হাসপাতালে মানসিক সেবা পাচ্ছেন না করোনা রোগীরা

করোনা আক্রান্ত ৫২৩ ডাক্তার

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের দ্রুত সেরে ওঠার ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপসর্গের চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু দেশের কোভিড ডেডিকেটেড সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য কোনও পরামর্শ বা সেবা পাচ্ছেন না করোনা আক্রান্তরা। উপরন্তু, রোগীরা অবহেলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য সমস্যায় ভুগলেই হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সংক্রমণ এড়ানোর জন্য অধিকাংশ হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে স্বজনদের থাকতে দেওয়া হয় না। পুরো চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রোগীকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখার জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাসপাতালগুলো থেকে কোনও সহযোগিতা পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তিরা।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পরপরই রোগীদের অন্যান্য সেবার পাশাপাশি মানসিক সেবা দেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এসব হাসপাতালকে। সাইকোলজিস্টদের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী করোনা রোগীদের মানসিক সেবা দেওয়ার নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। কিন্তু জনবল সংকটসহ নানা অজুহাতে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনা থেকে মুক্তি পেতে রোগীর প্রয়োজন দৃঢ় মনোবল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীদের মনোবল দৃঢ় করতে নিয়মিতভাবে মানসিক সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। চিকিৎসক, নার্স বা হাসপাতালের স্টাফদের কাছে এই সহযোগিতা পেলে রোগী দ্রুত সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের পরিচালক ডা. লেলিন চৌধুরী।

কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির মনোবল বা মানসিক দৃঢ়তার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘দুটি ক্ষেত্র আছে। একটা হলো শরীরতত্ত্বীয় ক্ষেত্র— যখন মানুষ আশাবাদী থাকেন, তখন তার শরীরের ভেতরে কতগুলো হরমোন তৈরি হয়, যা শরীরবৃত্তিয় কাজগুলোকে আরও সক্ষম করে তোলে। আর যখন রোগী হতাশ হন তখন কিছু হরমোন তৈরি হয়, যেগুলো শরীরকে আরও দুর্বল করে তোলে। যে কারণে করোনা বা এধরনের রোগে আক্রান্তদের ইতিবাচক মনোভাব রাখার জন্য বলি। এতে শরীর বৃত্তিয় কার্যক্রমগুলো শক্তিশালী হবে।’

তিনি বলেন, ‘ আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রটি হলো মনস্তাত্ত্বিক। রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা অন্য যেকোনও যুদ্ধের মতোই। যুদ্ধের প্রথম শর্ত হচ্ছে এ জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। একমাত্র ইতিবাচক দৃঢ় মনোবলই আমাদের দেহ ও মনকে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত করতে পারে। ফলে প্রতিটি কষ্ট বা বেদনা অতিক্রম করার মতো দৃঢ়তা এবং মনোবল রোগীর মধ্যে গড়ে তুলতে হয়। যদি মনোবল ভেঙে যায় তাহলে দৃঢ়তা আর থাকে না।’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা রোগীদের ‘উষ্ণ মানবিক সঙ্গ’ দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি ভলান্টিয়ার গ্রুপ তৈরি করার পরামর্শ জানান এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা এ ধরনের রোগীদের মানসিক সাপোর্ট দেওয়ার জন্য ভলান্টিয়ার গ্রুপ তৈরি করতে হবে। যারা চিকিৎসক ও রোগীর মাঝখানে থেকে কাজ করতে আগ্রহী। কয়েকদিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের কাজ লাগানো যাবে। এই গ্রুপের সদস্যরা রোগীকে সান্নিধ্য দেবেন। রোগীকে একাকীত্ব, নিঃসঙ্গতা, নেতিবাচকতা থেকে বের করে আনার জন্য উষ্ণ মানবিক সঙ্গ দেবেন স্বেচ্ছাসেবীরা। এটা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।’

দেশের হাসপাতালগুলোতে মানসিক সেবার চিত্র

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন মিরপুর-১১ এর বাসিন্দা রিগান আহমেদ। ১৯ দিন পর তিনি হাসাপাতাল থেকে ছাড়া পান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেশ কয়েকবার তার প্রচণ্ড শ্বাস কষ্ট হয়েছিল বলে জানান তিনি। আর এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালের কাউকেই পাশে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন এই ভুক্তভোগী।

