টমটম চালকের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিল পুলিশ!

মহিউদ্দিন মাহী
প্রধান প্রতিবেদক, কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের হ্নীলার রঙ্গিখালী এলাকায় চাহিদা মতো মোটা অংকের টাকা না দেয়ায় গর্ভবতী স্ত্রীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলেছেন টমটম চালক সুলতান আহমদ। তিনি দাবি করছেন, বেশ কয়েকদিন ধরে কোন কারণ ছাড়া হ্নীলার পূর্ব রঙ্গিখালী এলাকার মৃত আবুল মঞ্জুরের ছেলে মোঃ সেলিম, জাদিপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে মোঃ সেলিম, নুর আলমের ছেলে দিলদার ওরফে দিলিয়াস ও গুরা মিয়ার ছেলে নাছিরসহ মোটা অংকের টাকা দাবি করে আসছেন। তারা সবাই টেকনাফ থানার দালাল হিসেবে কাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিনা অপরাধে তাদের টাকা না দেয়ায় গত ২৭ জুলাই (সোমবার) রাতের আধাঁরে টেকনাফ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজিম উদ্দিন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) কাজী সাঈফ উদ্দিন, মাজহারুল ইসলামসহ একটি পুলিশের ফোর্স গিয়ে টমটম চালক সুলতান আহমদের বাড়িতে অভিযান চালান। যদিও তার বাড়ি সম্পূর্ণ মাটির ঘর এবং ছনের ছানি।

তার দাবি, ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায় টেননাফ থানায়। পরদিন ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) তার বাড়ির উঠান থেকে ২০০০ ইয়াবা উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে তার স্ত্রীসহ ৩ জন মহিলাকে আটক দেখিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন এসআই নাজিম উদ্দিন।

টমটম চালক সুলতান আহমদ বলেন, ওই মামলাতে ২০০০ ইয়াবা ভাগ করে দেয়া হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে করা মামলায় তার স্ত্রীসহ তিনজন মহিলাকে আসামী করা হয়েছে। ওই মামলার ৩নং আসামী ইয়াছমিন আক্তার একই মামলার ১নং আসামী সিমা আক্তার ও ২নং আসামী হোসনে আরা বেগমকে মুখের চেনাও চিনেন না। তবুও তাদের কাছ থেকে আমার বাড়ির উঠানে ইয়াবা পেয়েছে বলে মামলা সাজিয়ে দেয় পুলিশ।

টমটম চালকের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিল পুলিশ!

এই মামলার আসামী ইয়াছমিনের স্বামী টমটম চালক সুলতান আহমদ জানান, তার আপন ভাই আব্দুল গফুর এক সময় এলাকার পুলিশের চৌকিদার ছিলেন। অনেক সময় পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রঙ্গিখালীর মানুষকে হয়রানি করতেন। তার ভাই আব্দুল গফুর অপরাধের দায়ে ইতিমধ্যে কারাভোগ করছেন।

তিনি দাবি করেন, আমার ভাইয়ের আক্রোশ মিঠাতে ওই এলাকার নুর আলমের ছেলে থানার শীর্ষ দালাল দিলদার ওরফে দিলিয়াস পুলিশকে ব্যবহার করে আমার বাড়িতে অভিযানের নামে নাটক সাজিয়েছে।

টমটম চালক সুলতান আহমদ বলেন, টেকনাফ থানা পুলিশ তার মাটির কুঁড়েঘরে তিনবার অভিযান চালিয়েছে। প্রথমে ২৭ জুলাই অভিযানে তাকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে নিয়ে যায়। পরদিন ২৮ জুলাই আবারও টাকা দাবি করে চৌকিদার মোঃ সেলিমকে সাথে নিয়ে তার মাটির বাড়ি ভাংচুর করে। ওই সময় গরিবের এই ঘরের দরজা, প্লাস্টিকের চেয়ার, প্লাষ্টিকের বাসনসহ সমস্ত জিনিসপত্র ভাংচুর করে টেকনাফ থানা পুলিশ। একই সাথে সুলতান আহমদের স্ত্রী ইয়াছমিনকে আটক করার পরও ২৯ জুলাইও মধ্যরাতে চৌকিদার সেলিমকে নিয়ে অভিযানে যায় পুলিশ। ওই সময় তাদের ৪ সন্তানকে ঘুম থেকে তুলে বাড়ির আসবাবপত্র ভাংচুর করে বৃদ্ধ মায়ের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে পুলিশ।

সুলতান আহমদ বলেন, ‘আমার স্ত্রী ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাকে ষড়যন্ত্রমূলক ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। আমাকে বাড়িতে না পেয়ে আমার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে ইয়াবা দেয়া হয়েছে। এখন আমার ঘর পুলিশ ভেঙ্গে দেয়ার কারণে বাচ্চারা ঘুমাতে পারে না। আমার মায়ের বাড়িতে থাকেন তারা।’

তিনি জানান, অত্যন্ত গরিব হওয়াতে তার স্ত্রীকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে ইতোমধ্যে জীবিকা নির্বাহ করা তার শেষ সম্বল টমটমও বিক্রি করে দিয়েছেন। থানার দালালরা প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে তাকে আবারো যে কোন মুহুর্তে ফাঁসিয়ে দিবে বলে।

এদিকে মামলার এজাহারে দেখা গেছে, টেকনাফ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজিম উদ্দিন বাদি হয়ে করা মামলায় দুইজন স্বাক্ষী হিসেবে রয়েছেন তারা সুলতান আহমদের অভিযোগ করা ব্যক্তি থানার দালাল চৌকিদার খ্যাত মৃত আবুল মঞ্জুরের ছেলে মোঃ সেলিম এবং মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে মোঃ সেলিম।

কক্সবাজার ভিশন ডটকম থেকে প্রধান স্বাক্ষী মোঃ সেলিমের সাথে কথা বললে তিনি এই ধরণের কিছুই জানেন না বলে জানান। পুলিশের অভিযান সম্পর্কেও কিছু জানেন বলে জানান তিনি।

ঘটনা জানতে মামলার বাদী এসআই নাজিম উদ্দিনের ব্যক্তিগত নাম্বারে একাধিকবার কল করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে অভিযানে নেতৃত্বদানকারি সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) কাজী সাঈফ উদ্দিন এই ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন বলে দাবি করেছেন। তিনি ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত খবর নিয়ে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন কক্সবাজার ভিশনকে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!