‘সাইবার পুলিশ স্টেশন’ করার প্রস্তাব সিআইডির

সাইবার অপরাধ দমনে ও ভিকটিমদের ন্যায় বিচার নিশ্চিতে দেশে ‘সাইবার পুলিশ স্টেশন’ করার প্রস্তাব দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীতে একটি সাইবার পুলিশ স্টেশন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখানে সারাদেশের মানুষ অভিযোগ করতে পারবেন। সিআইডি এসব অভিযোগ তদন্ত করবে। সোমবার ( ৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য দিয়েছেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মাহবুবুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘সাইবার পুলিশ স্টেশন করার একটি প্রস্তাব আমরা সরকারের কাছে দিয়েছি। আশা করছি দ্রুত এটি অনুমোদন পাবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাইবার পুলিশ স্টেশন রয়েছে। আমাদের দেশেও প্রয়োজন। কারণ সাইবার অপরাধ বাড়ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা ঢাকাতে একটি সাইবার পুলিশ স্টেশন করবো। এখানে সারাদেশ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত যে কেউ অভিযোগ দিতে পারবেন। আমাদের জেলা অফিসে সিআইডি কর্মকর্তারা রয়েছেন তাদের কাছেও অভিযোগ করতে পারবেন। সাইবার পুলিশ স্টেশনে করা অভিযোগগুলো আমরা কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত করবো।’
সিআইডির অভিযোগপত্রের ২৪ শতাংশ মামলায় আসামি সাজা পায়
সিআইডির দেওয়া অভিযোগপত্রের ২৪ শতাংশ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তাদের সাজা হয়। বাকি ৭৬ শতাংশ মামলা থেকে আসামিরা ছাড়া পেয়ে যায়। বিষয়টি সিআইডি প্রধান নিজেই সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা ৮২ শতাংশ মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দিতে পারি। এরমধ্যে ২৪ শতাংশ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়। তবে অনেকেই ছাড়া পাচ্ছে। আমরা এর কারণ জানার জন্যও গবেষণা করছি। আমাদের গ্যাপ কোথায় হয়েছে, সেগুলো জানার জন্য কাজ করছি। দেশের খ্যাতনামা আইনজীবী, সাবেক বিচারকরা এটা গবেষণা করছে। বিচারকার্য শেষ হয়েছে এমন মামলা নিয়ে তারা এখন কাজ করছে। আমরা গ্যাপটি বের করতে পারলে এ বিষয়েও পদক্ষেপ নিবো।’
তিনি বলেন, ‘তবে অভিযোগপত্র দেওয়ার গতিতে সিআইডি এগিয়ে আছে। কিছু মামলা তদন্তে এক বছর লেগে যায়, কিছু একমাস বা কিছু তারও বেশি। তবে অপ্রয়োজনে যাতে সময় নষ্ট না হয়, সেজন্য আমরা মামলার তদন্তে কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসছি ‘ বর্তমানে সিআইডির কাছে তদন্তাধীন তিন হাজার ৭৯৮৫ টি জিআর মামলা এবং ২ হাজার ১৩ টি সিআর মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পিয়নের অ্যাকাউন্টে ৩০ কোটি টাকা!
লিবিয়ায় মানব পাচারের ও হত্যার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে সিআইডি। তদন্ত সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ৩৬ জন পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে এমন একজন রয়েছে যে একটি ট্রাভেল এজেন্সির পিয়ন কিন্তু তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০-৩০ কোটি টাকা রয়েছে।
সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা তদন্ত করছি। শিগগিরই আমরা এর সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ করবো। আমরা সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত গডফাদারদের নাম পেয়েছি। তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাদের ভালো করে তথ্য উপাত্ত নিয়ে গ্রেফতার করতে চাই।’ তিনি বলেন, লিবিয়ায় বাংলাদেশের ২৬ জন নিহত হয়েছেন। ১১ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় ২৬টি মামলা হয়েছে। যার মধ্যে ১৫ টি মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!