‘ইয়াবা’তেই জড়িয়ে আছে উখিয়া যুবলীগ!

‘ইয়াবা’তেই জড়িয়ে আছে উখিয়া যুবলীগ!

মহিউদ্দিন মাহী, প্রধান প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

মরণব্যাধি করোনার মাঝেও যেন থেমে নেই মরণনেশা ইয়াবা পাচার ও কেনা-বিক্রি। আর এই ইয়াবা বিক্রিতে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে রাজনৈতিক সংগঠনের পদবী। এই অপকর্মে উখিয়া উপজেলা যুবলীগের একের পর এক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ইয়াবার সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে এসেছে। অনেক সময় এই উপজেলার পদবীধারি নেতা-কর্মী ধরাও পড়েছেন আইনপ্রয়োগকারি সংস্থার কাছে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, এমনকি উপজেলা যুবলীগের নেতারাও বড় বড় ইয়াবার চালান নিয়ে ধরা পড়ছেন। আর উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মুজিবুল হক আজাদের ইয়াবা সেবনের দৃশ্য সারাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচিত হয়েছে। সর্বশেষ র‍্যাবের হাতে ১০ হাজার ইয়াবাসহ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার ইয়াবাসহ আটকের ঘটনায় উখিয়া যুবলীগের ভাবমূর্তি চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

উখিয়া উপজেলা যুবলীগের নেতারা একের পর এক ইয়াবা নিয়ে আটকের ঘটনায় উখিয়া যুবলীগের কর্মকান্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দলের পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটিয়ে উখিয়ার যুবলীগের নেতারা ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন বলেও স্থানীয়রা দাবি করছেন।

গত ১৩ জুলাই কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক ও পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আবছারকে ১০ হাজার ইয়াবাসহ র‍্যাব গ্রেপ্তার করে। উখিয়ার বালুখালী পূর্ব পাড়ায় আবছারের বাড়ির সামনে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ছয় লাখ টাকার স্বাক্ষরিত ব্যাংক চেক, ব্ল্যাংক চেক, ৩টি এটিএম কার্ড, স্বাক্ষরিত ২টি চেকসহ যুবলীগ নেতা নুরুল আবছার মেম্বারকে সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটলিয়ন (র‌্যাব) কক্সবাজারস্থ ১৫ ব্যাটালিয়ন।

কক্সবাজারস্থ র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার (সহকারী পরিচালক) আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী জানিয়েছেন, আবছার মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করার কথা স্বীকার করেছে। তার একটি বিশাল ইয়াবা সিন্ডিকেট রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া আবছার মেম্বারকে আশ্রয় দিয়ে আসছিলেন। উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেনের ছত্রছায়ায় থেকে আবছার দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছিল।

উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি হানিফ ছিদ্দিকীকে (৪০) ইয়াবা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগ নেতা উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের পূর্ব ডিগলিয়া পালং গ্রামের মৃত আবু ছিদ্দিকের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার ইয়াবা গডফাদার ছৈয়দ আলমের সঙ্গে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এ ব্যাপার উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক প্রভাত কুমার কর্মকার জানান, তাকে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকায় রাজাপালং ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হানিফ সিদ্দিকিকে র‌্যাব-১৫ সদস্যরা গ্রেপ্তার করে।

জানা গেছে, কিছুদিন আগে উখিয়ার পূর্ব ডিগলিয়া পালং এলাকায় র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ২২ হাজার ইয়াবা নিয়ে সৈয়দ আলমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। সেই ইয়াবা মামলায় ওই যুবলীগ নেতা হানিফকে পলাতক আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়।

উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়ন যুবলীগ কমিটির আহবায়ক ফজল কাদেরও একজন শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার। বিজিবি ও পুলিশের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী ফজল কাদের। একাধিক ইয়াবা পাচারের মামলার আসামি এই যুবলীগ নেতা।

উখিয়ায় পালংখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল হক ফয়েজ ২০ হাজার ইয়াবাসহ উখিয়া থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। এ সময় দুইটি মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়। ফয়েজের বিরুদ্ধে ইয়াবার পাশাপাশি অস্ত্র ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে বলে জানা যায়।

ইয়াবাসহ পালংখালী যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পরে তোলপাড় সৃষ্টি হলে সেই কমিটি বাতিল করা হয়েছিল।

রাজাপালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি কুতুপালং এর নুর মোহাম্মদ মিজান ২০ হাজার ইয়াবাসহ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

হলদিয়া পালং ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা ইয়াবা পাচারে জড়িত। তার বিরুদ্ধেও ইয়াবার মামলা আছে। এছাড়া উপজেলা যুবলীগ নেতা অহিদুল হক চৌধুরী, সোনার পাড়ার মিজানুর রহমান, হলদিয়ার জাহাঙ্গীর চৌধুরীসহ যুবলীগের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ আছে।

উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মুজিবুল হক আজাদের ইয়াবা আসক্ত হওয়ার ছবি নিয়েও বিব্রত যুবলীগ। ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে তার আসক্তির ঘটনায় বিব্রত উখিয়ার আওয়ামী পরিবার।

এসব বিষয় কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুরের নজরে আনা হলে তিনি কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে জানান, যুবলীগের পদবীধারি কেউ অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অনৈতিক ব্যবসা করে থাকলে তাদের সাংগঠনিক ভাবে তদন্ত করা হয়। যদি ওই তদন্তে জড়িত প্রমাণ হয় তাদের বহিস্কার করা হয়ে থাকে। এছাড়াও উপজেলার নেতাকর্মীদের কোন অভিযোগ উঠলেই সে উপজেলা থেকেই রিপোর্ট নেয়া হয়।

উপজেলার দায়িত্বরত শীর্ষ পর্যায়ের নেতা যদি ওই অভিযোগেই অভিযুক্ত থাকেন সেক্ষেত্রে জেলা কমিটিকে দেয়া সেই রিপোর্ট কতোটুকু সচ্ছতা থাকবে?, এমন প্রশ্নের জবাবে সোহেল আহমদ বাহাদুর বলেন, উপজেলা থেকে তৈরি করা ‘রিপোর্ট’ গ্রহণযোগ্য হলেই তবে গ্রহণ করবে জেলা কমিটি। নয়তো জেলা থেকেই পুনঃতদন্ত শুরু হয়।

সোহেল আহমদ বাহাদুর সমস্যার কথা জানিয়ে বলেন, কক্সবাজার জেলা যুবলীগের কমিটি এখনও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। সভাপতি-সম্পাদক ছাড়া কেউ নেই। এই কারণেই ইচ্ছে করলেই কমিটি ভাঙতে কিংবা অনুমোদন দিতে পারছি না। ওই কারণেই সাংগঠনিক কোন ব্যবস্থা নিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।

সোহেল আহমদ বাহাদুর মনে করেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই সময়ে যুবলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর সত্য, মিথ্যা অভিযোগ উঠে আসছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!