বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচনে সব স্তরে পরিবর্তন আসছে

বিএনপি এখন কী করবে?

তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সকল পর্যায়ের কমিটি নির্বাচন প্রক্রিয়াতে পরিবর্তন আনছে বিএনপি। দলের কমিটিগুলোর নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে ভোটের মাধ্যমে। আর প্রত্যেক কমিটিতে রাখা হবে শতকরা ৩৩ ভাগ নারী। সারাদেশের কমিটি গঠনের পরই কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করবে দলটি।

সম্প্রতি দলের সর্বশেষ কয়েকটি নীতি নির্ধারণী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে অঙ্গ সংগঠনগুলোর কাঠামোতেও আসবে নতুনত্ব। আগের মতো পকেট কমিটি গঠনের সুযোগ থাকবে না। অতীতে বিএনপির মূল দল থেকে শুরু করে প্রায় সকল অঙ্গ সংগঠনের কমিটি গঠনের পরই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কমিটি গঠনের পর নেতা কর্মীদের মধ্যে দেখা দেয় চরম ক্ষোভ এবং অসন্তোষ। বলা হয়, যোগ্যদের কমিটিতে মূল্যায়ন করা হয় না। এছাড়া থাকে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও।

দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের নেতা কর্মীরা দলের হাইকমান্ডের কাছে ভোটের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। অবশেষে দীর্ঘদিন পর সেই পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে বিএনপি।

দেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়া পর থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে দলটি। আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, সাংগঠনিক গঠন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে দেশব্যাপী সব স্তরের ইউনিটগুলোর নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্ট কমিটির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে কার্যক্রম অব্যাহত রাখতেও বলা হয়েছে। এছাড়া হাই কমান্ডের পক্ষ থেকেও সারাদেশে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা করছেন দলের শীর্ষ নেতারা।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মধ্যে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সব পর্যায়ের কমিটিতে শতকরা ৩৩ জন নারী থাকতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব (আরপিও) আদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ২০২০ সালের মধ্যে সর্বস্তরে ৩৩ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০০৮ সালে আরপিও আইনের সংশোধনীতে এই শর্ত পূরণের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয় ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। এটা ছিল দলের ষষ্ঠ কাউন্সিল। এই কাউন্সিলের পর বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, দলের স্থায়ী কমিটি এবং নির্বাহী কমিটি মিলিয়ে মোট সদস্য সংখ্যা ৬৪০ জন। তাদের মধ্যে নারী রয়েছেন ৭১ জন। সে হিসেবে বিএনপিতে নারী নেতৃত্ব রয়েছে ১১.০৯ শতাংশ। স্থায়ী কমিটির ১৯ জন সদস্যের মধ্যে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছাড়া একমাত্র নারী সদস্য সেলিমা রহমান। ৮২ জনের উপদেষ্টামন্ডলীতে ছয়জন নারী সদস্য রয়েছেন। সাংগঠনিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সম্পাদকমন্ডলী, সহ-সম্পাদকমন্ডলীর সংখ্যা ২০৯ জন। এই পদগুলোতে নারী রয়েছেন ২০ জন। নির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ২৯৪ হলেও নারী রয়েছেন মাত্র ৪৩ জন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই দলেই আলোচনা চলছে নারী নেতৃত্বের সংখ্যা বাড়ানোর। আর এখন তো নির্বাচন কমিশন থেকে এর একটা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রের সকল কমিটিতে ৩৩ ভাগ নারী রাখা সম্ভব হলেও তৃণমূলের সকল কমিটিতে এই ধারা অব্যাহত রাখা যাবে কিনা তা নিয়েও পর্যালোচনা চলছে। তবে প্রত্যেক কমিটিতে ৩৩ ভাগ নারী রাখা অতোটা সহজ কাজ হবে বলে মনে করছি না।

জানা যায়, দলের পক্ষ থেকে জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের কমিটিতে কতজন নারী নেতৃত্ব রয়েছেন সে বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। ২০১৪ সাল থেকে যে সকল নারী উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর নির্বাচন করেছেন তাদের তালিকাও করতে বলা হয়েছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!