এবার রোহিঙ্গা রমণীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

ঈদের দিন থানায় নারী পুলিশের মৃত্যু

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজারের সীমান্ত শহর টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই বেরিয়ে আসছে টেকনাফ ও উখিয়ায় পুলিশ সদস্যদের নানা অপকর্মের কাহিনী বেরিয়ে আসছে।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ পুলিশ সদস্যদের নানা অপকর্মের মধ্যে মাদক নির্মূলের নামে ‘প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে আতাঁত’ করে সাধারণ মানুষকে ‘ক্রসফায়ার’ এবং মিথ্যা মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে বড় অংকের চাঁদা আদায় করার ঘটনাই বেশি বেরিয়ে আসছে।

একের পর এক অভিযোগ আসছে, পুলিশের ‘অন্যায় আবদার’ পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক সাধারণ মানুষ পুলিশের বেআইনি ক্রসফায়ারের শিকার হয়ে মারা গেছেন। আবার অনেকেই চোরাচালানের মিথ্যা অভিযোগে পুলিশের করা মিথ্যা মামলায় জেল খাটছেন। ওসি প্রদীপ গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে এধরণের মিথ্যা মামলা এবং ‘অবৈধ ক্রসফায়ারে’র অসংখ্য অভিযোগ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এই ধরণেরই ‘মিথ্যা মামলা’র আরেকজন ভূক্তভোগী কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জুয়ারু বেগম।

কারাগারে অন্তরীণ জুয়ারু বেগমের নিকটাত্মীয় কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া দরগাহ পাড়ার মোজাফ্ফর আহমদের ছেলে জসিম উদ্দিন। তার পূর্বপুরুষরা মিয়ানমারে চলে গিয়েছিল। সেখান থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন তার সেই পূর্বপুরুষের উত্তরসূরি নিকটাত্মীয়রা।

সুত্র গুলোর মতে, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে মাদক চোরাচালানের ব্যাপ্তি হয়েছে মর্মে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে একথা অনস্বীকার্য যে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে এবং এই ক্যাম্প গুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীকে বেগ পেতে হচ্ছে। কিন্তু এদের মধ্যে কিছু দুষ্কৃতিকারি পুলিশ সদস্য এই আইনি পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়ে সাধারণ রোহিঙ্গাদের হামলা মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ হাতিয়ে নিচ্ছেন। আর প্রকৃত রোহিঙ্গা এবং বাঙ্গালী মাদক ব্যবসায়ীদের রক্ষা করার জন্য সাধারণ রোহিঙ্গাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে মাদক বিস্তারে ব্যাপক ভুমিকা রাখছে।

অন্যদিকে সাধারণ রোহিঙ্গারা জীবন বাঁচানোর তাগিদে মায়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে মিথ্যা মামলার ঘানি মাথায় নিয়ে জেল খাটছেন বলেও ভূক্তভোগীদের দাবি।

অভিযোগকারি নিকটাত্মীয়ের মতে, জুয়ারু বেগম একজন ৫৫ বছর বয়স্কা রোহিঙ্গা মহিলা, যে মায়ানমার থেকে জীবন বাঁচানোর তাগিদে তার বাড়িঘর সব কিছু ফেলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় লাভ করেন। তার বর্তমান ঠিকানা মরকজ পাহাড়, কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প, ক্যাম্প নং-১/ওয়েম্ট. ব্লক-জি-১৫, এফসি নং- ১৫৬৮২৯, থানা- উখিয়া, জেলা- কক্সবাজার।

তার অভিযোগ, উখিয়া থানার পুলিশ সদস্যরা গত ১৩ জুলাই ওই ক্যাম্পের পার্শ¦বর্তী এলাকা থেকে প্রচুর পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে ওই মাদক উদ্ধারের ব্যাপার জানাজানি হলে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীর সাথে আতাঁত করে এবং অবৈধ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে এবং বেশির ভাগ ইয়াবা আত্মসাত করে মাত্র ১০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে ‘প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী’কে বাদ দিয়ে ‘নিরাপরাধ’ রোহিঙ্গা জুয়ারু বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় (মামলা নাম্বার-৪৫, ২৩ জুলাই ২০২০) দায়ের করা হয়। ওই মামলায় জুয়ারু বেগম এখনও জেলে আছেন।

ভূক্তভোগীদের মতে, মেজর অব. সিনহা হত্যাকা-ে ওসি প্রদীপ কুমারসহ অন্যরা গ্রেপ্তার না হলে পুলিশ সদস্যদের এমন অনৈতিক এবং বিধিবর্হিভুত কর্মকা- জনসম্মুখের অন্তরালেই থেকে যেতো এবং রোহিঙ্গা বৃদ্ধা নারীর গল্প অবিশ্বাস্যই থেকে যেতো। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জুয়ারু বেগমের মামলাসহ কক্সবাজারের থানা গুলোতে দায়ের করা মাদক মামলাগুলি পুণঃ তদন্তের দাবি রাখে। যাতে করে একজন নিরাপরাধ মানুষকেও মিথ্যা মামলার ঘানি না টানতে হয়।

এব্যাপারে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি দাবি করেছে ওই রোহিঙ্গা রমণীর পরিবার।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!