে ভাসানচরের বসবাস উপযোগিতা দেখতে রোহিঙ্গা নেতাদের আগস্টের শুরুতে সেখানে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা শুক্রবার রাতে উখিয়ায় ছিল, সেখান থেকে শনিবার ভোরে তাঁদের সড়কপথে চট্টগ্রাম হয়ে জাহাজে করে তাঁদেরকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে।”

শুক্রবার টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রোহিঙ্গা নেতারা তিন চারদিনের প্রস্তুতি নিয়ে ক্যাম্প ইনচার্জের (সিআইসি) কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর সেনা প্রহরায় মাইক্রোবাসে করে উখিয়া রওয়ানা দিয়েছেন। প্রতিনিধিরা উখিয়ায় পৌঁছানোর পর শুক্রবার রাতেই তাঁদের সাথে দেখা করে আরআরআরসি মাহবুব আলম তালুকদার ভাসানচরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

‘শুক্রবার রাতে তাঁদের উখিয়ায় কুতুপালংয়ের ট্রানজিট পয়েন্টে রাত কাটে। সেখান থেকে শনিবার ভোরে বাসে করে তারা ভাসানচরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন’, জানিয়েছেন জাদিমুরা ও শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিআইসি) মোহাম্মদ খালিদ হোসেন।

আগেই সকল প্রতিনিধির করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে জানিয়ে টেকনাফ জাদিমুরা শরণার্থী শিবিরের হেড মাঝি মো. কালাম বলেন, ‘শুক্রবার রওয়ানা দেবার আগে সবার সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষাও হয়েছে। শনিবার ভোরে দুই নারীসহ ৪০ জনের একটি দল ভাসানচরের উদ্দেশ্যে উখিয়া থেকে রওয়ানা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে হয়তো রাতের মধ্যে তারা সেখানে পৌছার কথা রয়েছে।’

শরণার্থী শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন-১৬) পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হেমায়েতুল ইসলাম কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘পরিদর্শনের পর রোহিঙ্গা নেতারা ভাসানচরে যাওয়ার স্বপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গত জুলাইর শেষ দিকে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদলের তালিকা তৈরি করা হয়েছিল।’

টেকনাফের শালবন রোহিঙ্গা শিবিরের হেড মাঝি মো. নুর বলেন, ভাসানচর যদি বসবাসের উপযুক্ত হয় তবে অবশ্যই রোহিঙ্গারা সেখানে যাবে। আমরা স্বচক্ষে দেখে এলে সবাইকে বোঝাতে পারব। সেই উদ্দেশ্যে সেখানে যাওয়া।

বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে গত মে মাসে ভাসানচরে নিয়ে যায় সরকার।

জুলাইয়ে ইউএনএইচসিআর-এর কক্সবাজার কার্যালয়ের মুখপাত্র লুইস ডোনোভান বলেছিলেন, ওই শরণার্থীদের জন্য সেখানে জাতিসংঘের প্রবেশাধিকার এখন খুবই জরুরি।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!