মা-মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনাস্থলে তদন্ত টিম, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি

মা-মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনাস্থলে তদন্ত টিম, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

সারাদেশে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তোলা কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাধীন হারবাং এলাকার গরু চুরির অপবাদে মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে স্থানীয় লোকজন মারধরের পর দ্বিতীয় দফায় ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরান পরিষদে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ও মারধরের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর টনক নড়েছে প্রশাসনের।

ঘটনার পর রোববার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের নির্দেশে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার পরিচালক (উপ-সচিব) শ্রাবস্তী রায়কে প্রধান করা হয়। অন্য দুই সদস্য হলেন চকরিয়া সহকারি কমিশনার (ভূমি) তানভীর হোসেন ও হারবাং ইউনিয়নের একজন ট্যাগ অফিসার।

পরেরদিন সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তদন্ত টিমের প্রধান স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) শ্রাবস্তী রায়ের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম হারবাং ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য চকরিয়ার সহকারি কমিশনার (ভূমি) তানভীর হোসেন বলেন, ঘটনার সময় উপস্থিত মেম্বার-চৌকিদারদের জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। এছাড়াও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বেশ কয়েকজনের বক্তব্য নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে আর কিছু বলা যাচ্ছে না। শীঘ্রই তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে পাঠানো হবে।

অপরদিকে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজের নেতৃত্বে আরেকটি তদন্ত কমিটি মাঠে কাজ করছে। রোববার বিকেলে ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজ সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলেছেন। তবে তিনিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে গরু চুরির অপবাদে মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে স্থানীয় লোকজন। পরে তাদের রশি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে সড়কে ঘুরিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরান পরিষদে নিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় দফায় মারধর করেন। এতে তারা অসুস্থ হয়ে যান। এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করেন।

পরে গরু চুরির অভিযোগ এনে স্থানীয় বাসিন্দা মাষ্টার মাহমুদুল হক শুক্রবার রাতে বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরের দিন শনিবার সকালে আসামীদের আদালতে উপস্থিত করা হলে মামলার প্রেক্ষিতে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় সোমবার সকালে চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাজিব কুমার দেব’র কাছে আসামীদের পক্ষে জামিন আবেদন করেন অ্যাডভোকেট ইলিয়াছ আরিফের নেতৃত্বে একদল আইনজীবী। এসময় আদালত পাঁচ আসামীর মধ্যে মা ও দুই মেয়ের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!