মেজর সিনহা হত্যা তদন্তে রোববার ‘গণশুনানি’, গণবিজ্ঞপ্তি দিল কমিটি

টেকনাফে ‘পুলিশের গুলিতে’ সাবেক সেনা কর্মকর্তা খুন!

ডেস্ক রিপোর্ট
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খানের মৃত্যুতে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ‘গণশুনানি’ করতে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। এ বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

আগামি ১৬ আগস্ট রোববার সকাল ১০টায় এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

কক্সবাজারের টেকনাফ শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প ইনচার্জের (সিআইসি) কার্যালয়ে এই শুনানিতে প্রত্যক্ষদর্শীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। খবর ঢাকা টাইমসের।

বুধবার (১২ আগষ্ট) কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মেজর (অব.) সিনহা রাশেদ খানের মৃত্যুজনিত ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির সদস্য মোহা. শাজাহান আলি স্বাক্ষরিত এই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকায় চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর অব. সিনহা রাশেদ খান। এ ঘটনায় মেজর সিনহার বোনের করা মামলায় বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামি এবং ২ নম্বর আসামি করা হয় টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশকে। তারা ছাড়া আরও সাতজনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।

আলোচিত এই মামলায় অন্য আসামিরা হলেন এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এএসআই টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা।

এদিকে ঘটনার দিন মেজর সিনহাকে যে চেকপোস্টে থামানো হয়েছে সেটি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তল্লাশি চৌকি ছিল। সেখানে অভিযান চালানোর জন্য পুলিশ সুপারের অনুমতি আগেই নিয়েছিলেন অভিযানকারী বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইন্সপেক্টর (আইসি) লিয়াকত আলী। তাই সিনহার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলেই স্থানীয়দের দাবি। তারা বলছে, মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর মোড়ে এপিবিএন-এর চেকপোস্ট। এই চেকপোস্ট থেকে ঢাল দিয়ে নেমে দেড় কিলোমিটার ভেতরে গেলে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্র। সেখানেও একটি চেকপোস্ট রয়েছে। তবে তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকতকে নিজেদের চেকপোস্টে দাঁড়াতে কখনো দেখেননি কেউ। ওই তদন্তকেন্দ্রের মূল কর্মকর্তা হওয়ায় চেকপোস্টে তার দাঁড়ানোর কথাও নয়।

তবে সেই ইন্সপেক্টর লিয়াকত যখন নিজেদের চেকপোস্ট ছেড়ে শামলাপুরে মেরিন ড্রাইভের মূল সড়কে এপিবিএন-এর চেকপোস্টে তার ফোর্স নিয়ে এসে দাঁড়ান তখন স্থানীয় সবাই বুঝতে পারেন এখানে বড় কোনো অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। সেদিন সিনহার মুখোমুখি হওয়ার সাত ঘণ্টা আগেই এপিবিএন-এর চেকপোস্টে নজরদারি শুরু করে ইন্সপেক্টর লিয়াকতের নেতৃত্বে পুলিশের দলটি।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!