প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় আরডিসি নাজিম সাময়িক বরখাস্ত

কুড়িগ্রামে মধ্যরাতে সাংবাদিক আটক করে নির্যাতনের ঘটনায় আরডিসি নাজিম উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন। কুড়িগ্রামের আরডিসি নাজিম উদ্দিনকে গত বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানান জনপ্রশাসন সচিব।

একই ঘটনায় কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনও ব্যবস্থা কেন নেওয়া হলো না জানতে চাইলে শেখ ইউসুফ হারুন জানিয়েছেন, অন্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান। মামলা শেষে অপরাধী সাব্যস্ত হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরডিসি নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে, এ অবস্থায় সবার আগে তাকে কেনও সাময়িক বরখাস্ত হলেন এমন প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন সচিব জানান, কুড়িগ্রামের আরডিসি নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর বিধায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, আরডিসি নাজিম উদ্দিন কুড়িগ্রামের আগেও যে সব স্টেশনে সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি সেখানেই কোনও না কোনও ঝামেলা সৃষ্টি করেছেন। এমন সব কর্মকাণ্ড করেছেন তাতে সরকার তথা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৩ মার্চ শুক্রবার রাতের ঘটনায় ১৫ মার্চ তাকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। এর প্রায় পাঁচ মাস পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলছে, বিধায় আমরা তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়েছি। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে সে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেতো না। তখন বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হতো। আর এ সময়ের মধ্যেই আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুতর। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান। তাকে কোথাও পদায়ন করা হলে তিনি আরও অনেক ঘটনা ঘটাতে পারেন। প্রশাসন তার কাজে আরও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ মধ্যরাতে বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে তাকে ধরে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়। তার বাড়িতে আধা বোতল মদ এবং গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এভাবে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে একজন সাংবাদিককে ধরে এনে সাজা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। গণমাধ্যমে এ ঘটনা ফলাও করে প্রচার হলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় পরদিন ঘটনাস্থলে যান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। তার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন ও সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এসএম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।

জানা গেছে, অভিযুক্ত সবাই লিখিত জবাবের পর তদন্ত কমিটির সামনে এসে ব্যক্তিগত শুনানিতেও অংশ নিয়েছেন। এ ঘটনায় ডিসি সুলতানা পারভীন রবিবার (০৯ আগস্ট) ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিয়েছেন।

ব্যক্তিগত শুনানিতে অভিযুক্তরা যা বলেছেন, তাতে কমিটি সন্তুষ্ট কিনা জানতে চাইলে জনপ্রশাসন সচিব জানান, বিচারধীন বিষয়ে আমি আর কোনও মন্তব্য করতে পারি না।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!