টেকনাফ স্থলবন্দরে মিলল ১৬১ কোটি টাকা রাজস্ব, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ কোটি বেশি

টেকনাফ স্থলবন্দরে মিলল ১৬১ কোটি টাকা রাজস্ব, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ কোটি বেশি

নুরুল হক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

করোনার প্রভাবের মাঝেও কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। এই অর্থবছরে ১৬১ কোটি ১০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার রাজস্ব আদায় হয় বলে জানিয়েছে শুল্ক বিভাগ। এছাড়া আগের অর্থবছরে আদায় হয়েছিল ১৭৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

এদিকে করোনা ভাইরাসের প্রভাব, দু’দেশে নানান সমস্যা ও মাদকের বিরূপ প্রভাব সত্বেও পণ্য আমদানি হওয়ায় রাজস্ব আদায় বেশি হয় বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

টেকনাফ স্থলবন্দর শুল্ক কর্মকর্তা আবছার উদ্দীন কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরের (জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত) মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি করে ১৬১ কোটি ১০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার রাজস্ব আদায় হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক এই বছর ১৫০ কোটি ৯ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ কোটি ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে মিয়ানমার থেকে হিমায়িত মাছ, শুটকী, সুপারি, কাঠ, আচার, ক্যালসিয়াম, তেতুঁল, বড়ই, হলুদ, তৈরি পোশাক, মুলি বাঁশ, বেঁত, আদা, ধনিয়া, সেন্ডেল, গরু, মহিষ, ছাগল ইত্যাদি আমদানি হয়।

অপরদিকে একই অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৩৬ কোটি ৬৯ লাখ ৬ হাজার টাকার পণ্য মিয়ানমারে রপ্তানি হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ২১ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার টাকার পণ্য। তবে আগের অর্থবছরের চেয়ে রপ্তানি বাড়লেও সীমান্ত বাণিজ্যে পণ্য আমদানির তুলনায় রপ্তানি হয় অনেক কম। যার ফলে আমদানি ও রপ্তানির বৈষম্য দিন দিন বেড়েই চলছে। এই বৈষম্য দূরীকরণের কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। মিয়ানমারে দেশীয় পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি করতে না পারলে রপ্তানির এই দশা লেগে থাকবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

তবে বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস কাপড় ও গেঞ্জি, চুল, টেক্সটাইল জুট, ফেয়ার এন্ড লাভলী, গরুর নারিবুড়ি, অক্স পেনিস, এলমুনিয়াম সামগ্রী, প্লাষ্টিক পণ্য, টিউবওয়েল, গাজী ট্যাংক, বিস্কিট, চিপস, আলকাতরা, তেলকম পাউডার, পলিথিনের রোল পাম, সফ্ট ড্রিং, ষ্টীলের রান্না ঘরের জিনিসপত্র, বোরকা, সেমাই ইত্যাদি রপ্তানি হয়।

শুল্ক কর্মকর্তা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে গত কয়েকমাস ধরে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে প্রভাব পড়েছিল। করোনার কারণে দেশে সাধারণ ছুটি চললেও শুধুমাত্র নিত্যপণ্য আমদানির লক্ষ্যে সীমিত আকারে বন্দর চালু রাখা হলেও এ সময় পণ্য আমদানি তেমন হয়নি। তার পরও শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টা, নিরলস পরিশ্রম ও পণ্যের সঠিক নিরীক্ষায় রাজস্বের টার্গেটের চেয়ে অতিরিক্ত আদায় করা সম্ভব হয়েছে। তবে মিয়ানমারে দেশীয় পণ্য রপ্তানিও আগের চেয়ে বাড়ছে। সীমান্ত বাণিজ্যকে গতিশীল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সীমান্ত বাণিজ্য ব্যবসায়ীরা বলেন, বাণিজ্য ব্যবসায় সুষ্টু পরিবেশ বিরাজ করছে না। তাদের নানা সমস্যা পৌহাতে হচ্ছে। বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি-রপ্তানি ক্ষেত্রে নানা সমস্যা লেগে আছে । মিয়ানমার পণ্য আমদানিতে যেমন সমস্যা, তেমনি দেশীয় পণ্য রপ্তানিতেও হয়রানি রয়েছে। তবে ডলারের মাধ্যমে পণ আমদানি রপ্তানি হয়ে থাকে। তাছাড়া এলসির ব্যবস্থা না থাকায় সীমান্ত বাণিজ্যের পণ্যের টাকা নিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাণিজ্য ব্যবসায় পরিবেশ না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী এই বন্দর ছেড়ে অন্য বন্দরে চলে গেছেন। বাণিজ্য ব্যবসার সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ব্যাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!