চারদিকে শুধুই পানি, ফাঁকা পড়ে আছে ভোটকেন্দ্র

চারদিকে শুধুই পানি, ফাঁকা পড়ে আছে ভোটকেন্দ্র

চারধারে পানি আর পানি। মাঝে কুড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর এই আশ্রয়কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় ১৬টি ভোটকেন্দ্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ভোটের দিন সকালে দুর্গম চর কামালপুরে দুইটি কেন্দ্র স্থানান্তর করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, ভোটে আগ্রহ নেই কারও। নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় চড়ে দু’একজন ভোটকেন্দ্রে এলেও সাড়া নেই তেমন কারো মাঝে। কুড়িপাড়া ভোটকেন্দ্রে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ১৪০টি। ওই কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৭৯ জন। যমুনার পাশের এই নির্বাচনী এলাকায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোটকেন্দ্র স্থানান্তর করা হয়েছে।

বগুড়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুর আলম শাহ জানান, যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সারিয়াকান্দির ১১টি ভোটকেন্দ্র এবং সোনাতলার ৩টি ভোটকেন্দ্র স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভোটের দিন সকালে কামালপুরের পূর্ব নির্ধারিত আরো দুইটি কেন্দ্র স্থানান্তর করা হয়।

তিনি বলেন, বন্যার কারণে ভোটকেন্দ্র সরানো হয়েছে। ভোটাররা কিভাবে আসবেন সেটা তাদের ঠিক করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সারিয়াকান্দির হাট ফুলবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোটারদের উপস্থিতি তেমন একটা নেই। সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর আড়াই ঘণ্টায় ভোট পড়েছে মাত্র ১৮০টি। অথচ এই কেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন ৩ হাজারের কাছাকাছি।

ভোট দিতে আসা কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, ভোট দিতে উৎসাহ কম। তার বাড়ি পানিতে ডুবে রয়েছে। বাড়ির ৫ জন সদস্যের অন্য কেউ ভোটকেন্দ্রে আসেনি।

লাইনে দাঁড়ানো আমিনুল নামের এক যুবকের মুখে মাস্ক ছিল না। জানতে চাইলে বলেন, তড়িঘড়ি করে এসেছি। মাস্ক পরার সময় পাইনি।

লাইলী বেগম নামের একজন বললেন, আমার বাড়িতে ছোট বাচ্চা অসুস্থ। ভোট দিতে আসতে চাইনি। তারপরও চেয়ারম্যানের লোকজনের পিড়াপিড়িতে ভোটকেন্দ্রে এসেছি।

সারিয়াকান্দির রামনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে একেবারেই ফাঁকা। ওই কেন্দ্রে বেলা ১১টা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়া আর কাউকে দেখা যায়নি।

বন্যা ও করোনা ভাইরাসের মধ্যেই বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। বগুড়া-১ আসনে সংসদ উপনির্বাচনে এমপি পদে এবার ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী প্রয়াত সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের সহধর্মিণী ও সারিয়কান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান (নৌকা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী অধ্যক্ষ মোকছেদুল আলম (লাঙ্গল), প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টির মো. রনি (বাঘ), খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী প্রভাষক নজরুল ইসলাম (বটগাছ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ (ট্রাক)।

এছাড়া বিএনপি প্রার্থী একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির (ধানের শীষ) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ব্যালটে এই প্রতীকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ১৮ জানুয়ারি সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে বগুড়া-১ আসন শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরপর উপ-নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয় ২৯ মার্চ। করোনার কারণে সেই তারিখে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়ে আবারও তারিখ নির্ধারণ হয়। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ১৮০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করার নিয়ম থাকায় ১৪ জুলাই ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে বগুড়া-১ আসনে।

বগুড়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম শাহ জানান, সারিয়াকান্দি উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৫২ জন এবং সোনাতলা উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬৬ জন। বগুড়া-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩০ হাজার ৯১৮ জন। বগুড়া-১ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২৩টি। ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে ৯৬টি। প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন ১৮ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে রয়েছেন ১৯ জন করে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!