‘টেলিগ্রাফ নেপালে’ বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্লেষণ

এক বনে কী দুই বাঘ থাকা সম্ভব?

এক বনে কী দুই বাঘ থাকা সম্ভব?

বিশ্ব ডেস্ক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

নেপালি সংবাদ মাধ্যম টেলিগ্রাফ নেপালে এন. পি উপাধ্যায় ১৫ জুলাই প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলাদেশ ভারতকে ছেড়ে চীনের দিকে ঝুকছে। এখন প্রশ্ন হলো, এক বনে দুই বাঘ থাকা সম্ভব কিনা? তার লেখার শিরোনাম: পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্প্রীতি: ভারত সাইডলাইনে। পাকিস্তান–বাংলাদেশ বোনহোমি : ইন্ডিয়া সাইডল্যান্ড।

পত্রিকাটির কথায়, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং ঘোষিত শত্রু চীন। দেশটি এখন দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে বড় রকমের প্রভাব সৃষ্টি করে ফেলেছে। এটা বলা নিষ্প্রয়োজন, চীনের রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক বিজয় ভারত একটা বিরাট ক্ষতি হিসেবে দেখছে।

পত্রিকাটির ভাষায়, শিশু রাষ্ট্র ভুটান এবং মালদ্বীপ ব্যতিরেকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো যেমন পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং নেপাল এই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ার কৃত্রিম জাতিরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক নিয়ে আছে।

অতিসম্প্রতি এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরান। ইরান সরকার বলে দিয়েছে, হাই দিল্লি, গুডবাই। পত্রিকাটির কথায়, ১৯৪৭ সালে জন্ম নেয়া ভারত নেপালের সঙ্গে ভূখন্ডগত বিরোধে লিপ্ত রয়েছে। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব সৃষ্টি করেছে।

কারণ সে ভারতের তাঁবেদার রাষ্ট্র হিসেবে থাকতে চায় না। যদিও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পৃষ্ঠপোষকতায় ৭০ দশকের গোড়ায় পাকিস্তানের বিভক্তি ঘটেছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পরে বাংলাদেশ-চীন ইঞ্চি ইঞ্চি করে পরস্পরের ঘনিষ্ঠ হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে। এবং তারা এখন সকল মৌসুমের বন্ধুতে পরিণত হয়েছে।

পত্রিকাটি লিখেছে, গত ২৬ জুন ২০২০ বাংলাদেশি আমেরিকান গবেষক জয়নাল আবেদীন ইনস্টিটিউট অফ পলিসি স্টাডিজ অফ পাকিস্তান আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে বাংলাদেশে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপের জন্য ভারতকে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি হতাশা ব্যক্ত করে ইরান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপকে একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন। যার লক্ষ্য হবে, ভারতীয় সংস্থাগুলোর প্রভাব বলয় সৃষ্টির বিরুদ্ধে একটা প্রতিসাম্য তৈরি করা। তিনি এই আহ্বান এমন একটি সময় জানিয়েছেন, যখন চীন বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ৯৭% শুল্কমুক্ত সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে এবং ভারতীয় গণমাধ্যমে চীনের এই পদক্ষেপকে ঢাকা–বেইজিং সম্পর্কে একটা উল্লেখযোগ্য মোড় হিসেবে বর্ণনা করেছে।

টেলিগ্রাফ নেপাল মনে করে, ওই ঘটনার পর থেকে দিল্লির শাসকরা নিদ্রাহীন রাত কাটিয়ে চলছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং এর মধ্যে একটি শীর্ষ সংলাপ অনুষ্ঠিত হবার একমাস পরেই শুল্কমুক্ত সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে চীন।

পত্রিকাটির কথায়, বলা নিষ্প্রয়োজন, চীনের ফ্লাগশিপ প্রজেক্ট বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বিআরআইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এক উল্লেখযোগ্য অংশিদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই ঘটনার মধ্যদিয়ে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, চীন এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটা বিশেষ সম্পর্কের উত্থান ঘটেছে।

পত্রিকাটির কথায়, দক্ষিণ এশীয় পর্যবেক্ষকরা এখন স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছেন যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তার কাজ হবে পাকিস্তানকে একঘরে করা। কিন্তু এখন এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে যে, মি. মোদী ইতিমধ্যেই তার নিজের দেশকে অন্য সবার থেকে, এমনকি সমগ্র বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটা ‘সাফল্য’ অর্জন করেছেন এবং এটাও স্মরণযোগ্য যে, মি. মোদী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি দ্বিতীয় ফ্রন্ট খোলার জন্য আফগানিস্তানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অপচয় করেছেন। তখন ইরানের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে তিনি এটা করেছিলেন। আর যা কিনা সম্প্রতি চীন সেখানে ঢুকে জায়গা করে নিয়েছে।

