গ্রাহকসেবায় ডিজিটালাইজেশনের দিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ

বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদনটি করা যায় অনলাইনে। কিন্তু এরপর সংযোগ পেতে আবার গ্রাহককে ঘুরতে হয় এই টেবিল থেকে ওই টেবিলে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা যায়। কিন্তু সেই বিল গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দিতে মানুষকেই আসতে হয়। জ্বালানির ক্ষেত্রে ডিজিটাল সেবা নেই বললেই চলে। একজন গ্রাহক একটি নাকি দুটি চুলা ব্যবহার করেন তা সংযোগের সময়ই নির্দিষ্ট করা হয়। তারপর আবার প্রতি মাসের বিলও নির্ধারিত অর্থাৎ একই। তারপরও কেন প্রতিমাসে গ্রাহককে কাগজে লেখা বিল পরিশোধ করতে ব্যাংকে যেতে হয়? ই-বিল বা অনলাইনে গ্যাস বিল দেওয়ার পদ্ধতি চলতি মাসে চালু করেছে তিতাস। তবে এখন শুধু রকেটের মাধ্যমে গ্যাস বিল দেওয়া যায়।

বিদ্যুৎ জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সম্প্রতি উভয় বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে বলেছেন, গ্রাহকসেবায় আরও বেশি ডিজিটালাইজেশন করতে হবে। যাতে গ্রাহক ঘরে বসেই অনেক সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎ জ্বালানি বিভাগের গ্রাহকসেবা এতে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ ছিল সরকারের। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা হয়নি। প্রিপেইড মিটারে কিছু বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও তা মোট গ্রাহক সংখ্যার অনুপাতে খুবই কম। এই প্রিপেইড মিটারে বিদ্যুৎ সরবরাহর বিষয়েও গ্রাহকের নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। প্রিপেইড মিটার ডিজিটাল হলেও গ্রাহকরা কোনও ই-বিল পান না। বিদ্যুতের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হলে তাদের স্থানীয় অফিসে যোগাযোগ করতে হয়।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা অনেক দিন থেকেই বলে আসছি গ্রাহকবান্ধব ডিজিটালাইজেশনের কথা। কিন্তু বিতরণ কোম্পানিগুলো এক্ষেত্রে খুব বেশি অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। কেন পারেনি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা মনে করছে গ্রাহক এখনও ডিজিটাল সেবা গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি। এই কর্মকর্তা বলেন, ধরুন বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন যদি গ্রাহক অনলাইনে করে তাহলে যাচাই বাছাইয়ের জন্য তাকে আবার সেটি প্রিন্ট দিয়ে টেবিলে টেবিলে ঘুরতে হবে কেন। পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সেরে গ্রাহককে মেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া যেতে পারে কখন তার সংযোগ দেওয়া হবে। গ্রাহক সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেবে।

গ্রাহক সংযোগ থেকে শুরু করে অভিযোগ ব্যবস্থাপনা এবং বিল প্রদান সবখানেই ডিজিটালাইজেশন করা সম্ভব। বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপস এর মাধ্যমে এসব সেবা নিশ্চিত করা যায়। এতে গ্রাহককে কোথাও যাওয়ারও প্রয়োজন পড়বে না। সম্প্রতি কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট নামে একটি মোবাইল অ্যাপস চালুও করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এখানে গ্রাহক যেকোনও অভিযোগ জানাতে পারেন।

তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী মো. মামুন বলেন, এতদিন ডিজিটালি গ্যাস বিল জমা দেওয়া যেতো না। সম্প্রতি রকেট, নগদ আর বিকাশের সঙ্গে আমরা সমঝোতা চুক্তি করেছি। এখন রকেটের মাধ্যমে গ্যাস বিল দেওয়া যাবে। অন্য দুইটির টেকনিক্যাল কাজ চলছে।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহম্মদ হোসেইন বলেন, গ্রাহকসেবার বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা অনলাইনে সেবাগুলো চালু করেছি। এখনও অনেক কাজ বাকি। সংযোগের ক্ষেত্রে এখনও সব কাগজ অনলাইনে জমা দেওয়া যায় না। আমরা চেষ্টা করছি এই সিস্টেমে যেতে। যাতে আবেদন থেকে শুরু করে সংযোগ পাওয়া পর্যন্ত পুরো কাজটি বিদ্যুৎ অফিসে না এসে করতে পারে গ্রাহক। এছাড়া গ্যাসের বিলের সেবা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ বিল করার ক্ষেত্রে মিটার রিডিং ডিজিটালাইজ করার কথা ভাবছি আমরা। এছাড়া করোনার এই সময়ে জুমে মিটিং, শুনানি, সংবাদ সম্মেলন করা হচ্ছে। অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে অনলাইনে। দফতরের মিটিংগুলোও আমরা জুমে করছি। ই-পেপার, ই-ফাইলিংয়ের ব্যবহার বেড়েছে। ভবিষ্যতে পেপারলেস অফিস করতে চাই আমরা।

জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে হলে সব ডিজিটালাইজেশন জরুরি। বিদ্যুৎ আর গ্যাসের প্রি-পেইড মিটারের পরিকল্পনা বহুদিনের, কিন্তু সেটি এত ধীর গতিতে চলছে যে আজও সেই পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়নি। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চুরি ঠেকাতেও ডিজিটাল পদ্ধতিতে যেতে হবে। কিন্তু একটি অসাধু চক্রের কারণে এই পদ্ধতিগুলো সব জায়গায় বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। মোবাইল দিয়ে আজকাল সব কাজ করা যায়। তাহলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতও এটিকে কাজে লাগাতে পারে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!