টেকনাফে ‘পুলিশের গুলিতে’ সাবেক সেনা কর্মকর্তা খুন!

টেকনাফে ‘পুলিশের গুলিতে’ সাবেক সেনা কর্মকর্তা খুন!

ডেস্ক রিপোর্ট
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরস্থ মেরিন ড্রাইভে পুলিশ চেকপোস্টে ‘পুলিশের গুলিতে’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত একজন মেজর নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১ আগষ্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত সেনা কর্মকর্তার নাম সিনহা মো. রাশেদ খান। তিনি যশোর জেলার বীর হেমায়েত সড়কের মৃত এরশাদ খানের ছেলে। তিনি এসএসএফেও (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) দায়িত্ব পালন করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই সেনা কর্মকর্তা তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িতে করে অপর একজন সঙ্গিসহ টেকনাফ থেকে কক্সবাজার আসছিলেন। মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া চেকপোস্টে পুলিশ গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি করতে চাইলে ওই সেনা কর্মকর্তা বাধা দেন। এনিয়ে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে সেনা কর্মকর্তা তার কাছে থাকা পিস্তল বের করে পুলিশকে গুলি করার চেষ্টা করলে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে সেনা কর্মকর্তা রাশেদ গুরুতর আহত হন। তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আজ শনিবার সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে নিহতের লাশ ময়না তদন্ত করা হয়েছে।

টেকনাফে ‘পুলিশের গুলিতে’ সাবেক সেনা কর্মকর্তা খুন!

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরে রোহিঙ্গা ডাকাতরা জড়ো হয়েছিল। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মসজিদের মাইকের প্রচার করে প্রতিরোধে এগিয়ে যায়। এসময় রোহিঙ্গা ডাকাতরা গুলি করে পাহাড়ে ঢুকে গেলেও ২ জন মেরিন ড্রাইভের দিকে একটি গাড়ি যোগে পালিয়ে যায়। এ খবর পুলিশকে জানানোর পর পুলিশ চেকপোস্টে গাড়ি তল্লাশি শুরু করে। সে সময় ওই গাড়িটি আসলে থামানোর চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু গাড়ির আরোহী একজন তার পিস্তল বের করে পুলিশকে গুলি করার চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষায় পুলিশ গুলি চালায়। এতে ওই ব্যক্তি মারা যান।

এসপি মাসুদ হোসেন জানান, এই ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। দুইজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ পিস্তলটি জব্দ করেছে।

তিনি দাবি করেন, গাড়িটিতে তল্লাশি করে ৫০টি ইয়াবা, কিছু গাজা এবং দুটি বিদেশী মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।

সুত্র মতে, নিহত মেজর অব. রাশেদ একটি তথ্যচিত্র ধারণের কাজে এক নারী ও অপর ৩ জন পুরুষ সঙ্গিসহ গত একমাস ধরে হিমছড়ির একটি রেস্টহাউজে অবস্থান করছিলেন।

ঘটনার সময় মেজর অব. রাশেদের গায়ে সেনাবাহিনীর প্যান্ট ও কমবেট টি-শার্ট পরিহিত ছিল। এই কারণে সন্দেহ আরও বেড়েছিল।

তবে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, মেজর অব. সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের মেরিন ড্রাইভে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার বিষয়টি তদন্তে একজন উপ-সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। তিনি ইতোপূর্বে এসএসএফে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিএমএ লং কোর্সের ৫০তম ব্যাচের কর্মকর্তা।
সুত্রঃ কক্সবাজার টাইমস।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!