থানায় মামলা, ভাইসহ বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

চকরিয়ার পৌরকাউন্সিলর রেজাউলকে হত্যাচেষ্টার নেপথ্যে কারা?

চকরিয়ার পৌরকাউন্সিলর রেজাউলকে হত্যাচেষ্টার নেপথ্যে কারা?

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে পরপর দুইবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। কাউন্সিলর হিসেবে দুইবার দায়িত্ব পালনকালীন পুরো ওয়ার্ডে তিনি অভুতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। পৌর মেয়র আলমগীর চৌধুরীর সুদৃষ্টিতে থাকায় সড়ক যোগাযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়ক বাতি স্থাপনসহ ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ হয় এখানে।

দুই নম্বর ওয়ার্ডের সচেতন নাগরিকরা দাবি করেছেন, পরপর দুইবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে রেজাউল পুরো ওয়ার্ডে অভুতপূর্ব উন্নয়ন করেন। কিন্তু তার এই উন্নয়নমূখী তৎপরতাকে ভাল চোখে দেখেননি নিজ দল আওয়ামী লীগের একটি অংশ। প্রতিনিয়ত রেজাউলকে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে দেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন ওই অংশটি। যারা রেজাউলকে বিতর্কিত করতে স্থানীয়ভাবে তৎপর ছিলেন তাদের সিংহভাগই মুলত দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী। ওই অনুপ্রবেশকারীদের দু’একজন আগামী পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করার জন্য ইতোমধ্যে এলাকায় প্রচারও চালাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে যারা নির্বাচন করার জন্য তৎপর হয়েছেন, তারা রেজাউলের জনপ্রিয়তার কাছে একেবারেই তুচ্ছ। সেই বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই রেজাউলকে হত্যার ছক করা হয়। আর এতে দলের এক সিনিয়র নেতারও ইন্ধন রয়েছে। তবে হামলার সময় কিরিচের কোপ প্রতিহত করতে পারায় প্রাণে বাঁচলেও অনেকটা বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো অবস্থা হয় ডান হাতের।’

কাউন্সিলর রেজাউল করিমের বড় ভাই কামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক সিনিয়র নেতার হাত ধরে দলের মধ্যে অনুপ্রবেশ ঘটে বিএনপি-জামায়াত ঘরানার অনেকের। তাদের ব্যবহার করেই মুলত তার ভাই কাউন্সিলর রেজাউলকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। যাতে অনুপ্রবেশকারীদের ভবিষ্যতের পথ সুগম হয়। তাছাড়া ওই সিনিয়র নেতার সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল রেজাউলের। সেই বিরোধের জেরে সুযোগের সদ্ব্যবহার করা হয়েছে রেজাউলের ওপর হামলার ইন্ধন দিয়ে।

কামাল অভিযোগ করেন, দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীদের সাথে বেশ সখ্যতা রয়েছে হামলাকারী বিএনপি নেতা কফিল উদ্দিনের। এ কারণে দিনদুপুরে ধারালো কিরিচ হাতে জনসম্মুখে নৃশংসভাবে এই হামলা চালিয়েছে কফিল। হামলার বেশ কয়েকদিন আগে থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সেই ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল সন্ত্রাসী কফিল। কথায় কথায় পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও বাধা দিচ্ছিল বিএনপি কর্মী কফিল।

এ ব্যাপারে চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘দলের জনপ্রিয় পৌর কাউন্সিলর রেজাউল করিমের ওপর নৃশংসতার পেছনে দলের কারো ইন্ধন থাকতে পারে বলে গুঞ্জন উঠেছে। তাই এই হামলার নেপথ্যে কারা তাদের শণাক্তপূর্বক দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেয়া হবে। এজন্য ইতোমধ্যে পৌর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।’

চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘এই ধরণের হামলা খুবই ন্যাক্কারজনক। তাই পেছন থেকে যারাই এই হামলার পেছন ইন্ধন দিয়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। তা না হলে কাউন্সিলর রেজাউল হত্যাচেষ্টার রহস্য উম্মোচন হবে না।’

মেয়র বলেন, ‘কাউন্সিলর রেজাউল ও তার ভাইপো মিঠুকে ঢাকার পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে দুইজনের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও এখনো শঙ্কামুক্ত বলা যাবে না রেজাউলকে।’

কাউন্সিলর রেজাউলকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার থানায় মামলা, গ্রেপ্তার ২
এদিকে জনপ্রিয় কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে হামলা চালানোর ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করেছেন রেজাউলের বড় ভাই কামাল উদ্দিন। শুক্রবার রাতে দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামী বিএনপি ক্যাডার কফিল উদ্দিন ও তার ভাই সাহাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হালকাকারা মৌলভীর চর গ্রামের মো. বাদশা ওরফে টেক বাদশার ছেলে। তন্মধ্যে কফিল ওয়ার্ড বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর কাউন্সিলর মো. রেজাউল করিম ও তার ভাইপো সাইদুল হক মিঠুর উপর হামলার ঘটনায় চারজনকে আসামী করে এজাহার দিলে মামলা রুজু করা হয়। মামলাটি তদন্তভার দেয়া হয় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রিয় লাল ঘোষকে।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, হামলার পরপরই জনতার সহায়তায় আহত অবস্থায় সন্ত্রাসী কফিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় কফিলের বড় ভাই সাহাবউদ্দিনকে।
দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!