১২০ শয্যার কোভিড হাসপাতাল চালু করল ‘আইওএম’, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

১২০ শয্যার কোভিড হাসপাতাল চালু করল ‘আইওএম’, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

আনছার হোসেন
সম্পাদক, ক্যাম্প ২০ থেকে ফিরে
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আবাসভূমি উখিয়ার কুতুপালং এলাকার ২০ নাম্বার ক্যাম্প, তার সাথেই লাগোয়া ‘ক্যাম্প ২০ এক্সটেনশন’। ঠিক এই যায়গাতেই করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে গড়ে তোলা হয়েছে ১২০ শয্যার কোভিট হাসপাতাল। জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএম স্বয়ংসম্পূর্ণ এই হাসপাতালটি প্রতিষ্টা করেছে। গুরুতর তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ (সিভিয়ার একিউট রেস্পিরেটরি ইনফেকশন – এসএআরআই) চিকিৎসার জন্য এই আইসোলেশন ও ট্রিটমেন্ট সেন্টারটির (আইটিসি) কার্যক্রম আনুষ্টানিক ভাবে শুরু করা হয়েছে। আগামিকাল মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) থেকে এই হাসপাতালে রোগী ভর্তি করা হবে।

আজ সোমবার (১৭ আগষ্ট) দুপুরে হাসপাতালটির আনুষ্টানিক উদ্বোধন করেছেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মাহবুব আলম তালুকদার। তিনি ফিতা কেটে ও ফলক উম্মোচন করে হাসপাতালটির যাত্রা করেন।

অনাড়ম্বর ওই আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) মো. আতিকুর রহমান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ২০ ও ২০ এক্সটেনশনের ক্যাম্প ইনচার্জ মোঃ আবদুস সবুর, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী, উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডাঃ রঞ্জন বড়ুয়া এবং ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের স্বাস্থ্যখাতের সমন্বয়ক ডাঃ মুকেশ কুমার প্রজাপতি।

অনুষ্টানটিতে সভাপতিত্ব করেন আইওএম বাংলাদেশ মিশনের উপ-প্রধান ম্যানুয়েল পেরেইরা।

১২০ শয্যার কোভিড হাসপাতাল চালু করল ‘আইওএম’, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

অনুষ্টানে জানানো হয়, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের সাথে সমন্বয় করে এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের শুরু করা হয়েছে। কোভিড আক্রান্ত রোগীদের সেবায় এই হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ ১৫০ জন কাজ করবেন। এছাড়াও যুক্তরাজ্য থেকে ৬ সদস্যের টেকনিক্যাল টিম আইওএমের সাথে যুক্ত হয়েছেন, যারা এই হাসপাতালটিতে সেবা দিয়ে যাবেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের মাঝে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে মানবিক কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। সে কারণেই সফলতাও পেয়েছি। স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আমরা প্রথম অগ্রাধিকার দিয়েছি।

তিনি বলেন, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার মাঝে করোনা আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। এই কৃতিত্ব সবার।

আরআরআরসি মাহবুব আলম বলেন, করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর প্রথমেই আমরা প্রথমেই যানবাহন ও ক্যাম্পে বহিরাগত লোক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছি। সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে যানবাহন চলাচল ১০ শতাংশে ও বহিরাগত লোক চলাচল ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই কারণেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা আক্রান্তের হার সবচেয়ে কম। যদিও ক্যাম্প এলাকায় এক বর্গকিলোমিটারের মধ্যে ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করেন।

কোভিট হাসপাতালটির উদ্বোধনী অনুষ্টানে জানানো হয়, আইওএম এখন পর্যন্ত তিনটি ‘এসএআরআই আইটিসি’র ২৩০টি শয্যার মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কোভিড-১৯’র সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ স্বাস্থ্য সংকটের শুরু থেকেই কক্সবাজারে মানবিক সহায়তা কাজে নিয়োজিত সংস্থাগুলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় দেয়া এই জেলাটিতে সম্ভাব্য মহামারী মোকাবেলায় সম্ভাব্য প্রস্তুতির জন্য কাজ করছে।

১২০ শয্যার কোভিড হাসপাতাল চালু করল ‘আইওএম’, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

সুত্র মতে, এসএআরআই আইটিসি গুলোর পাশাপাশি আইওএম’র মাইগ্রেশন হেলথ ডিভিশন এখন পর্যন্ত কক্সবাজারে আরও চারটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পুনর্গঠন করেছে। কক্সবাজারের চকরিয়া ও রামু উপজেলায় সরকারের পরিচালনাধীন আইসোলেশন সেন্টারগুলোতে সহায়তার জন্য আইওএম স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিভিল সার্জন অফিস এবং বিশ্ব ব্যাংকের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে।

জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থাটির মতে, কক্সবাজারে কোভিড-১৯’র প্রভাব কমানো ও বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করার জন্য বিদ্যমান স্বাস্থ্য পরিষেবা আরো শক্তিশালী করা ও উন্নত করার কার্যক্রমের উপর সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে আইওএম। যদিও বর্ষা মৌসুমের কার্যক্রম, সুরক্ষা এবং জীবিকা সংস্থানমূলক কার্যক্রমও চলমান আছে। মানবিক সহায়তাকারি সংস্থাগুলো কোভিড-১৯’র বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বহুমুখী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত আছে এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির ও জেলার স্থানীয় জনগোষ্ঠীদের সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা ও সংস্থান করা হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলায় আইওএম’র অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সহায়তা
•আইওএম কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ১০ জন মেডিকেল অফিসার, একজন রেডিওলজিস্ট, একজন রেডিওগ্রাফার, একজন স্যানিটেশন অফিসার ও ১৫ জন ক্লিনার সহায়তা দিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহকারীদের জন্য পিপিই সরবরাহ করেছে।

•আইওএম বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রামু ও চকরিয়ায় ‘এসএআরআই আইটিস ‘ গুলোতে শয্যা বাড়ানো এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন পরিষেবার মান উন্নয়নে সহায়তা করছে।

১২০ শয্যার কোভিড হাসপাতাল চালু করল ‘আইওএম’, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

•উখিয়া ও টেকনাফসহ জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে বিভিন্ন সহায়তা সরবরাহ করা হচ্ছে।

•আইওএম কোভিড-১৯ রোগীদের এবং তাদের পরিবারদের সাথে সমন্বয় ও সঠিকভাবে পরিচালনা করতে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো এবং রেফারেল ইউনিটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। রেফারেলকৃত কোভিড-১৯ রোগী বহন করার জন্য সাতটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়োজিত রয়েছে।

•অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আইওএম ২৪-ঘন্টা হটলাইন এবং ইন্টারেক্টিভ ভয়েস রেসপন্স (আইভিআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে কোভিড-১৯ সম্পর্কিত গুজব এবং ভুল তথ্য প্রতিরোধ করে জীবন রক্ষাকারী তথ্য সরবরাহ করছে।

•আইওএম ৩৫টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাচ্ছে।

•৯৩টি আশ্রয়সেয়াকে কোয়ারিন্টিন সেন্টারে রূপান্তর করা হয়েছে, যেখানে ৪৬৫ জন ব্যক্তির ধারণক্ষমতা রয়েছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!