টেলিগ্রাফ নেপালের কথায়, চীনের নীরব কূটনীতি ভারতের অবদমনমূলক কূটনীতির বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছে। ভারতের সম্প্রসারণবাদী নীতি নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যাকফায়ার করেছে। আর সে কারণেই ভারতের প্রতিবেশীরা চীনের দিকে ঝুঁকছে।

টেলিগ্রাফ নেপাল ইরানের কাছ থেকে, তার কথায়, ভারতের বড় ধরনের আঘাত পাওয়া একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এটা এত বড় একটা আঘাত ভারতের কূটনীতিতে, যা ভারতীয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী স্বীকার করেছেন। রাহুল বলেন, ভারতের বিদেশ নীতি হুমকির মুখে। ভারত বহির্বিশ্বে ক্ষমতা এবং মর্যাদা সর্বত্রই সবটা হারাচ্ছে। ভারত সরকার জানেও না, তার কোনো ধারণাই নেই, এক্ষেত্রে তার কি করা উচিত।

পত্রিকাটি ২০২০ সালের ১৫ জুলাই তারিখের পাকিস্তানি ডন পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, ইরান এবং চীন সম্প্রতি চারশো বিলিয়ন ডলারের স্ট্রেটেজিক পার্টনারশিপ চূড়ান্ত করেছে। ভারতের সঙ্গে সাপাহার থেকে জাহেদান পর্যন্ত রেল প্রজেক্ট একটা বিরাট উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। বিলম্বিত অর্থায়নের যুক্তি দেখিয়ে ইরান ইতিপূর্বে এই প্রকল্প পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছিল। এখন সেই ইরান সরকারের পরিবহন এবং শহর উন্নয়ন মন্ত্রী মোহাম্মদ ইসলামী গত সপ্তাহে সাপাহার–জাহেদান রেললাইন, যা ৬২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ, সেই রেল প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

ভবিষ্যতে এই রেল আফগানিস্তানের সীমান্ত বরাবর জারাঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

পত্রিকাটির কথায়, নেপালি পর্যবেক্ষকরা বিশ্বাস করেন যে, মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে গত কয়েক বছরে মি. মোদীর মাখামাখি এতটাই অতিরিক্ত পর্যায় গিয়েছিল, যা লক্ষ্য করে ইরান মোদীকে ডাম্প করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইরান–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরকে নাম্বার ওয়ান শত্রু হিসেবে দেখে চলছে। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেছেন, এ সপ্তাহের গোড়ায় চীনের সঙ্গে তারা একটা ২৫ বছর মেয়াদী মৈত্রী চুক্তির খসড়া নিয়ে পর্যালোচনা করছেন। এই চুক্তি সম্পাদনের পরেই এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হবে। নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে দি হিন্দু সম্প্রতি এটা লিখেছে।

ওই চুক্তি চূড়ান্তভাবে সম্পাদনের কাছাকাছি রয়েছে। চীন ওই চুক্তি সম্পাদনের মধ্যদিয়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ব্যাংকিং টেলিযোগাযোগ সমুদ্রবন্দর এবং অন্যান্য খাতে তার বিরাট উপস্থিতি নিশ্চিত করবে। আর এর বিনিময়ে ২৫ বছর ধরেই ইরানের কাছ থেকে কম দামে তেল পাবে।

টেলিগ্রাফ নেপালের কথায়, এরকম একটি খবর শুনে ভারতীয়দের পায়ের নিচ থেকে কার্পেট সরে যাওয়ার কথা। অবশ্যই, এভাবে ভারতকে সরিয়ে দিয়ে পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক আকাশে চীন একটি নব উদিত সূর্য।

টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া বলেছে, পন্ডিত জয়নাল আবেদিন ঐ ওয়েবিনারে যে ধরনের কোয়ালিশন ভারতের বিরুদ্ধে গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন, তার কাছাকাছি একটা অগ্রগতির আভাস ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। ঢাকায় একটি গোপন বৈঠকের আভাস মিলেছে। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে ওই বৈঠকটি ঢাকায় গত ১ জুলাই ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু তার বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়নি। তবে দক্ষিণ এশীয় জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সম্ভবত ওই বৈঠকটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যকার দীর্ঘ আলোচনার পরপরই অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবং মনে করা হতে পারে যে, ওই সভায় কাশ্মীর বিষয়টিও এসেছে।

