সদরে ‘ভূঁয়া’ কাজী নছির শাহ, মামলা করলেন কাজী বেলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার সদর মডেল থানায় সাবেক নিকাহ ও তালাক রেজিষ্টার নছির শাহ মোহাম্মদ ইকবালের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন কাজী বেলাল উদ্দিন।

১ সেপ্টেম্বর বিকালে মামলাটি দায়ের করা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনকে আসামী করা হয়েছে।

আসামীদের ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২৮ আগস্ট বিকাল ৪টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার কলাতলীস্থ হোটেল ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্টে সাবেক কাজী নছির শাহ মোহাম্মদ ইকবাল জনৈক হাশেম ও সোমার নিকাহ রেজিষ্টার করছেন- এমন সংবাদের ভিত্তিতে কর্মরত স্থানীয় নিকাহ ও তালাক রেজিষ্টার বেলাল উদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। ওই সময় কথিত কাজী নছির শাহ মোহাম্মদ ইকবাল উল্লেখিত যুগলের বিবাহ রেজিষ্ট্রি করছিলেন।

এদিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১১ ও ১২ ওয়ার্ডের কাজী বেলাল তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি ঝিলংজা ইউনিয়নের কাজী বলে দাবি করেন। পরে তিনি সু-কৌশলে নিকাহ রেজিষ্টারের বালাম বই রেখে পালিয়ে যান। যার বালাম বই নাম্বার ৯/২০২০।

এ ঘটনায় কাজী বেলাল উদ্দিন নিরূপায় হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (অস্থায়ী) মাসুম খান।

মামলার এজাহারে কাজী বেলাল উদ্দিন উল্লেখ করেন, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নে নিকাহ ও তালাক রেজিষ্টার পদটি শূণ্য রয়েছে। এ সুবাদে আসামী নছির শাহ একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে নিকাহ ও তালাক রেজিষ্টারের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে বিবাহ রেজিষ্ট্রি করে আসছেন।

তার দাবি, যা সম্পূর্ণ বেআইনী, প্রতারণামূলক, বিশ্বাস ভঙ্গের সামিল এবং অপরাধমূলক কাজ।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে কক্সবাজার সদর উপজেলার ৬, ৭ ও ১০নং ইউনিয়নে নিকাহ রেজিষ্টার শূণ্য রয়েছে। অন্য ৭ ইউনিয়নে বৈধ আইনানুগ পদ্ধতিতে নিকাহ রেজিষ্টারে কর্মরত কাজীরা দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এ নিয়ে বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার সমিতি কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পেপার পত্রিকায় ভূঁয়া কাজীর ইতিহাস জেনে আসছিলাম। বর্তমান সময় তথ্য-প্রযুক্তির সময়। অভিভাবকদের জানতে হবে আসল কাজী কারা।

তিনি জানান, সম্প্রতি কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ভূঁয়া কাজীর দৌরাত্ম দেখা যাচ্ছে। যাদের কারণে বর ও কনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভূঁয়া রেজিষ্ট্রেশনের কারণে তাদের প্রকৃত অধিকার হারাচ্ছেন। তারা পারিবারিক, সামাজিক ও আইনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারে। বর্তমান সময়ে সত্যিকার নিকাহ রেজিস্ট্রার যাচাই-বাছাই করে বিবাহ নিবন্ধন করা জরুরী।

ভূঁয়া কাজীদের বিষয় তিনি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ওই আসামী দীর্ঘ বছর ধরে নিকাহ রেজিষ্টার কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!