রিগান আহমেদ বলেন, ‘প্রথমদিকে কয়েকদিন রাতে আমার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হয়েছে। অক্সিজেন দেওয়ার জন্য নার্স, ওয়ার্ড বয়দের ডেকেছি। তারা কেউ আসেননি। আমি উঠে দাঁড়াতে পারছিলাম না। এই কষ্টের মধ্যে আমাকেই সিলিন্ডার আনতে হয়েছে। কয়েকবার মনে হয়েছে মরে যাই। এত কষ্ট সহ্য হয় না। এরমধ্যে কেউ এসে একটু কথাও বলে না। নার্সরা দূর থেকে ওষুধ রেখে চলে যান। জানি, তাদের সংক্রমণের ভয় আছে। কিন্তু দূর থেকেই একটু কথা বললেও পারতেন। একটু সাহস যোগানোর মতো কাউকেই কাছে পাইনি। খুব অসহায় সময় কেটেছে।’

একই কথা জানান ইউনাইটেড হাসাপাতালে চিকিৎসা নেওয়া সরকারি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ পজিটিভ আসলেও আমার অন্য তেমন কোনও সমস্যা ছিল না। শুরুতে শ্বাসকষ্ট ছিল, যে কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। একজন রোগীর মনোবল বাড়ানোর জন্য যে সাপোর্টটুকু দরকার তার একভাগও পাইনি। হাসপাতালে সাহস দেওয়ার মতো কাউকে পাইনি। সব সময় মনে হয়েছে— একাই সার্ভাইভ করতে হবে। সবাই দূরে দূরে থেকেছে। অথচ আমাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রতিদিন ১৫-২০টি পিপিই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করেছে বলে আমার বিলে উল্লেখ করেছে। কোনোদিন ৫০টির বেশি পিপিই ব্যবহৃত হয়েছে। আমার কাছেই যদি না আসেন, তাহলে এই পিপিইগুলো কোথায় ব্যবহার করেছেন।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর মানসিক কোনও সাপোর্ট হাসপাতাল থেকে পাননি বলে জানান নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া সবুজ হাওলাদার। তিনি  বলেন, ‘যে কয়েকদিন হাসপাতালে ছিলাম সেখানে নিজেই নিজের শক্তি সঞ্চয় করতে হয়েছে। আমি কিছুটা সুস্থ থাকায় হাসপাতালের অন্য করোনা আক্রান্তদের সাহস দিয়েছি। এই সাহসটুকু দেওয়ার মতো কাউকে হাসপাতালে পাওয়া যায় না, যা খুবই প্রয়োজন।’

করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসার পর কক্সবাজারের রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার সাকিব। নিজের শারীরিক অবস্থা ভালো থাকায় অন্যদের বিশেষ করে বয়স্ক যারা আছেন, তাদের সাহস যুগিয়েছেন তিনি। আবরার সাকিব বলেন, ‘বয়স্ক যারা আছেন তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তারা ভাবেন, এই রোগ হলে মারা যাবেন, কারণ এর কোনও চিকিৎসা নেই। এসব বিষয়ে তাদের আমি সাহস দিয়েছি। তাদের কাছে গিয়ে কথা বলেছি। যেটা হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের করার কথা ছিল। কারণ, চিকিৎসকরা একটু হাসিমুখে সাহস দিলে রোগীরা অনেক ভালো ফিল করেন।’

করোনা আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখান থেকে পালিয়ে এসেছেন আদাবরের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান খন্দকার (৪১)। ১৯ জুন রাতে হাসপাতাল থেকে পালানোর পর ২০ জুন সকালে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রাতে হাসপাতাল থেকে পালানোর আগে স্ত্রী মমতা খাতুনকে ফোন করেছিলেন মান্নান। ফোনে তিনি বলেন, ‘আমিতো মরেই গেছিলাম। খুব কষ্ট হইছে।’ এরপর সারারাত তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। শ্বাস কষ্টের সময় কাউকে পাশে না পাওয়া, পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরতে না পারার আক্ষেপ থেকে মান্নান আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে মনে করেন তার স্বজনরা। কারণ, স্ত্রী ও সন্তানও মান্নানের মাধ্যমে করোনা সংক্রমিত হয়ে একই সময়ে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

