টেকনাফে পশুর হাটে উঠছে ‘মেসি’ ও ‘বস’, দাম ১২ লাখ

টেকনাফে পশুর হাটে উঠছে ‘মেসি’ ও ‘বস’, দাম ১২ লাখ

নুরুল হক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে টেকনাফে পশুর হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত ‘মেসি’ ও ‘বস’। তবে ‘মেসি’ কোরবানির জন্য বিক্রি করতে তোলা ষাঁড়। ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য ৮ ফুট, উচ্চতা ৫ ফুট। ওজন ১৪ মণ। কালো আর সাদা রঙের স্বাস্থ্যবান ষাঁড়টির নাম বিক্রির জন্য দেয়া হয় ‘মেসি’। শুধু ‘মেসি’ নয়, বিক্রি হবে ‘বস’ও। পুরো শরীর লাল রঙের। তবে লেজের মাথা ও পেছনের দুই পা সামান্য সাদা রঙের। নাম তার ‘বিগবস’, ডাক নাম ‘বস’। এই ‘বসে’র ওজন ১২ মণ। ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে ‘মেসি’ ও ‘বস’ নামে গরু দুইটি। অনেকে ধারণা করছেন, এই গরু দু’টি সীমান্তের খামারী গরুদের মধ্যে সবার উপরে থাকবে!

টেকনাফ পৌরসভার খায়ুকখালী পাড়ার খামারি মো. আহমেদের খামারে এই ষাঁড় গরু দু’টির দেখা মিলে। কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে দেশী ও অস্ট্রেলিয়ান জাতের গরুগুলো দেশীয় পদ্ধতিতে খামারে মোটাতাজা করেছেন তিনি। এছাড়া তার আরও ৪টি মহিষ ও গরু রয়েছে।

খামারি মো. আহমেদ কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘মেসি’ খুব শান্ত স্বভাবের গরু। কারও দিকে তেড়েও আসে না। ৮ বছর ধরে আমি গরু খামারী করছি। গত দুইবছর আগে ২ লাখ টাকা দামে এটি কিনি। একই সময় লাল রঙের ‘বস’ নামে দেশীয় জাতের গরুটি দেড় লাখ দামে কিনেছি। তারপর থেকে গরু দু’টি লালন পালন ও দেশীয় খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করি। ইতোমধ্যে এক ব্যবসায়ী ‘মেসি’ পাঁচ লাখ এবং ‘বস’কে ৪ লাখ টাকা চেয়েছেন। তবে গরু দু’টি ১২ লাখ টাকা দামে ছাড়বেন।

আহমেদ জানান, প্রতিদিন দুই বেলায় দশ কেজি খাবার খায় গরু দুটি। এর মধ্যে গমের ভূষি, ধানের গুড়া, ভুট্টা, শুকনো খড় ও কাঁচা ঘাস, মাঝে মধ্যে ভাতও খায়। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকার খাদ্য লাগে ‘মেসি’ ও ‘বসে’র। কোনো ধরণের মেডিসিন ব্যবহার করা হয়নি। তবে প্রাণী সম্পদ অফিসের পরার্মশ নেন। এবারে কোরবানির বাজারে ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচ পশু বিক্রি করতে তোলা হবে। তার মধ্যে একটি মহিষ রয়েছে। যার ওজন প্রায় ৫’শ কেজি।

‘মেসি’ ও ‘বস’ এর খবর পেয়ে প্রতিদিনই লোকজন দেখতে ভিড় করছেন। গরু দেখতে আসা মো. ফিরোজ বলেন, বড় আকৃতির গরুর কথা শুনে দেখার আগ্রহ হয়েছিল। তাই দেখতে আসছি। আমি অনেক খামারীতে খবর নিয়েছি এত বড় আকারের গরু আর নেই।

টেকনাফে পশুর হাটে উঠছে ‘মেসি’ ও ‘বস’, দাম ১২ লাখ

পল্লান পাড়ার আরেক খামারী মো: ওসমান কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘কোরবানির বাজারে বিক্রির অপেক্ষায় এবার খামারে ১৫ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রকারের গরু রয়েছে। কিন্তু করোনায় দুশ্চিন্তায় রয়েছি। কেননা, করোনা ও সাধারণ মানুষের পকেটে টাকা না থাকার কারণে এবার সারাদেশের পশুরহাট গুলোতে পশুও কম থাকবে। সেই সঙ্গে ক্রেতাও কম থাকবে। কারণ, করোনার কারণে অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা হাটে যাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। আবার আর্থিক অক্ষমতার কারণে পশু কেনার চিন্তাই করবেন না অনেকে। ফলে লোকসানও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় জানায়, টেকনাফ উপজেলায় দেড়শতাধিক খামারি রয়েছেন। তবে তার মধ্যে বড় খামারিদের সংখ্যা ৬৭ জন। এ সকল খামারিতে সাড়ে ৮ হাজার গরু, মহিষ ও ছাগল মজুদ রয়েছে। যা কোরবানির হাটে তোলা হবে। তাছাড়া এই উপজেলায় সাড়ে ৬ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের হিসাবে ধরা হলে এক হাজার কোরবানির পশুর সংকট থাকবে।

জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. শওকত আলী কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী টেকনাফে কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের জন্য পশু নিলে হাজারের মতো পশু সংকট থাকবে। তাছাড়া কারোনাভাইরাসের কারণে অনেক মানুষের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এবার খামারীরা গরু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন।’

তিনি বলেন, সবাই বড় আকৃতির গরু কিনতে পারেন না। অনেক সময় বিক্রি না হলে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্থ হন। তারপরও প্রাণী সম্পদ বিভাগ খামারিদের পাশে আছে। ওই খামারিদের গরুগুলো আমরা দেখেছি। সেটি সুস্থ, সবল আছে। আশা করছি, তিনি কাঙ্খিত দামে গরুটি বিক্রি করতে পারবেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!