মুক্তিযোদ্ধাপুত্র রুবেল হত্যার ৫৮ দিন পরও গ্রেপ্তার হয়নি একজন আসামিও!

মুক্তিযোদ্ধাপুত্র রুবেল হত্যার ৫৮ দিন পরও গ্রেপ্তার হয়নি একজন আসামিও!

ফারুক ইকবাল, মহেশখালী
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর চাঞ্চল্যকর মুক্তিযোদ্ধাপুত্র রুবেল হত্যার ৫৮ দিন পার হলেও মামলার আসামিরা এখনও গ্রেপ্তার হননি। আলোচিত এই মামলার কোন আসামিই গ্রেপ্তার না হওয়ায় গোটা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও এলাকাবাসির মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

এই ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর ভূমিকা পালন করছে না বলেও মনে করছেন মহেশখালীর মুক্তিযোদ্ধারা।

জানা যায়, গত ২৪ জুন সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার পূর্ব জাগিরাঘোনার চিহ্নিত সন্ত্রাসি সিরাজ, আলম পাশা, জাহাঙ্গীর আলম, শাহ আলম, আবু বক্কর, রাশেদসহ ১৫/১৬ জনের সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসি বাড়িতে ডুকে কুপিয়ে মুক্তিযোদ্ধাপুত্র মনোয়ার ছিদ্দিকী রুবেলকে নৃশংসভাবে হত্যা করার চেষ্টা চালায়। ওই সময় রুবেল মারাত্মক আহত হন। পরের দিন ২৫ জুন সকাল ৭টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত রুবেল মারা যান।

এই ঘটনায় নিহতের ভাই মোঃ সরওয়ার কায়সার সোহেল বাদী হয়ে গত ২৭ জুন ১৬ জনকে আসামি করে মহেশখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নাম্বার-১৮, জিআর-১১২/২০।

মামলার বাদী আরেক মুক্তিযোদ্ধাপুত্র সরওয়ার কাইসার সোহেল জানান, ঘটনার পর থেকে মামলা তুলে নিতে আসামিরা বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগায় বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। ভাই হত্যার দুই মাস পার হলেও কোন আসামিই গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করছেন।

এদিকে বারবার মামলা তুলে নিতে হুমকি দিতে থাকে আসামিরা। গত ৪ জুলাই সন্ধ্যায় আসামিরা বাড়ির সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এসময় মারপিট করে খুন জখম করবে, মিথ্যা মামলায় ফাঁসাবে বলে মামলা প্রত্যাহার করে নিতে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় গত ৬ জুলাই মহেশখালী থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন তিনি। ডাইরি নাম্বার-২৪৪।

নিহতের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর ছিদ্দিকী ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশকে হানাদার মুক্ত করে আজ নিজের সন্তানকে খুন হতে হয়েছে চিহ্নিত সন্ত্রাসিদের হাতে। এই ঘটনার দুইমাস পরও মামলার কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। উল্টো সন্ত্রাসিদের হুমকির মুখে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।

এ সময় দুলা মিয়া, রোকন উদ্দীন, ফরিদ আলমসহ একাধিক এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানা যায়, মানুষ হত্যার মতো ঘৃন্যতম ঘটনার পরও আসামিরা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর ভূক্তভোগী পরিবার অন্যত্র বসবাস করছে। এ ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের আরও তৎপর ভূমিকা থাকা দরকার বলে মনে করেন তারা। অন্যথায় ওই সন্ত্রাসিরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আরও সন্ত্রাসমূলক কর্মকান্ড ঘটাতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সালেহ আহমদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হত্যার এতদিন পার হলেও কোন আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং দ্রুত আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের ইতিবাচক ভূমিকা কামনা করছি।

এই বিষয়ে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ফেরদৌসের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করলে তিনি ফোন না ধরায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!