পিএমখালীতে মানুষের ঘুম হারাম করেছে ‘তাহের-মতি বাহিনী’!

পিএমখালীতে মানুষের ঘুম হারাম করেছে ‘তাহের-মতি বাহিনী’!

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের ঘুম হারাম করে দিয়েছে ‘তাহের-মতি বাহিনী’। তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন এলাকার নিরীহ সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সামান্য কারণেই তারা মানুষকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়, বিচারের নামে ব্যবসা, জায়গা দখলসহ নানা অপরাধমুলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় এক ডজন মামলা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না বলেও সাধারণ মানুষের অভিযোগ।

স্থানীয়দের মতে, ‘তাহের-মতি’র রয়েছে সংঘবদ্ধ বিশাল বাহিনী। সরকারি জমি দখল, নদী দখলসহ নানা কারণে এলাকায় ‘ত্রাস’ হিসাবে পরিচিত এই চক্রের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ সুত্র মতে, গত মাসে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট হাবিবুর রহমানের বড় ভাইয়ের বাড়িতে হামলার ঘটনা শেষ হতে না হতেই গত ৪ জুলাই পিএমখালীর নুর মোহাাম্মদ চৌধুরী বাজারে প্রকাশ্যে ওই বাহিনীর লোহার রড, হাতুড়ি ও অস্ত্রের আঘাতে মৃতপ্রায় ধাওনখালীর মৌলভী কবির আহমদের ছেলে হুমায়ুন। পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করে হুমায়ুনকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে যায়। পরে ওই বাহিনীর সদস্যরা হুমায়ুনের মোটর সাইকেল, টাকা, মোবাইল নিয়ে গুলিবর্ষণ ও উল্লাস করতে করতে চলে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসির মতে, ‘তাহের-মতি বাহিনী’র প্রভাব এতই যে, প্রায় এক ঘন্টা প্রকাশ্যে বাজারে হুমায়ুনকে মারধর করলেও ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন হুমায়ুন সাংবাদিকদের জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মাছুয়াখালী নছরত আলী পাড়ার শফিউল আলমের ছেলে তাহের, মতিউল ইসলাম মতি, আজু, সাইুল, শেখাউল, একই গ্রুপের উসমান, ‘ভাড়াটে সন্ত্রাসি’ আশেক, বাড়ি সিরাজের ছেলেসহ ১২/১৪ জন তার উপর হামলা চালায়।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সুত্র মতে, হুমায়ুনের হাত ভেঙ্গে গেছে। সোমবার তার হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

অপরদিকে পিএমখালীর সন্ত্রাসি গ্রুপ ‘তাহের-মতি বাহিনী’র সদস্যদের বিরুদ্ধে ৫টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়াও আরও ৬টিসহ ১১টি মামলা চলমান রয়েছে।

মামলা গুলোর মধ্যে আছে জিআর ২৮০/১১, জিআর ১৯৬/০২, ২৩৮/-১, ১৪৯/১১, ৭৮/০২, ৪৭৭/০২, ২৫৩/০৯, ৩৫১/-১, ৫৯৭/১১, ২৯৬/২০। এছাড়া এসটি মামলার মধ্যে আছে ১৯২/৩, ২৫৫/১৩ ইংরেজি।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!