পত্রিকাটির ভাষায়, যদিও ঢাকা ও ইসলামাবাদের টেলিফোন আলোচনার বিষয়বস্তু এখনো অপ্রকাশিত। তবে এটা নিশ্চিত যে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানি হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকি এবং বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বৈঠকে আরো বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এই দুই কূটনীতিক দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেন। এই বৈঠকের বিবরণ দিয়ে তুর্কি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মো. কামারুজ্জামান, যিনি গত ৮ জুলাই বলেছেন, উভয় পক্ষ নিজ নিজ দেশের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছেন এবং করোনো মোকাবেলায় তারা কি কি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, সে বিষয়ে তারা মতবিনিময় করেন।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদলু এজেন্সির মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে ঢাকার পাকিস্তানি হাইকমিশনার বলেছেন, তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মত ব্যক্ত করেছেন।

১ জুলাই ২০২০ পাকিস্তান হাইকমিশনার এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যকার ওই বৈঠককে পরিবর্তিত আবহাওয়ায় তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এবং এটা লক্ষণীয় যে, এই বৈঠকের বিষয়ে পাকিস্তানি হাইকমিশন ও ঢাকা নীরবতা পালন করছে। এই নীরবতা অর্থপূর্ণ এবং প্রশ্ন উঠেছে ঢাকা কেন পাকিস্তান হাইকমিশনারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক সম্পর্কে মুখ খুলছে না?

বলা নিষ্প্রয়োজন, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পরের বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে একটা শীতল সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সেই সম্পর্ক শুধু স্বাভাবিক হয়নি, সেখানে বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে এবং ভারতকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে এখন থেকে তা ঘনিষ্ঠ হতে থাকবে।

জুলাইয়ে ঢাকা এবং ইসলামাবাদের মধ্যে যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো, সেটা শেখ মুজিবুর রহমানের জীবদ্দশায় সম্ভব হতো না, তার কারণ রাজনৈতিক, আর সেটাই খুব স্বাভাবিক।

পত্রিকাটি বলেছে, গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে চীনের প্রবেশ এটাই বলে দিচ্ছে যে, ভারত ইউনিয়নের দৃঢ় মুষ্টি থেকে বাংলাদেশ পিছলে বেরিয়ে গেছে। তবে যতই এই পরিস্থিতির মধ্যে চীন বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করে নিক না কেন, ভারতীয় স্টাবলিশমেন্ট স্পষ্টতই চীনকে সহজে ঢাকায় জায়গা ছেড়ে দিবে না।

তাই পত্রিকাটি প্রশ্ন তুলেছে, এক জঙ্গলে দুই বাঘ থাকতে পারে কিনা?

পত্রিকাটির কথায়, বাংলাদেশ আকস্মিকভাবে ভারতের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয়ার সিক্রেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নেপালী পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এর সূচনা হতে পারে ২০১৯ সালে ভারত যখন বিতর্কিত সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট আইন পাস করেছে। বাংলাদেশ তখনই ভারতের সঙ্গে নির্ধারিত একাধিক বৈঠক বাতিল করে দেয়। এর মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এর বৈঠকও ছিল।

টেলিগ্রাফ নেপাল আরো লিখেছে, বাংলাদেশ এতটাই অসন্তুষ্ট হয় যে, তারা সম্ভবত সেই রাগ করে দিল্লিতে চলতি বছরের গোড়ায় অনুষ্ঠিত রাইজিনা সংলাপ কনফারেন্স বয়কট করে এবং সেখানে একজন জুনিয়র মন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে পাঠানো হয়। বাংলাদেশের অসন্তুষ্ট হবার একটা বড় কারণ ছিল, নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনীতে শুধুমাত্র বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকারের স্বীকৃতি দেয়া হয়। এটা বাংলাদেশের জন্য একটা নতুন উদ্বেগ তৈরি করে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবুধাবিতে গালফ নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা বুঝতে পারি না কেন, তারা কেন এটা করেছে। এর আদৌ কোন প্রয়োজন ছিল না।’

গত জানুয়ারিতে হিন্দুতে এই তথ্যটি লিখেছিলেন কল্লোল ভট্টাচার্য। এভাবেই ঢাকা এবং দিল্লির মধ্যে একটি দূরত্বের অনুভূতি তৈরি হয়। এবং ঢাকায় দিল্লির বিরুদ্ধে বিক্ষোভও দেখানো হয়েছে। ২০২০ সালের ৮ জুলাই দি ডিপ্লোম্যাট পত্রিকায় মোজাম্মিল আহমেদ অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে লিখেছেন, এখন এটা আস্থার সঙ্গে বলা চলে যে, বাংলাদেশ-চীনের দিকে ঝুঁকছে।

মি. মোজাম্মেল শুল্কমুক্ত পণ্য সুবিধার কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, ঢাকা সত্যিকার অর্থেই চীনের দিকে ঝুকে পড়ছে।

