কমিউনিটি পুলিশ সদস্যের ‘কান কাটা’ মামলার মূলহোতা

অবশেষে পিএমখালীর ‘কেতা মালেক’ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার সদর উপজেলাধীন পিএমখালী ইউনিয়নের কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারন সম্পাদক নুরুল আলমসহ পরিবারকে ৪ সদস্যকে হত্যাচেষ্টার মামলায় অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন আব্দুল মালেক ওরফে কেতা মালেক।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলােই) রাত ৯টার দিকে পিএমখালীর চেরাংঘাটা বাজার থেকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ উল্লাহর নেতেৃত্বে চৌকস একটি টিম তাকে গ্রেপ্তার করে।

গত ২৬ মার্চ দিবাগত রাত ১টার দিকে সদরের পিএমখালী ইউনিয়নের মাছুয়াখালী বাজার পাড়ায় আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসিরা নুরুল আলম নামের ওই কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যের কান কেটে দেয়।

আব্দুল মালেক গ্রেপ্তার হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান কবির।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন এলাকায় সন্ত্রাসি কার্যক্রম ও ভূমিদস্যুতা করে আসছিলেন ওই এলাকার চিহ্নিত কিছু সন্ত্রাসি। প্রায় সময় আইনশৃঙ্খলা বিগ্ন ঘটে এমন ঘটনায় এলাকায় বাধা দিতেন নুরুল আলম। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে তার বাড়ির পাশে শাহআলম নামের এক প্রবাসির বাড়িতে ডাকাতি করতে যায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসি। ওই সময় বাড়ি থেকে নেমে ডাকাতির শিকার বাড়িতে গেলে ডাকাতদল অতর্কিত ভাবে নুরুল আলমকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। ওই সময় প্রবাসি শাহআলমের দরজা-জানালা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে ফেলে সন্ত্রাসিরা। পুরুষ শূন্য ওই প্রবাসীর বাড়িতে সন্ত্রাসিদের বাধা দিলে নুরুল আলমসহ তার পরিবারের সদস্যদের লম্বা কিরিচ, ধারালো দা ও বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এক পর্যায়ে নুরুল আলমের মাথায় আঘাত করলে তা ডান কানে এসে পড়ে। ওই সময় সন্ত্রাসিদের আঘাতে ডান কান ছিড়ে গিয়ে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যান নুরুল আলম।

ওই ঘটনায় তার পরিবার এগিয়ে আসলে ছোট বোন নুরুন নাহার (২৫) ও তার মা মোতাহেরা বেগম, ছোট ভাই নুরুল হাকিমকেও (২০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে সন্ত্রাসিরা। এই ঘটনার পর প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।

ওই সময় গুরুতর আহত নুরুল বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ১১ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-জিআর-২৯৬/২০২০। ওই মামলাতেই গ্রেপ্তার হয়েছেন আব্দুল মালেক ওরফে কেতা মালেক।

ওই মামলায় অন্য আসামিরা হলেন পোকপাড়া এলাকার মাহমুদুর রহমানের ছেলে মৌলভী মুজিব ওরফে লম্বা মুজিব (৫০), কাটালিয়া মোড়া এলাকার মৃত শফিউল আলমের ছেলে আবু তাহের (৪০), মাইজ পাড়া এলাকার কবির আহমদের ছেলে কলিম উল্লাহ (২৭), মৃত শফিউল আলমের ছেলে মতিউর রহমান (২৫), চৌধুরী পাড়া এলাকার মৃত ফজল আহমদের ছেলে মোঃ মঞ্জুর (২৮), ঘোনার পাড়া এলাকার মনির আহমদের ছেলে ওসমান (২৮), শফিউল আলমের ছেলে শেকু (৩৫), আজহার (২৪), মাইজ পাড়া এলাকার মৃত ফোরকানের ছেলে খোরশেদ (২৩), সাইফুলসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসি।

সূত্র মতে, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলমের মামলার অন্য আসামিরা কক্সবাজার সদর মডেল থানার একাধিক মামলারও আসামি। ওই মামলা গুলো হলো জিআর ২৮০/১১, জিআর ১৯৬/০২, জিআর ২৩৮/০১, জিআর ১৪৯/১১, জিআর ৭৮/০২, জিআর ৪৭৭/০২, জিআর ২৫৩/০৯, জিআর ৩৫১/০১ জিআর ৫৯৭/১১, জিআর ২৯৬/২০, এসটি ১৯২/০৩ ও এসটি ২৫৫/১৩।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!