উখিয়ায় ঋণের কিস্তি আদায়ে জোর-জবরদস্তি করছে ‘প্রত্যাশী’, মানছে না প্রজ্ঞাপন

উখিয়ায় ঋণের কিস্তি আদায়ে জোর-জবরদস্তি করছে ‘প্রত্যাশী’, মানছে না প্রজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

করোনার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অর্থরিটি (এমআরএ) ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও প্রজ্ঞাপনের কোন কিছুই মানছে না এনজিও ‘প্রত্যাশী’। সংস্থাটি ঋণের কিস্তি আদায়ে গ্রাহকদের রীতিমত নাজেহাল করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, এনজিও ‘প্রত্যাশী’র উখিয়ার শাখা অফিসের মাঠকর্মী সোহেল প্রজ্ঞাপনের শর্ত অমান্য করে বছরের জুন মাস থেকে ঋণের কিস্তির আদায় করে আসছেন। কিস্তি আদায়ে গ্রামের সহজ সরল নারী গ্রাহকদের জোর জবরদস্তি করার পাশাপাশি অকথ্য ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। করোনাকালীন সময়ে কিস্তির টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করা গ্রাহকদের নানা রকম অশালীন কথা বলে হুমকি-ধমকি দিয়ে হয়রানি করে থাকেন এই মাঠকর্মী। অনেক সময় কিস্তির টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত ওই মাঠকর্মী গ্রাহকদের বাড়ি ছাড়েন না বলেও জানান একাধিক গ্রাহক। আবার কখনো কখনো ওই মাঠকর্মী এনজিও ‘প্রত্যাশী’র মরিচ্যা শাখার ম্যানেজার সরওয়ার হোসেনের সাথে ফোন ধরিয়ে দিয়ে নানা বকাবকি শুনতে বাধ্য করেন বলেও জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রাহক।

এ ব্যাপারে জানতে মাঠকর্মী সোহেলের সাথে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কিস্তি আদায় করা হচ্ছে। জুন মাস থেকে তিনি আগের নিয়মে কিস্তি আদায় করে আসছেন।

তবে কিস্তি আদায়ের পরিমাণ পূর্বের তুলনায় অনেক কমে গেছে বলেও জানান এ মাঠকর্মী। এ সময় তিনি জোরজবরদস্তি করে কিস্তি আদায়ের কথা অস্বীকার করেন।

একই বিষয়ে জানতে ‘প্রত্যাশী’র মরিচ্যা শাখার ম্যানেজার সরওয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা করা হলে তিনি জানান, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) নির্দেশ মেনে ঋণ আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। করোনাকালীন সময়ও গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে গ্রাহকদের মাঝে ঋণ বিতরণ অব্যাহত রাখা হয়েছে। জোর জবরদস্তি করে কিস্তি আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে উল্টো গ্রাহকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, ২৩ জুন মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউট একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সব সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এর কারণে অর্থনীতির অধিকাংশ খাতই ক্ষতিগ্রস্ত এবং নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে শিল্প, সেবা ও ব্যবসাখাত তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। এসব বিষয় বিবেচনায় এবং ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতাদের ব্যবসা-বাণিজ্য তথা স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর কোভিড-১৯ এর নেতিবাচক প্রভাব সহনীয় মাত্রায় রাখার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ঋণ কার্ডক্রম পরিচালনা ও ঋণ শ্রেণীকরণের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এই সময় পর্যন্ত কোন ঋণ শ্রেণীকরণ/বকেয়া/খেলাপি দেখানো যাবে না। কোনো ঋণের শ্রেণী-মান উন্নতি হলে সেটা বিদ্যমান নিয়মানুযায়ী তা শ্রেণীকরণ করা যাবে। সংকটকালীন সময়ে মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউট কর্তৃক ঋণ গ্রহীতাকে কিস্তি পরিশোধে বাধ্য করা যাবে না।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!