এরপর নেপালি মিডিয়াটি আবার পাকিস্তানি হাইকমিশনারের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক নিয়ে আসে এবং উল্লেখ করে যে, দক্ষিণ এশীয় কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলেছে, ওই বৈঠকে ঢাকা–ইসলামাবাদ সম্পর্ককে গভীর করার বিষয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এবং তারা গোটা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি রিভিউ করে এবং ভারতীয় সামরিক বাহিনীর দ্বারা কাশ্মীর অধিগ্রহণের বিষয়ে কি প্রভাব হতে পারে তাও আলোচনায় জায়গা করে নেয়।

পত্রিকাটির কথায়, এটা কৌতুহল উদ্দীপক যে পাকিস্তানি হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী একটা উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের সঙ্গে এই বৈঠকটি এমন একটা সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক সুবিধা দিয়েছে চীন এবং একই সঙ্গে চীনের বিরুদ্ধে ভারত বহুমুখী যুদ্ধে নিয়োজিত রয়েছে। আর এটা সবারই জানা যে, দিল্লি সর্বদাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে মনে করে।

এ কথা উল্লেখ করে পত্রিকাটি প্রশ্ন তুলেছে, বাংলাদেশ থেকে ভারতের প্রতি এটা কি একটা বিশ্বাসঘাতকতা?

এরকমের একটা পটভূমিতে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের তথাকথিত গোপন বৈঠক প্রসঙ্গে ওই নেপালি পত্রিকাটি বলেছে, এটা হোল বোল্ট ফ্রম দ্য ব্লু।

পত্রিকাটির কথায়, আঞ্চলিক কূটনীতি যেদিকে যাচ্ছে, সেটা অবশ্যই দিল্লির অভিপ্রায়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

নেপালি পত্রিকাটি বারংবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ’ফেকু প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

নেপাল টেলিগ্রাফ ডটকম আরো লিখেছে, নেপাল ইন্ডিয়া সম্পর্ক নতুন করে নিচের দিকে নামছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এখন দুটি শক্তিশালী রাষ্ট্র রয়েছে, যারা চীনের বি আর আই প্রোজেক্টকে সমর্থন করে এবং গত দুইমাসে নেপাল ভারত থেকে যথেষ্ট দূরে সরে গিয়েছে। এবং এই সম্পর্কের অবনতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি সম্প্রতি বলেছেন, ভগবান রাম নেপালে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি ভারতে জন্মগ্রহণ করেননি।

এই ঘোষণাকে সুচিন্তিত এবং মোদী বিরোধী বলে বর্ণনা করে পত্রিকাটি জানায়, যদিও নেপালের প্রধানমন্ত্রী একজন কমিউনিস্ট। কিন্তু হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের তিনি প্রধানমন্ত্রী। তার এই মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। কারণ নরেন্দ্র মোদী বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষমতায় এসেছিলেন।

অধ্যাপক সুব্রামনিয়াম স্বামী এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী এখন একান্ত বৈঠকে মায়াকান্না করছেন, এটা স্মরণ করে যে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কি করে রামের জন্মভূমি হিসেবে নেপালকেই ঘোষণা দিলেন। নেপালের এই অপ্রত্যাশিত ঘোষণার মধ্যদিয়ে ভারতীয় হিন্দু ফান্ডামেন্টালিস্ট সরকার একটা ধাঁধায় পড়ে গেছে।

টেলিগ্রাফ নেপালের সর্বশেষ মন্তব্যে বলা হয়েছে, কাশ্মীর বিষয়ক নিউইয়র্ক টাইমসের এডিটর এবং মানবাধিকার কর্মী মার্ক ভিন্স বলেছেন, কাশ্মীর ইজ নট ইন্ডিয়া। কাশ্মীর ভারত নয়। কাশ্মীরে বিশৃংখলা এবং রক্তপাতের জন্য ভারত দায়ী এবং কাশ্মীরের মানবাধিকারের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ হওয়ার জন্য পাকিস্তান তৎপরতা চালিয়েছে।

ভিন্স সতর্ক করেছেন যে, বিশ্ব যদি কাশ্মীর পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে চলে তাহলে আরেকটি সেব্রেনিৎসা ধরনের গণহত্যা ঘটতে পারে। গত ১৫ জুলাই কাশ্মীর সম্পর্কে এক টুইটার বার্তায় ভিন্স ওই মন্তব্য করেন। তিনি টুইটে আরো বলেছেন, তিনি কাশ্মীরের জনগণের জন্য একটা সুসংবাদ দিতে চান। তার কথায়, আমরা কাশ্মীর বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে তুলব, যেটি ভারতীয় বাহিনীর দ্বারা সেখানকার ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবাধিকার লংঘন বিষয়ে সোচ্চার হবে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!