এসপি মাসুদের ‘গ্রেপ্তার’ চাইলেন আ.লীগ নেত্রী কাবেরী!

এসপি মাসুদের ‘গ্রেপ্তার’ চাইলেন আ.লীগ নেত্রী কাবেরী!

বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ড ইস্যুতে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনকে গ্রেপ্তার ও তাঁকে রিমান্ডে নেয়ার দাবি তুলেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী। একই সাথে এসপি মাসুদ হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ‘পূর্ব অপরাধে’র বিচারও দাবি করেছেন তিনি।

আজ শুক্রবার (৭ আগষ্ট) সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে এমন দাবি তুলে নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন কাবেরী।

নাজনীন সরওয়ার কাবেরী সাবেক রাষ্ট্রদূত ও শিক্ষাবিদ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর মেয়ে এবং কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ও রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজলের ছোট বোন।

এই মহিলা নেত্রীর দেয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসটি কক্সবাজার ভিশন ডটকম পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলো।

‘কক্সবাজার পুলিশ সুপার মাসুদ সাহেবকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়া হউক। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাই। পূর্ব অপরাধেরও বিচার হউক।’

এদিকে এই আওয়ামী লীগ নেত্রীর এই স্ট্যাটাসটি মুহূর্তের মধ্যেই শতাধিক কমেন্টস ও শেয়ার হয়ে যায়। এই লিখনির জন্য তাকে অনেকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।

এদিকে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের বিরুদ্ধে এমন ‘কঠোর’ স্ট্যাটাস দেয়ার কারণ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী নাজনীন সরওয়ার কাবেরী। তিনি মুঠোফোনে একটি স্থানীয় সংবাদপত্রকে বলেন, কক্সবাজার জেলার কোন থানায় টাকা ছাড়া মামলা হয় না। সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হয়। মামলার টাকার ভাগ পুলিশ সুপার পান। না হলে তিনি ব্যবস্থা কেন নেন না?

তাঁর দাবি, অনেক নিরীহ মানুষজনের পকেটে ইয়াবা, অস্ত্র ঢুকিয়ে দিয়ে ফাঁসানো হয়। অধীনস্থ অফিসারদের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ করার পরও পুলিশ সুপার ব্যবস্থা নেন না।

নাজনীন সরওয়ার কাবেরী বলেন, ব্যবস্থা তো নেন না, বরং শ্রেষ্ঠ অফিসার হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, মেজর সিনহা খুনের ঘটনায় জড়িত ইন্সপেক্টর লিয়াকতের সাথে ফোনালাপে এসপি মাসুদ হোসেনের অপরাধ স্পষ্ট প্রমাণিত।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে মেজর (অব.) সিনহা তাঁর কক্সবাজারমুখী প্রাইভেট কারটি নিয়ে টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে পৌঁছালে গাড়িটি পুলিশ থামিয়ে দেয়। তখন তিনি উপর দিকে তার হাত তুলে তার প্রাইভেট কার থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলী পরপর চার রাউন্ড গুলি করে হত্যা করে বলে সেনা সদর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনা তদন্তে গত ২ আগস্ট চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. মিজানুর রহমানকে আহবায়ক করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। ৪ আগষ্ট থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। কক্সবাজার পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান ও পুলিশ প্রধান।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!