পিএমখালীতে মতির দেদারসে চলছে অবৈধ দুই করাত কল

কক্সবাজার শহরের কাছাকাছি ইউনিয়ন পিএমখালীতে অবৈধ ভাবে দেদারসে চলছে ব্যক্তি মালিকানাধীন কলাত কল (‘স’মিল)। বন আইন উপেক্ষা করে পিএমখালীর মতিউল ইসলাম মতি নামের এই ব্যক্তির দুইটি করাত কল চললেও যেন চুপিয়ে আছে প্রশাসন। সরকারের লাখ লাখ টাকা মূল্যের বন বাগানের বৃক্ষসহ চুরি করা গাছ কাটা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তার অবৈধ করাত কলে সদরের বিভিন্ন এলাকা থেকে গিয়ে দিনে রাতে চিড়াই হচ্ছে সামাজিক বনায়নের মূল্যবান কাঠ।
পিএমখালীর চেরাংঘাটা প্রধান সড়কের পাশে ও নসরতআলী পাড়াতে রয়েছে তার দুইটি করাত কল। এসব স’মিলে কোন ধরনের লাইসেন্স কিংবা অনুমোদন না নিয়ে নিজেকে প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে হরহামেশায় চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় স্থানীয় বন বিভাগের রেঞ্চ কার্যালয় থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বরাবরের মতোই চালিয়ে যাচ্ছেন করাত কল। পিএমখালীতে ৪/৫ বছর ধরে একটানা অবৈধ উপায়ে করাত কল চলাতে বন বিভাগের সংরক্ষিত সম্পদ ইতিমধ্যে সাবাড় হয়ে গেছে। এমনকি এই বন সম্পদ ধ্বংসচক্রের কাছ থেকে রেহাই পাচ্ছে না স্থানীয় গ্রামীণ বসতভিটার ফলজ, বনজ বৃক্ষ, সড়ক ও উপ-সড়কের ছায়াবৃক্ষ, ব্যক্তি মালিকানাধীন বনায়ন। ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপন্ন হয়ে নানা বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মতিউল ইসলাম ওরফে মইত্ত্যার থেকে নিজস্ব একটি বাহিনী থাকাতে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে যারা গাছ কাটা ও বিক্রির সাথে জড়িত তাদের প্রত্যেককে তার অবৈধ স’মিল থেকে গাছ চিড়াই করতে বাধ্য করেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বনাঞ্চল নিধনের ক্ষেত্রে ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হচ্ছে তার অবৈধ করাত কল। পিএমখালীতে অবৈধ করাত কল গড়ে উঠায় সংঘবদ্ধ কাঠ চোরেরা সরকারের সংরক্ষিত বাগানের মূল্যবান গাছ কেটে করাত কলে সাইজ করে বিভিন্ন স্থানে আনায়াসে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি আমলাকর্তারা বদলীর নামে ভূঁয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিভিন্ন চেক পয়েন্ট গুলোর দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চোখের ধোলু দিয়ে মূল্যবান ফার্ণিচার পাচার করে যাচ্ছে।

এদিকে এই বিষয় নিয়ে পিএমখালীর রেঞ্চ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর জানান, মতিউল ইসলামের দুইটি করাত কল থেকে নসরতআলী পাড়ারটা এখন বন্ধ রয়েছে। চেরাংঘাটাতে যে করাত কল রয়েছে ওই বিষয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।
রেঞ্চ কর্মকর্তা জাননা, তার বিরুদ্ধে বন বিভাগ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

অবৈধ করাত কলের বিষয় নিয়ে মতিউল ইসলাম মতি জানান, ১৫ বছর ধরে বনবিভাগের কাছে আবেদন করে আসছেতেছে। কিন্তু অনুমোদন পায়নি। বন বিভাগ মামলা দিলেও আপাতত চালিয়ে যাচ্ছেন ‘স’মিল।

তার এই করাত কল সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে চলছে তাও তিনি শিকার করেছেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!