চকরিয়ায় সন্ত্রাসীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ, অস্ত্র উদ্ধার

গুলি ছুঁড়ে বাড়িতে তাণ্ডব ও লুটপাট, নারীসহ আহত তিন

চকরিয়ায় সন্ত্রাসীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ, অস্ত্র উদ্ধার

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের ‍বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়ায় পরপর তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা একটি বাড়িতে গিয়ে পরিবার সদস্যদের মারধর এবং বসতবাড়ি ভাঙচুর করার সময় স্থানীয় জনতা গণপিটুনি দিয়ে এক সন্ত্রাসীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে দেশে তৈরি একটি লম্বা বন্দুক ও থ্রি নট থ্রি রাইফেলের ব্যবহৃত একটি গুলির খোসা।

গণপিটুনিতে আহত সন্ত্রাসীকে পুলিশ পাহারায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত দশটার দিকে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিনামারাস্থ আল আকসা মসজিদের সামনে এবং সংলগ্ন জামাল উদ্দিনের বসতবাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে এবং সন্ত্রাসী হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আরো একটি মামলা রুজু করা হয়েছে থানায়।

পুলিশ জানিয়েছেন, গণপিটুনিতে আহত সন্ত্রাসীর নাম আবদুর রহিম (৩০)। সে উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগরঘোনা গ্রামের নুরুল কবিরের ছেলে। রহিম চকরিয়ার চিংড়িজোন তথা উপকূলের ত্রাস এবং তার বিরুদ্ধে ৬ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

জামাল উদ্দিনের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলায় আহতরা হলেন বোন রুজি আক্তার (২৫), দুই ছেলে শাওন আহমদ (২৩) ও সাগর আহমদ (২১)।

ঘটনাস্থলে যাওয়া চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মহসিন তালুকদার কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে জানান, জনতার রোষানল থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা সন্ত্রাসী আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে হত্যা, নারী অপহরণ, যৌতুক আইন, চাঁদাবাজি, পুলিশ আক্রান্ত ও চুরির ধারায় ছয়টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, তার ছেলে শাওনের সঙ্গে সমবয়সী বন্ধুদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। এর জের ধরে শুক্রবার বিকেলে প্রথমদফায় বাড়িতে এসে শাওনসহ পরিবার সদস্যদের মারধর করে। পরে দ্বিতীয়দফায় রাত দশটার দিকে ফের বাড়িতে তাণ্ডব ও লুটপাট চালায় আবদুর রহিমের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। এ সময় তারা পরপর তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই অবস্থায় পুলিশে খবর দেয়া হয় এবং স্থানীয় জনতা এগিয়ে আসলে অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী রহিমকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। ওই সময় সহযোগী আরো ৪-৫ জন পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘বাড়িতে সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব ও মারধরের ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়। এ সময় জনতার রোষানল থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সন্ত্রাসী রহিমকে।’

ওসি বলেন, ‘অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি এবং ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে আজ শনিবার আরো একটি মামলা রুজু করেছে উপকূলের ত্রাস সন্ত্রাসী আবদুর রহিম ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে।’

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!