পরিবারে কোনও ধরনের ঝামেলা ছিল না বলে জানান নিহতের শ্যালক মুসা আজাদি। তিনি বলেন, ‘ওদের সংসার ভালো চলছিল। পরিবারিক বা অন্যকোনও সমস্যা তাদের ছিল না। তবে করোনায় তিনি কষ্ট পেয়েছিলেন অনেক।’

মুসা আজাদি বলেন, ওইদিন রাতে উনার খুব শ্বাসকষ্ট হয়েছিল। এই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আমার বোনকে ফোনে জানিয়েছিলেন। এরপর সারারাত তাকে ফোনে না পেয়ে সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখি উনি সেখানে নেই। হাসপাতালে থাকতেই জানতে পারি যে, উনার লাশ পাওয়া গেছে।’

রোগীর পলায়ন, অতঃপর করোনা ওয়ার্ডে তালা

মুগদা হাসপাতাল থেকে রোগী পালানোর পর ওইদিন দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক, নার্স ও সব স্টাফকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির সুপারিশে রাতের বেলা করোনা ওয়ার্ডে তালা লাগানো হয়। এছাড়া বাড়ানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, মনিটরিং ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের সংখ্যা। এসব তথ্য জানান হাসপাতালের পরিচালক ফারুক আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ভেতরের নিরাপত্তা বাড়ানো, রাতের বেলা ওয়ার্ডে তালা দিয়ে রাখা, এগুলো নিশ্চিত করা হচ্ছে। আনসারদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের আরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’

করোনা আক্রান্তদের সেবায় অন্যান্য চিকিৎসকদের পাশাপাশি সাইকোলজিস্টরাও দায়িত্ব পালন করেন বলে জানান ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের পর ডিজি অফিস থেকে প্রত্যেক হাসপাতালে দুই-তিন জন করে সাইকোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া আছে। চিকিৎসকদের যখন রাউন্ড থাকে, তখন সাইকোলজিস্টরাও থাকেন। যে রোগীর মানসিক সাপোর্ট প্রয়োজন হয় তার ফাইলে লিখে দেওয়া হয়। তখন সাইকোলজিস্টরা সেভাবে কাজ করেন।’

করোনা আক্রান্তদের মানসিকভাবে সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিনও। তিনি  বলেন, ‘রোগটা নতুন হওয়ায় রোগীরা আতঙ্কে থাকেন। তাদেরকে আমাদের চিকিৎসকরা সাহস দিয়ে থাকেন। এছাড়া, আমাদের সাইকোলজি বিভাগের চিকিৎসকরাও কোভিড-১৯ আক্রান্তদের সেবায় কাজ করেন। খুবই ডিপ্রেসড কাউকে পাওয়া গেলে তাদের সে অনুযায়ী ওষুধ বা পরামর্শ দেওয়া হয়।’

দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের প্রায় চার মাস হতে চললেও রোগীদের মানসিকভাবে সুস্থ রাখার জন্য যে সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, তা এখনও আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যারা মোবাইল ফোনে রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ দিচ্ছে, তাদেরকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীম রিজওয়ান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য বাতায়ন নম্বরে ৫০ জন চিকিৎসক তিন শিফটে মোবাইলে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে প্রতি শিফটে তিন জন করে মোট নয় জন সাইকোলজিস্ট সেবা দিচ্ছেন। রোগীদের মানসিক ও মনো সামাজিক বিষয়গুলো বিবেচনা করে সেবা দেওয়ার জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছেন।’

ডা. শামীম রিজওয়ান বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল, সূচনা ফাউন্ডেশন, মনের বন্ধুর মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিক্ষিপ্তভাবে সেবা দিয়ে আসছে। গত ২৬ জুন আমাদের স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির উদ্দেশ্য হলো— এই পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং আমরা তা দেশের সব জায়গায় নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছি।’

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!